ঢাকার বাতাস আজ ‘অস্বাস্থ্যকর’
প্রকাশ:

বিস্তারিত
বাড়ছে তাপমাত্রার পারদ। নেই বৃষ্টির দেখা। আজ ঢাকার বাতাসে দূষণ কেমন, চলুন জেনে নেই। বায়ুদূষণ দিন দিন বেড়েই চলেছে। দূষিত শহরের তালিকায় প্রায় সময় শীর্ষ ১০ শহরের মধ্যে অবস্থান করে রাজধানী ঢাকা।
আজ রবিবার (৮ মার্চ) বিশ্বের ১১৭টি শহরের মধ্যে বায়ুদূষণে ঢাকার অবস্থান ‘অস্বাস্থ্যকর’
সকাল ৯টার দিকে আন্তর্জাতিক বায়ুমান প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান আইকিউএয়ারের তথ্যানুযায়ী, বিশ্বে দূষিত শহরের তালিকায় শীর্ষে রয়েছে পাকিস্তানের লাহোর। এই শহরের বায়ুমানের স্কোর ২৮২, যা খুব অস্বাস্থ্যকর হিসেবে গণ্য করা হয়। দেশটির আরেকটি শহর করাচির অবস্থান অষ্টম। আর এই শহরের বায়ুমানের স্কোর ১৬৩।
এদিকে বিশ্বে দূষিত শহরের তালিকায় টানা দুদিন শীর্ষে থাকার পর গতকাল শনিবার বাংলাদেশের ঢাকার অবস্থান ছিল ষষ্ঠ। আজ শহরটির অবস্থার রয়েছে নবম। ঢাকার বায়ুমানের স্কোর ১৬১, যা অস্বাস্থ্যকর হিসেবে বিবেচিত হয়।
তালিকার দ্বিতীয় অবস্থানে আছে ভারতের দিল্লির স্কোর ২৪১, যা খুব অস্বাস্থ্যকর হিসেবে গণ্য করা হয়। দেশটির আরেকটি শহর কলকাতার অবস্থান আজ সপ্তম। শহরটির বায়ুমানের স্কোর ১৭১।
এছাড়া ১৮৯ স্কোর নিয়ে তালিকার তৃতীয় অবস্থানে নেপালের কাঠমান্ডু, ১৭৯ স্কোর নিয়ে চুর্থ অবস্থানে কঙ্গোর কিনশাসা, ১৭৪ স্কোর নিয়ে পঞ্চম অবস্থানে সেনেগালের ডাকার, ১৭১ স্কোর নিয়ে ষষ্ঠ অবস্থানে মিয়ারমারের ইয়াঙ্গুন, ১৫৭ স্কোর নিয়ে দশম অবস্থানে আছে চীনের বেলজিয়াম।
একিউআই স্কোর শূন্য থেকে ৫০ ভালো হিসেবে বিবেচিত হয়। ৫১ থেকে ১০০ মাঝারি হিসেবে গণ্য করা হয়, আর সংবেদনশীল গোষ্ঠীর জন্য অস্বাস্থ্যকর বিবেচিত হয় ১০১ থেকে ১৫০ স্কোর। স্কোর ১৫১ থেকে ২০০ হলে তাকে পরিবেশের জন্য ‘অস্বাস্থ্যকর’ বায়ু বলে মনে করা হয়।
২০১ থেকে ৩০০-এর মধ্যে থাকা একিউআই স্কোরকে ‘খুব অস্বাস্থ্যকর’ বলা হয়। এ অবস্থায় শিশু, প্রবীণ এবং অসুস্থ রোগীদের বাড়ির ভেতরে এবং অন্যদের বাড়ির বাইরের কার্যক্রম সীমাবদ্ধ রাখার পরামর্শ দেয়া হয়ে থাকে। এ ছাড়া ৩০১ থেকে ৪০০-এর মধ্যে থাকা একিউআই ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ বলে বিবেচিত হয়, যা নগরের বাসিন্দাদের জন্য গুরুতর স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করে।
তবে এই পরিস্থিতেও বাইরে বের না হয়ে উপায় নেই। ব্যস্ত জীবনে কাজের সূত্রে বা কোনো প্রয়োজনে নিত্যদিন যদি আপনাকে ঢাকার রাস্তায় চলাচল করতে হয়, কিছু আগাম সতর্কতা মানতে ভুলবেন না। বায়ুদূষণ থেকে রক্ষা পেতে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের ফুসফুসের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় নিয়োজিত সংস্থা আমেরিকান লাং অ্যাসোসিয়েশন কিছু সহজ ও কার্যকর উপায় বাতলে দিয়েছে। জেনে নিন সেসব।
১. প্রতিদিনের বায়ুদূষণের পূর্বাভাস দেখুন
বাইরে বের হওয়ার আগে আপনার এলাকায় দৈনিক বায়ুদূষণের পূর্বাভাস দেখে নিন। আইকিউএয়ারের ওয়েবসাইট থেকে সহজে তা দেখে নিতে পারবেন। পূর্বাভাস আপনাকে জানিয়ে দেবে বাতাস কখন স্বাস্থ্যকর নয়। এ ছাড়া বায়ুর মান সম্পর্কে তথ্য পেতে পত্রিকা, রেডিও ও টিভির আবহাওয়া প্রতিবেদনেও চোখ রাখতে পারেন।
২. দূষণ বেশি থাকলে বাইরে যাওয়া এড়িয়ে চলুন
যখন বাতাসের মান অত্যধিক খারাপ থাকে, তখন বাইরে যাওয়া পারতপক্ষে এড়িয়ে চলুন। যদি জিমে যাওয়ার থাকে বা শপিং করার দরকার হয়, চেষ্টা করুন বাড়িতে বসে করা যায় কি না বা অনলাইনে কাজটি সারা যায় কি না। বিশেষ করে শিশুদেরও দূষিত বাতাসে বাইরে খেলাধুলা বা ঘুরতে দেওয়া থেকে বিরত রাখা উচিত। একান্ত যেতেই হলে মুখে মাস্ক পরুন।
৩. জ্বালানিচালিত যানবাহন ব্যবহার সীমিত করুন
নাগরিক হিসেবে যার যার জায়গা থেকে সচেতন থাকার চেষ্টা করুন। বায়ুদূষণ কমাতে হলে সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টা প্রয়োজন। তাই এ সময় যতটা সম্ভব গাড়ির ব্যবহার সীমিত করুন। গণপরিবহন, যেমন বাস, রেল, মেট্রোরেল ব্যবহার করুন।
৪. কাঠ বা আবর্জনা পোড়ানো এড়িয়ে চলুন
জ্বালানির জন্য কাঠ বা আবর্জনা পোড়ানো অনেক অঞ্চলে বায়ুদূষণের প্রধান কারণগুলোর মধ্যে একটি। শীতকালে আমাদের দেশে কাঠ পুড়িয়ে আগুন পোহানো হয়। এটি বাতাসে ক্ষতিকর কণার পরিমাণ বাড়ায়, যা শ্বাসতন্ত্রের সমস্যা তৈরি করতে পারে। তাই যথাসম্ভব এটিও এড়িয়ে চলুন।
৫. ঘরের বাতাসের গুণগত মান নিশ্চিত করুন
শুধু বাইরেই নয়, ঘরের ভেতরের বায়ুমানও সুস্থতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। ঘরের বাতাস পরিষ্কার রাখতে বিভিন্ন বায়ু পরিশোধনকারী ইনডোর প্ল্যান্ট রাখতে পারেন। যেমন স্নেক প্ল্যান্ট, স্পাইডার প্ল্যান্ট ইত্যাদি।
৬. সর্বোপরি সচেতনতা বৃদ্ধি করুন
দূষণ কমাতে ও নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতে সচেতন নাগরিক হিসেবে আমাদের সবারই দায়িত্ব আছে। সরকারের সব স্তরের নীতিনির্ধারক যেন এ ব্যাপারে উদ্যোগী হয়, তার জন্য তাদের জবাবদিহির আওতায় এনে নিরাপদ পরিবেশ ও পরিষ্কার বাতাস নিশ্চিত করতে হবে।
সূত্র: আমেরিকান লাং অ্যাসোসিয়েশন







