- কেসিটি মেয়রের বিরুদ্ধে আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ
বিরোধী দল না থাকলেও ১৭ অক্টোবরের খুলনায় জেলা পরিষদ নির্বাচন জমে উঠেছে। বিরোধী দলের বিরোধিতা না থাকলেও নিজেদের মধ্যে বিরোধ প্রবল।আওয়ামী লীগ মনোনিত প্রার্থীর প্রতিপক্ষ স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে রয়েছেন একই রাজনীতিতে বিশ্বাসী দুই প্রার্থী। প্রত্যেকেই জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী।
এদিকে নির্বাচনী আচরণবিধির লঙ্ঘনের অভিযোগ করেছেন জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান প্রার্থী এস এম মোর্তুজা রশিদী দারা।
গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে খুলনা সিটি কর্পোরেশনের মেয়র তালুকদার আব্দুল খালেকের বিরুদ্ধে রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে অভিযোগ জমা দেন তিনি। একই দিন পৃথক আরেকটি অভিযোগে তিনি নয়টি ভোট কেন্দ্র বহাল রাখার দাবি জানান।
লিখিত অভিযোগে মোর্তুজা রশিদী দারা উল্লেখ করেন, গত ৩ অক্টোবর খুলনা ক্লাবে জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান প্রার্থী শেখ হারুনুর রশিদের (মটর সাইকেল মার্কা) সভাপতিত্বে একটি সভা অনুষ্ঠিত হয়। সেই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদার খুলনা সিটি করপোরেশনের মেয়র তালুকদার আব্দুল খালেক। তিনি জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান প্রার্থীর (মটর সাইকেল মার্কা) পক্ষে ভোট চেয়েছেন এবং ভোটারদের কাছ থেকে ভোট বুঝে নেওয়ার হুমকি প্রদান করেছেন। যা অবাধ ও সুষ্ঠ নির্বাচন আয়োজনের পথকে রুদ্ধ করেছে।’
অপর এক অভিযোগে তিনি উল্লেখ করেন, খুলনা জেলা পরিষদ নির্বাচনের জন্য ৯ টি ওয়ার্ডে ৯টি ভোট কেন্দ্র হবে বলে আমাদেরকে জানানো হয়েছিল। যখন নির্বাচনী আচরণবিধি ভঙ্গ করে প্রতিমন্ত্রীর পদমর্যাদার মেয়র ভোট বুঝে নেবেন বলে হুমকি প্রদান করছেন, তখন আমরা দেখলাম জেলা পরিষদের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের ভোট কেন্দ্রকে ভাগ করে খুলনা সিটি কর্পোরেশনে একটি ও রূপসা উপজেলার ভোটারদের জন্য একটি আলাদা কেন্দ্র স্থাপন করে মোট ১০ টি ভোট কেন্দ্র করা হয়েছে। সিটি কর্পোরেশনের ৪২ টি ভোটের জন্য আলাদা কেন্দ্র স্থাপন করে ভোট বুঝে নেয়ার একটি কৌশলগত দিক বলে আমাদের মনে হয়েছে। যে কারণে ভোট কেন্দ্র দুটি করার বিষয়ে আমরা আপত্তি জানাচ্ছি এবং পূর্বের ন্যায় ৯ টি কেন্দ্র রাখার জন্য দাবি করছি।
প্রসঙ্গত, নির্বাচনী প্রচারণার আইনগত সুযোগ না থাকার পরেও কয়েকজন সংসদ সদস্যসহ মেয়র নিজেই ৩ অক্টোবর খুলনা ক্লাবে মতবিনিময় সভার নামে প্রচারণা চালান। মেয়রের বক্তব্যে বলেন, মোবাইল আছে না মোবাইল। আপনি কখন কার সাথে দেখা করেন, কথা বলেন সব কিন্তু পাওয়া যায়। ভোট গুনার পরে কোথায় কয়টা ভোট সেটা আমরা জানতে পারবো। এছাড়া ওই মতবিনিময় সভায় খুলনা ৬ আসনের সংসদ সদস্য বলেন, আমি ব্যক্তিগতভাবে প্রত্যেক চেয়ারম্যান মেম্বারের সাথে বসবো এবং আপনার পক্ষে প্রত্যেকের ভোট নিশ্চিত করবো। এছাড়া খুলনা ৫ আসনের সংসদ সদস্য নারায়ন চন্দ্র চন্দ, জাতীয় সংসদের হুইপ পঞ্চানন বিশ্বাস, খুলনা ৪ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুস সালাম মূর্শেদী, সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য গ্লোরিয়া ঝর্ণা সরকার প্রত্যেকেই বক্তব্যে আওয়ামী লীগ মনোনিত প্রার্থীর পক্ষে ভোট চেয়েছেন।
অন্যতম প্রতিদ্বন্দ্বি এস এম মর্তুজা রশিদী দারা (চশমা প্রতিক) ৮০’র দশকে খুলনা জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি। সুন্দরবন কলেজ ছাত্র সংসদের ছাত্রলীগের মনোনয়নে নির্বাচত ভিপিও ছিলেন। বর্তমানে বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থার সহ-সভাপতি। তার বড় পরিচয় জেলা আওয়ামী লীগের প্রয়াত সাধারণ সম্পাদক ও জাতীয় সংসদের সাবেক হুইপ এস এম মোস্তফা রশিদী সুজার অনুজ। অপর প্রার্থী বিএমএ, খুলনার একাধিকবারের সভাপতি, স্বাচিপের স্থানীয় কর্ণধর ডা. শেখ বাহারুল আলম (আনারস প্রতিক)। তিনি আওয়ামী লীগের আগের জেলা কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক। শৃঙ্খলা বিরোধী অপরাধে তিনি এখন দলের বাইরে। জেলার ৯৭৮ জন জনপ্রতিনিধি ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন । ভোট হবে ইভিএম এ।









