যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার নাভারণ কুন্দিপুর এলাকায় বিড়ি শ্রমিকদের একটা বড় অংশ বসবাস করে। একসময় তাদের অনেকেই যুক্ত ছিল চোরাচালান পেশার সাথে। তবে দেশের জন্য ক্ষতিকর অসৎ এই পেশা ছেড়ে তারা জীবন চালাচ্ছে বিড়ি তৈরি করে। কিন্তু করোনাভাইরাস কেড়ে নিল তাদের আয়ের পথ। আট দিন ধরে বন্ধ বিড়ি কারখানা।
বিড়ি শ্রমিক স্বামীহারা জবেদা খাতুন। মেয়ে ও দুই নাতি নিয়ে তার সংসার। তিনি বলেন, মাইয়ের স্বামী থাইকেও নেই। আরাট্টা বিয়ে কইরে সেই বউ নিয়ে থাকে। কোন খরচও দেয়না। মা মেয়ে মিলে যা আয় করি তা দিয়ে নাতিগের নিয়ে কোন রকমে খাইয়ে পইরে বাঁইচে ছিলাম। কিন্তুক করোনা আইসে আইজ আট দিন আমাগের কাজ কাইড়ে নেছে। এখন দিনি শুধু একবার কোনরকমে চুলোয় হাড়ি চড়ইতেছে। এরপর আর কনতে হাড়ি চড়াবো? ছোট ছোট নাতি দুডো আর মাইয়েরে কি খাওয়াবো বুঝতি পাততিছিনে।
আরেক বিড়ি শ্রমিক কুলসুম বেগম। তার স্বামী দীর্ঘদিন ভারতে আটক। দুই ছেলে ও এক মেয়ে নিয়ে তার সংসার। তিনি বলেন, কারখানা বন্ধ। মানুষির বাড়ি কাজ করতি চালি মানুষ করোনার ভয়তে কাজেও নিতি চাচ্ছেনা। বাড়িতি ঢুকতি তাই দেচ্ছে না। কাজ না থাকলি ছেলে পিলেগের সামনের দিন খায়াবো কি?
যশোরাঞ্চলের পাঁচ হাজার শ্রমিকসহ দক্ষিণাঞ্চলের প্রায় ৫০ হাজার বিড়ি শ্রমিকের এই করুণ অবস্থা। আকিজ বিড়ি কারখানার ম্যানেজার শান্ত বলেন, মালিকের ইচ্ছা থাকার পরও তাদের সহযোগিতা করা কঠিন হয়ে পড়েছে। সরকারের বৈষম্যমূলক শুল্ক নীতির কারনে হাতে তৈরি বিড়ি শিল্প রুগ্ন শিল্পে পরিণত হয়েছে। বর্তমানে সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী আমরা কারখানা বন্ধ করে রেখেছি।
অন্যদিকে বৃটিশ আমেরিকান টোব্যাকো ও জাপান টোব্যাকো ইন্ডাস্ট্রিজ তাদের সিগারেট উৎপাদন অব্যাহত এবং তাদের মজুতকৃত সিগারেট বাজারজাত করছে। এতে বিড়ি কারখানা আরও ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে। এ অবস্থায় দ্রুত উৎপাদন চালু না করতে পারলে কারখানা স্থায়ী ভাবে বন্ধ হয়ে যেতে পারে। এ অবস্থার সৃষ্টি হলে হাজার হাজার শ্রমিক স্থায়ীভাবে বেকার হয়ে পড়বে।
আনন্দবাজার/ টি এস পি









