পল্লী বিদ্যুতের লোডশেডিং দিনদিন জনজীবন অতিষ্ঠ করে তুলছে লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলায়। কারণে-অকারণে চোখের পলকে বিদ্যুৎ নেই। মাঝে-মধ্যে বিদ্যুৎ গেলেও এখন মাঝে-মধ্যে আসে। নিত্যদিনের ভোগান্তি পোহাতে হয় গ্রাম-গঞ্জে ও হাট-বাজারে। বিদ্যুৎ কখন আসবে, কখন যাবে, তার কোনো নিয়মও নেই। বিদ্যুৎ অফিসের খাম-খেয়ালিপনায় যায় আর আসে। একবার গেলে ৩-৪ ঘণ্টায় আসার কোনো খবর নেই। নিয়ম নীতির বালাই নেই। তবে বিদ্যুতের লোডশেডিং বিষয়ে বিদ্যুৎ অফিস কর্মকর্তাদের অজুহাতের শেষ নেই। শুধু বিদ্যুৎ অফিসের নিয়ম সারা দেশের ন্যায় কমলনগরে ব্যতিক্রম। তাদের সঙ্গে আলাপে বিপাকে পড়ছে সাধারণ মানুষ। যেমন চলে লোডশেডিং, তেমনি চলছে গ্রাহক হয়রানি।
সরকার শিল্প-কারখানার বকেয়া বিলের জন্য সংযোগ বিচ্ছিন্ন করতে বলে। অথচ স্থানীয় বিদ্যুৎ অফিস হুটহাট এক-দু'মাস বিল বকেয়া থাকলে বা বিল ব্যাংকে দেয়ার পরও সংযোগ বিচ্ছিন্ন করছে এমন অভিযোগ স্থানীয়দের।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন জানান, লোডশেডিং বিষয়ে ফোনে তাদের নাম্বারে একাধিক বার ফোন দিলেও পাওয়া যায় না। কোনমতে ফোন ধরেই অজুহাত দিয়ে রেখে দেয়। মাঝেমধ্যে খুবই খারাপ আচারণ করে। লোডশেডিং তো দিচ্ছে তারমধ্যে খারাপ আচারণও শুনতে হচ্ছে।
বিদ্যুৎ গ্রাহক খালেক বলেন, তিনি কৃষি ব্যাংকে বিদ্যুৎ বিল দিয়ে আসার ১২ দিন পরে তার লাইনকেটে দেয়। তিনি বাড়ি ছিলেন না। লাইনকাটতে তাকে ফোন পর্যন্ত করা হয়নি। পরে পল্লীবিদ্যুৎ অফিসে গেলে তাকে ৬০০ টাকা ও ১৫ % ভ্যাট হাতে লেখা কাগজ ধরিয়ে দেয়া হয়। লাইন সংযোগ করতে হলে ৬৯০ টাকা জমা দিতে হবে। শুধু তাই নয় অফিসে থাকা স্টাফদের আচারণে মেজাজ খারাপ হয়ে যায়। কিন্তু কিছুই করার থাকে না। আচারণের তীক্ষèতায় ধর্য্য ধরে থাকতে হয়। কিছু বললে লাইন সংযোগ লাগাতে সমস্যা হবে মনে করেন তিনি।
এবার আমনের বীজ তলায় পানি ছিল না। দীর্ঘদিন থেকে শুষ্ক মৌসুম চলছিল। কৃষক সেচের মাধ্যমে পানি দিয়ে বীজতলা তৈরি করবে। কিন্তু দু:খের বিষয় বিদ্যুতের বেলকি বাজিতে ফেল করেছে। দীর্ঘদিন পরে বৃষ্টি হলে কৃষকের মুখে হাঁসি ফোটে।
আরও কিছু জনতা জানান, পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের কর্মরত ব্যাক্তিদের আচারণ খুবই বাজে। তারা মানুষকে মানুষ মনে করে না। তাদের কাছে জ্ঞানহীন আচারণের শিকার হতে হয়। তাদের সাথে তর্কে জড়ালে বিপত্তি... তারা নিজের মতো করে মানুষকে সেবা দিচ্ছে। সরকারি নিয়মে শুধু টাইম মেন্টিং করে।
স্থানীয় পল্লীবিদ্যুৎ অফিস কর্মকর্তা (ডিজিএম) সিরাজুল ইসলাম বলেন, মাঝে-মধ্যে সংযোগ ফল্ড হলে লোডশেডিং থাকে। এছাড়া কোন লোডশেডিং নেই।
গ্রাহক ব্যাংকে টাকা জমা দিলেও সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়.জানতে চাইলে বলেন, ব্যাংকে টাকা জমা দেয়ার রসিদের কপি দেখালে সংযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার কথা নয়। বিচ্ছিন্ন লাইন সংযোগ দিতে টাকা দিতে..? বিচ্ছিন্ন লাইন সংযোগ দিতে ডিসিআরসি (বিচ্ছিন্ন সংযোগ ফ্রি) জমা দিতে হয়।
অফিসে গ্রাহকের সাথে খারাপ আচারণ করা হয় বললে, তিনি বলেন, এমন অভিযোগ কখনো চোখে পড়েনি। গ্রাহক সেবার জন্য তার দরজা সবসময় খোলা রয়েছে তিনি জানান।









