- স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ
নওগাঁর মান্দা-মহাদেবপুর উপজেলার সীমান্তবর্তী এলাকার ‘পাঁঠাকাটা-আয়াপুর’ খেয়াঘাটে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ উঠেছে ইজারাদার বিপ্লব কুমার হাওলাদারের বিরুদ্ধে। জেলা পরিষদের নির্ধারিত চার্ট উপেক্ষা করে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ে ব্যবসায়ীসহ স্থানীয়দের মাঝে ক্ষোভ বিরাজ করছে।
জানা যায়, ঘাট ইজারা নিয়ে পাঁঠাকাটা গ্রামের ইজারাদার বিপ্লব কুমার হাওলাদারের বড় ভাই নির্মল কুমার হাওলাদার এবং চকশ্রীকৃষ্ণ গ্রামের আতিকুর রহমান গ্রুপের মধ্যে বিরোধ চলে আসছিলো। এরই জের ধরে উভয় পক্ষের অভিযোগের প্রেক্ষিতে সংঘাত এড়াতে ভালাইন ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান আলহাজ্ব রফিকুল ইসলাম ও বর্তমান চেয়ারম্যান গোলাম মোস্তফার উপস্থিতিতে ঘাটের একটি নৌকা তাদের হেফাজতে নেয়া হয়েছে। তবে আতিকুর রহমান গ্রুপের লোকজনকে ফাঁসাতে বিষয়টিকে ভিন্নখাতে প্রবাহের চেষ্টা চলছে এমন অভিযোগ পাওয়া গেছে।
স্থানীয়রা জানান, মান্দা এবং মহাদেবপুর উপজেলার সীমান্তবর্তী এলাকার এপার-ওপার চলাচলের জন্য প্রাচীনতম ঐতিহ্যবাহী খেয়া ঘাটে ২০২২ সালেও বিভিন্ন অযুহাতে যাত্রী সাধারণ এর কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করে আসছে ঘাট কর্তৃপক্ষ। নৌকায় চড়ে আত্রাই নদী পারাপারে জনপ্রতি ১০ টাকা করে দিতে হচ্ছে।
এছাড়া প্রতিদিন এ খেয়াঘাট দিয়ে নৌকা যোগে দৈনিক ২০ হাজার যাত্রী সাধারণ পারাপার হয়। তাদের মধ্যে স্থানীয় ব্যবসায়ীসহ স্কুল কলেজের ছাত্র-ছাত্রী যাতায়াত করে থাকে এবং পাঁঠাকাটা বাজারে কৃষকরা তাদের বিভিন্ন কৃষিজাত পণ্য বাজারে নিয়ে যেতে হয় কেনা বেচা করতে। এছাড়াও নৌকাযোগে অনেক সময় পণ্যের ব্যাগসহ ছোট খাটো বস্তা প্রতি অধিক টাকা দিতে হয় ঘাট কর্তৃপক্ষকে।
ক্ষুব্দ কৃষকরা জানান, পাঁঠাকাটা বাজারে ১০ টাকা দামের কিছু বিক্রি করতে গেলে সেখানেও টাকা দিতে হয়। ঘাট কর্তৃপক্ষ অবৈধভাবে পেশি শক্তি ব্যবহার করে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে।
অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের বিষয়টি নজরে আসায় ইজারা নবায়ন করার নির্দেশ দেন কর্তৃপক্ষ এবং ভাড়ার তালিকা ঘাটে টাঙানোর নির্দেশ দেন। পাশাপাশি নতুন বছরে মাইকিং করে প্রচার-প্রচারণার মাধ্যমে সরকার নির্ধারিত রেটে নদী পারাপারে ভাড়া দেয়ার জন্য যাত্রী সাধারণকে আহবান জানান। কর্তৃপক্ষকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে পুনরায় অতিরিক্ত অর্থ আদায় শুরু করেন নতুন ইজারাদার বিপ্লব কুমার হাওলাদার। তার দাবি যে, অন্যান্য ঘাটে যেভাবে ভাড়া আদায় করছেন, তিনিও সেভাবে আদায় করছেন। সরকার কর্তৃক নির্ধারিত ভাড়ার অতিরিক্ত কোনো ভাড়া নেয়া হচ্ছে না।
এ বিষয়ে মান্দা উপজেলা নির্বাহী (ইউএনও) আবু বাক্কার সিদ্দিক বলেন, বিষয়টি অবগত নয়। তবে, এ বিষয় জেলা পরিষদের নির্বাহী কর্মকর্তাকে জানালে তারা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।
এ খেয়া ঘাটে অতিরিক্ত টোল আদায় বন্ধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করেছেন স্থানীয়রা।









