মৌলভীবাজারের কুলাউয়ায় বেপরোয়া গতিতে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে বালুবাহী ট্রাক। কুলাউড়া-রবিরবাজার সড়কে প্রায়ই খোলাট্রাকে বালু পরিবহণ করা হয়। এতে বাতাসের সঙ্গে বালু মিশে সড়কজুড়ে ধুলোর মেঘ তৈরি হয়। এতে বিপাকে পড়ছেন সাধারণ যাত্রী ও পথচারীরা। মনু নদী থেকে এসব বালু উত্তলন করে রবিরবাজার সড়ক দিয়ে পরিবহণ করে বিভিন্ন জায়গায় নেওয়া হয়। এ সড়কে উপজেলার কর্মধা, পৃথীমপাশা, হাজিপুর, রাউৎগাঁও ইউনিয়নের হাজারো মানুষ উপজেলা শহরে যাতায়াত করেন। খোলাট্রাকে বালু পরিবহনের কারণে বিশেষ করে মোটরসাইকেল আরোহী ও সাধারণ যাত্রীরা ভোগান্তিতে রয়েছেন।
বাতাসের সঙ্গে বালু উড়ে চোখে-মুখে পড়ে মারাত্মক দুর্ঘটনার শংঙ্কা রয়েছে। ট্রাকের বালু বাতাসের সঙ্গে মিশে মোটরসাইকেল আরোহীর চোখে-মুখে পড়ছে। এতে যে কোনো সময় সাইকেলের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে মারাত্মক দুর্ঘটনার শঙ্কা রয়েছে। এছাড়াও রবিরবাজার সড়কের পাশে লংলা আধুনিক ডিগ্রি কলেজ, সদপাশা প্রাথমিক বিদ্যালয়, লংলা ইন্টারন্যাশনাল এডুকেয়ার, নোবেল একাডেমিসহ বিভিন্ন প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্কুল রয়েছে। এছাড়াও উপজেলার বৃহত্তম বাজার রবিরবাজারসহ অনান্য বাজারের ব্যবসায়িরা ভোগান্তিতে রয়েছেন।
স্থানীয়রা জানান, দীর্ঘদিন থেকে বালুর ট্রাক এ রাস্তা দিয়ে পরিবহণ হয়ে বিভিন্ন জায়াগায় বালু নেওয়া হয়। বালু বহনের সময় অনেক ট্রাকের উপরে কোনো আবরণ দেওয়া হচ্ছে না।
সরেজমিনে দেখা যায়, মনু নদী থেকে আসা বালুর ট্রাক সম্পূর্ণ খোলা অবস্থায় চালকেরা সড়ক দিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন। ট্রাকের বালু ঢাকার জন্য বালুর উপরে ব্যবহার করা হয়নি কোনো ত্রিপল। এতে চলন্ত গাড়ি থেকে বাতাসের সঙ্গে মিশে অনেকের চোখে-মুখে পড়ছে। তবে অনেক ট্রাকের চালকেরা বালুর উপর ত্রিপল দিয়ে বালু পরিবহণ করছেন। ব্যবসায়িক কাজে নিয়মিত কুলাউড়ায় মোটরসাইকেলে যাতায়াত করেন মা টেলিকমের স্বত্বাধিকারী সুমন আহমদ। তিনি বলেন, প্রায়ই বাতাসের সঙ্গে ট্রাকের বালু চোখে-মুখে পড়ে। এতে বিড়ম্বনায় পড়তে হয়। পথচারি শাহিন আহমদ জানান, বালু রাস্তার চারপাশে ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়ে। কিছু কিছু ট্রাক ত্রিপল ছাড়া গাড়ি চলানোয় আমরা ভোগান্তিতে রয়েছি।
উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি) সজল মোল্লা বলেন,‘খোলা অবস্থায় বালু পরিবহণ করা আইনত দণ্ডণীয় অপরাধ। কেউ খোলা অবস্থায় বালু পরিবহণ করলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।









