শরীরের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ কিডনি রোগের চিকিৎসা এতটা ব্যয়বহুল যে, আশি শতাংশ রোগীই বিনা চিকিৎসায় মৃত্যুবরণ করিয়া থাকেন।
দেশে সাড়ে তিন কোটি মানুষ কিডনি রোগে আক্রান্ত এবং প্রতি বৎসর ত্রিশ হইতে চল্লিশ হাজার রোগীর কিডনি বিকল হইতেছে। কিডনি রোগীর নিয়মিত ডায়ালাইসিস, প্রয়োজনীয় ঔষধ এবং কিডনি প্রতিস্থাপন প্রভৃতি সকল কিছুতেই বড় অঙ্কের অর্থের প্রয়োজন হয়, যাহা সাধারণ মানুষ তো বটেই মধ্যবিত্ত পরিবারের জন্যও জোগাড় করা অসম্ভব হইয়া পড়ে।
সরকারি হাসপাতালে কিডনি চিকিৎসা কিছুটা সাশ্রয়ী হইলেও সেইখানে পর্যাপ্ত সেবা পাওয়া যায় না।
এই পরিস্থিতিতে সরকারের উচিত কিডনি রোগের চিকিৎসা ব্যবস্থাকে আরও বিস্তৃত ও সহজলভ্য করা। জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ে ডায়ালাইসিস সেন্টার বৃদ্ধি করা, সরকারি হাসপাতালে প্রয়োজনীয় মেশিন ও প্রশিক্ষিত জনবল নিশ্চিত করা এবং দরিদ্র রোগীদের জন্য ভর্তুকি বা বিশেষ সহায়তা চালু করা জরুরি। পাশাপাশি কিডনি প্রতিস্থাপন প্রক্রিয়া সহজ করা এবং অঙ্গদানের বিষয়ে জনসচেতনতা বৃদ্ধিও গুরুত্বপূর্ণ।
ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ, নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা এবং স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের মাধ্যমে কিডনি রোগের ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব। এই বিষয়ে গণসচেতনতা তৈরি করিতে সরকার, সংবাদমাধ্যম ও চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানসমূহের সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন।
স্বাস্থ্যকর জীবনপ্রণালি মানিয়া চলিতে নাগরিকদের উদ্বুদ্ধ করিতে হইবে। পাশাপাশি, কিডনি রোগ গভীর হইবার পূর্বেই উহার চিকিৎসা আরম্ভ করিতে হইবে। সেইজন্য নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষাও গুরুত্বপূর্ণ। মনে রাখিতে হইবে, কিডনি রোগ একবার হইয়া গেলে, উহা হইতে ফেরত আসা সম্ভব নহে।








