করোনাকালীনে বাংলাদেশে ভার্চুয়াল কোর্ট চালুকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার চিন্তার ফসল বলে জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক। গতকাল বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের নবনির্মিত ১২তলা ভবনের (বিজয়-৭১) উদ্বোধনীকালে তিনি এ কথা বলেন। গণভবন থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে বহুতল ভবনটির উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
আইনমন্ত্রী বলেন, করোনা অতিমারির সেই মহাআতঙ্কের সময়ে প্রধানমন্ত্রীর উৎসাহ ও দিক নির্দেশনা, সুপ্রিম কোর্টের নিরলস পরিশ্রম, আইনজীবীদের সহযোগিতা এবং ডিজিটাল বাংলাদেশের সুবিধাকে কাজে লাগিয়ে আমরা খুবই দ্রুত ভার্চুয়াল আদালত চালু করতে পেরেছিলাম। যা বিশ্বের অনেক বড় বড় ও উন্নত দেশ তখন পারেনি।
করোনার ব্যাপক সংক্রমণজনিত উদ্ভূত পরিস্থিতিতে আদালতেও সাধারণ ছুটি চলাকালীন ২০২০ সালের ২১ মে আদালত কর্তৃক তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে বিচারিক কার্যক্রম পরিচালনার ক্ষমতা দিয়ে অধ্যাদেশ জারি করে সরকার। ‘আদালত কর্তৃক তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার অধ্যাদেশ, ২০২০’ নামের ওই অধ্যাদেশে অডিও-ভিডিও বা অন্য কোনো ইলেকট্রনিক পদ্ধতিতে তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহারের মাধ্যমে বিচারকাজ পরিচালনা করা যাবে বলে জানানো হয়।
আনিসুল হক বলেন, কঠোর লকডাউনের দিনগুলোতে ভার্চুয়াল কোর্টে জামিন শুনানির ব্যবস্থা করার কারণেই জেলখানায় বন্দি আসামিদের অতিরিক্ত চাপ এবং করোনার ঝুঁকি এড়ানো সম্ভব হয়। প্রধানমন্ত্রীর ডিজিটাল বাংলাদেশের সুবিধাকে কাজে লাগিয়ে সুপ্রিম কোর্ট এখন (শারীরিক ও ভার্চুয়াল) উভয় পদ্ধতিতে সমান তালে আদালত পরিচালনার সক্ষমতা অর্জন করেছে বলে জানান আইনমন্ত্রী।
সুপ্রিম কোর্টের অনেক কাজই এখন ডিজিটাল পদ্ধতিতে সম্পাদন করা সম্ভব হচ্ছে জানিয়ে আইনমন্ত্রী বলেন, সামনে পুরো বিচার বিভাগকে ডিজিটালাইজড করার জন্য আমরা দুই হাজার ২০০ কোটি টাকার ই-জুডিসিয়ারি প্রকল্প গ্রহণ করতে যাচ্ছি। আশা করছি, এ প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে পুরো বিচার বিভাগের কর্মদক্ষতা কয়েকগুণ বেড়ে যাবে।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন প্রধান বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী, অ্যাটর্নি জেনারেল এ এম আমিন উদ্দিন, আইন সচিব মো. গোলাম সারওয়ার। এসময় সুপ্রিম কোর্টের আপিল ও হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি এবং আইনজীবীরা উপস্থিত ছিলেন।









