- হঠাৎ ভাঙনে ভোগান্তি-অর্থনৈতিক সংকট
- জিওব্যাগ ফেলে ভাঙন ঠেকানোর চেষ্টায় বিআইডব্লিইটিএ
হঠাৎ করে পদ্মা নদীতে পানি বৃদ্ধির ফলে তীব্র স্রোত দেখা দিয়েছে রাজবাড়ী জেলার দৌলতদিয়া ফেরিঘাট এলাকায়। ইতোমধ্যে ৫নং ফেরিঘাটটি ভাঙনের কবলে পরে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তীব্র স্রোতে ঘাটের শতাধিক মিটার নদী গর্ভে চলে গেছে। ঘাট ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় ৭টি ফেরিঘাটের মধ্যে ৩টি বর্তমানে বন্ধ রয়েছে। ফেরিঘাট রক্ষায় নদীপাড়ে বালু ভর্তি জিওব্যাগ ফেলছে বিআইডব্লিইটিএ কর্তৃপক্ষ। ভাঙনে ঘাট এলাকার ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা তাদের দোকান ঘর ভেঙে নিরাপদে সরিয়ে নিচ্ছে।
রাজধানী ঢাকার সঙ্গে দেশের দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলের ২১ জেলার প্রবেশদ্বার হিসেবে পরিচিত পদ্মা নদী তীরবর্তী জেলা রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ঘাট। এ ঘাটে রয়েছে ৭টি ফেরি ও ১টি লঞ্চঘাট। পদ্মা নদীর পানি হঠাৎ করে বৃদ্ধি পাওয়ায় ঘাট এলাকায় দেখা দিয়েছে তীব্র নদী ভাঙন। ভাঙনে গত মঙ্গলবার দুপুরে দৌলতদিয়ার ৫নং ফেরিঘাটটি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়। দ্রুত ৫নং ফেরি ঘাটের পল্টুন নিরাপদে সরিয়ে নেয় বিআইডব্লিউটিএ। ভাঙনের কবলে পড়ে ৫নং ফেরিঘাটের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী দোকানিরা তাদের দোকান ঘর ভেঙে সরিয়ে নিতে শুরু করেছে। হঠাৎ করে ভাঙনের কবলে পড়ে স্থানীয়রা পড়েছেন চরম ভোগান্তি ও অর্থনৈতিক সংকটে।
স্থানীয় প্রত্যাক্ষদর্শীরা জানায়, মঙ্গলবার দুপুর ২টার কিছুক্ষণ পর পদ্মার তীব্র স্রোতে এ ভাঙন শুরু হয়। পদ্মায় তীব্র ঘূর্ণি স্রোতের সৃষ্টি হয়। ঝড়ো বাতাস ও স্রোতে ফেরিঘাট এলাকায় ভাঙন শুরু হয়। ফেরিঘাটের পণ্টুনের নিচ থেকে বড় বড় চাপ ধ্বসে পড়ে পদ্মা নদীতে। ভাঙনের কবল থেকে ফেরিঘাট রক্ষার জন্য বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ পরিবহণ কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) র্যাকার দিয়ে ফেরিঘাটের পণ্টুন নিরাপদে সরিয়ে নেয়।
ফেরিঘাটের মৎস্য ব্যবসায়ী শাহজাহান বলেন, ভাঙনের কবলে পড়ে এখন পর্যন্ত ১০-১৫ দোকানী তাদের ব্যবস্যা প্রতিষ্ঠান অন্যস্থানে সরিয়ে নিয়েছে। বাকিরা আছে ভাঙন আতঙ্কে। কখন যেন সব কিছু নদীতে তলিয়ে যায়।
আরেক মাছ ব্যবসায়ী চান্দু মোল্লা বলেন, হঠাৎ করেই ফেরিঘাট এলাকায় ভাঙন শুরু হয়েছে। নদী পাড়েই আমার দোকান। গত কয়েক বছর ধরে শুনে আসছি ফেরিঘাট এলাকায় কাজ শুরু হবে। এ কথা বলে দুই বছর অতিক্রম হয়েছে। তিন বছর আগের বর্ষায় এ রকম ভাঙন শুরু হয়েছিল। তখন ঘাট এক মাস বন্ধ ছিল। বর্তমানে ঘাটে এমনিতেই আয় রোজগার কমে গেছে। ব্যবসার পরিস্থিতি ভালো না। এখন আবার নদী ভাঙন। পদ্মায় পানিবৃদ্ধি অব্যাহত থাকলে তীব্র স্রোতে ফেরিঘাট রক্ষাকরা কঠিন হয়ে যাবে।
৫নং ফেরিঘাট এলাকার চায়ের দোকানি রহিম ব্যাপারী বলেন, আমরা ফেরিঘাট এলাকায় দোকান করে সংসার চালাই। ভাঙরের কারণে আমার দোকান বন্ধ। এখন কিভাবে আয় রোজগার করবো।
নদী ভাঙনের কারণে দোকান ঘর ভেঙে আগেই সরিয়ে নিচ্ছে করিম শেখ। তিনি বলেন, নদী পারেই আমার দোকান। যখন তখন তলিয়ে যেতে পারে। তাই আগেই নিরাপদে সরে যাচ্ছি। তবে নতুন করে বোধহয় আর দোকান করার জায়গা পাবো না।
দৌলতদিয়া ইউনিয়ন পরিষদের ২নং ওয়ার্ডের সদস্য আশরাফুল ইসলাম আশরাফ বলেন, রাজধানীর সঙ্গে দেশের দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলের ২১ জেলার প্রবেশদ্বার দৌলতদিয়া ঘাটে অনেক খেটে খাওয়া দরিদ্র মানুষের বসবাস। ফেরিঘাট এলাকায় অনেক দিনমজুর, চায়ের দোকানি ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা তাদের ব্যবসা বাণিজ্য করে জীবিকা নির্বাহ করে। পদ্মা নদীর ভাঙনে তারা আজ ক্ষতিগ্রস্ত। দৌলতদিয়া পাটুরিয়া নৌরুট ব্যবহারে দেশের দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলের অনেক জেলার কাঁচামাল, সবজি, মাছ, মাংসসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি রাজধানী ঢাকাতে যায়। তাই অতিদ্রুত দৌলতদিয়া এলাকায় পদ্মা নদীর সুষ্ঠু শাসন ও ভাঙনরোধ করা জরুরি।
বিআইডব্লিউটিসি কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, বর্তমানে দৌলতদিয়া ফেরিঘাটের ৩, ৪, ৬ ও ৭ নং ঘাটগুলো চালু রয়েছে। দৌলতদিয়া পাটুরিয়া নৌরুটে ৭টি রো রো ও ৪টি ছোট ফেরি যানবাহন ও যাত্রী পারাপারে চলাচল করছে।
বিআইডব্লিউটিএ কার্যালয় আরিচা সাব ডিবিশন নির্বাহী প্রকৌশলী জহিরুল ইসলাম জানান, পদ্মার এ ভাঙন একটি প্রাকৃতিক দূর্যোগ। ভাঙনরোধে জরুরিভিত্তিতে বালিভর্তি জিওব্যাগ ফেলা হচ্ছে। গত মঙ্গলবার বিকেল থেকে দৌলতদিয়া ৫নং ফেরিঘাটের তীর ও পন্টুনরক্ষায় কাজ শুরু হয়েছে। এ প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবেলায় আমাদের ব্যপক প্রস্তুতি রয়েছে।









