- হাওরের উন্নয়ন বন্ধ হবে না: পরিকল্পনামন্ত্রী
বন্যা পরবর্তী সময়ে সিলেটে অতি সত্বর পুর্নবাসন কাজ শুরু হবে বলে জানিয়েছেন পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মানন্নান। ফাস্ট ট্র্যাক হিসেবে এসব কাজ দ্রুত শুরু হবে। নূহ নবীর আমলেও বন্যা হয়েছে উল্লেখ করে এগুলো (বন্যা) আরো হবে বলে উল্লেখ করেন মন্ত্রী। আর তাই বলে হাওরে উন্নয়ন কাজ বন্ধ করে দেওয়া উচিত হবে না বলেও মনে করেন তিনি।
গতকাল সোমবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে সিলেট বিভাগ সাংবাদিক সমিতি আয়োজিত ‘সিলেট অঞ্চলে ঘন ঘন বন্যা: কারণ, পুনর্বাসন ও স্থায়ী সমাধান’ শীর্ষক গোলটেবিল আলোচনায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
সরকারের আগে মানুষ সিলেটে চলে গেছে মন্তব্য করে ত্রাণ বিতরণে সবার অংশগ্রহণকে প্রশংসা করেন। বন্যায় গ্রামের সড়ক নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে উল্লেখ করে ৩০/৩৫ বছরের অবকাঠামোর কাজ শেষ হয়ে গেছে বলে মন্তব্য করেন। জরুরি ভিত্তিতে সরকার সার-বীজ প্যাকেট আকারে মানুষের কাছে পাঠাবে বলেও জানান তিনি। মানুষ খাদ্য না, বরং ক্যাশ চাচ্ছে বলেও জানান মন্ত্রী।
অন্যদিকে বন্যা মোকাবিলায় সরকারের প্রস্তুতির ঘাটতি ছিল বলে মন্তব্য করেছেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী ইমরান আহমদ। তবে এজন্য সরকারকে দোষ দেওয়া যাবে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, সরকার জানতো না যে এত বড় বন্যা আসবে।
সিলেটের বন্যা নিয়ে সরকারের পরিকল্পনার অভাব ছিল, এটা অস্বীকার করার কিছু নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তবে এখানে সরকারের দোষ দেওয়া যায় না। প্রতি বছর যদি এমন বন্যা হতো আর যদি সরকার প্রস্তুত না থাকতো, তাহলে আমি নিজেই দোষ দিতাম।
প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রী বলেন, অনেকেই বন্যায় নৌকার ভাড়া বাড়িয়ে দিয়েছে এমন অভিযোগ পাওয়া গেছে। আসলে যারা নৌকার মালিক, তারাও তো বন্যার নিচে তলিয়ে গেছেন। ইমরান আহমদ বলেন, প্রতি বছর এমন বন্যা আসবে না, এটা বলা যাবে না। বন্যা আসবে এমনটি ধরেই প্রস্তুতি রাখতে হবে।
তিনি বলেন, আমরা সরকারের দিকে তাকায়ে থাকি। তবে সবক্ষেত্রে সরকারের দিকে তাকায়ে থাকা ঠিক সিদ্ধান্ত নয় বলেও জানান তিনি। হাওর বোর্ড কাজ না করে মোটা মোটা বই প্রকাশ করে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। আর বিশ্ব ব্যাংক থেকে ফান্ড পাবার জন্যই বই প্রকাশ করা হয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতির (বেলা) প্রধান নির্বাহী সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেন, সিলেটে একনো পাহাড় কাটা হচ্ছে। ডিসিরা এগুলো বন্ধ না করতে পারলে মাথামোটা প্রশাসন দিয়ে কী হবে বলেও প্রশ্ন রাখেন তিনি। হাওর বোর্ড কাজ না করলে তা ভেঙে দিতে বলেন এ পরিবেশবিদ। সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী মো. শাহাব উদ্দিন, পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপমন্ত্রী একেএম এনামুল হক শামীম।
সভায় বিশেষজ্ঞ আলোচক ছিলেন পদ্মা সেতু প্রকল্প বিশেষজ্ঞ প্যানেলের সদস্য এবং স্টামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমেরিটাস অধ্যাপক ও সাবেক উপাচার্য ড. এম ফিরোজ আহমেদ, বাংলাদেশ পরিবেশ সাংবাদিক ফোরামের সভাপতি কামরুল ইসলাম চৌধুরী, বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতির (বেলা) প্রধান নির্বাহী সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালযয়ের ভূতত্ব বিভাগের অধ্যাপক ড. কাজী মতীন উদ্দীন আহমেদ, বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের (বাপা) সাধারণ সম্পাদক শরীফ জামিল।









