খুলনার পাইকগাছায় কপোতাক্ষ নদের ভয়াবহ ভাঙ্গনে হুমকির মুখে পড়েছে ২নং কপিলমুনি ইউনিয়ানের মালথ গ্রাম। ভাঙ্গনে ইতোমধ্যে অসংখ্য ঘরবাড়ী, গাছ-গাছালী, ফসলের ক্ষেত নদীগর্ভে বিলিন হয়ে গেছে। তাই ভাঙ্গন রোধে দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে যে কোন সময়ে বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়ে ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখীন হতে পারে বলে আংশকা করছেন এলাকাবাসী ও স্থানীয়রা।
সরেজমিন ও স্থানীয়দের সূত্রে জানা গেছে, কপোতাক্ষ নদীর গভীরতা কমে যাওয়া, ভারী বর্ষণে ও কোটালের প্রভাবে নদীর পানি বেড়ে যাওয়ায় উপজেলার ২নং কপিলমুনি ইউনিয়ানের মালথ গ্রামের আরজ মোড়লের বাড়ী হতে পদ্মাকান্দা সাবেক পিচের রাস্তার ধার হয়ে সিলেমানপুর পাল পাড়া অভিমূখী রাস্তা পর্যন্ড কপোতাক্ষ নদের প্রায় ৩/৪ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে ভয়াবহ ভাঙ্গন দেখা দিয়েছে।
সম্প্রতি ভারী বর্ষণের কারণে এই ভাঙ্গন ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। এছাড়া নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করায় ভাঙ্গন ব্যাপকহারে বৃদ্ধি পেয়েছে। এদিকে গতকাল শনিবার দুপুরে কপিলমুনি মালথ ও সিলেমানপুরের নদী ভাঙ্গন এলাকা পরিদর্শন করেছেন, উপজেলা নির্বাহী অফিসার এবিএম খালিদ হোসেন সিদ্দিকী।
এসময়ে তার সাথে ছিলেন ইউপি চেয়ারম্যান কওসার আলী জোয়াদ্দার সহ স্থানীয় এলাবাসী। পরিদর্শন কালে ইউএনও সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দিয়ে ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনের আশ্বাস, ১হাজার বালি ভর্তি বস্তা ফেলে ভাঙ্গন প্রতিরোধের ব্যবস্থা, টেঁকসই ভেঁড়িবাধ নির্মানের আশ্বাস দেন। সেই সাথে এ ব্যাপারে উর্ধ্বতন কর্তপক্ষকে অবহিত করেন।
ইউপি সদস্য এজাহার আলী গাজী বলেন, স্থানীয়ভাবে কয়েকবার বাঁশের পাইলিং করে ভাঙ্গন প্রতিরোধ করার চেষ্টা করেছি। কিন্তু ভাঙ্গনের ভয়াবহতা এতটাই বেশি যে কোন পাইলিং কাজে আসছে না।
এই ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার এবিএম সিদ্দিকী বলেন, ভাঙ্গনকৃত এলাকা পরিদর্শন করেছি। সবচেয়ে বেশী ক্ষতিগ্রস্থ প্রায় ৬শ মিটার ভাঙ্গনকৃত স্থানে ১হাজার বালি ভর্তি বস্তা ফেলে ভাঙ্গন প্রতিরোধের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এ ব্যাপারে স্থানীয় সংসদ সদস্য আলহাজ্ব আক্তারুজ্জামান বাবু, পানি উন্নয়ন বোর্ডসহ সংশ্লিষ্টদের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ভাঙ্গন কবলিত এলাকার বাসিন্দারা।
আনন্দবাজার/এইচ এস কে/এম এইচ








