করোনা ভাইরাস ( কোভিট-১৯) বদলে দিয়েছে মানুষের স্বাভাবিক জীবন-মান। সচেতন মানুষ এখন ভীড় এড়িয়ে সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখেই করছেন দৈনন্দিন কার্যক্রম। ভাইরাসের সংক্রমণ এড়াতে মানুষ অফিস, ব্যবসা-বাণিজ্য, নিত্যপণ্য বেচাকেনা, শিক্ষা-স্বাস্থ্য সবকিছুতেই ব্যবহার করছে অনলাইন প্ল্যাটফর্ম। তখনই সামনে চলে আসছে ঈদ-উল-আযহা বা কুরবানির ঈদ। এই ঈদে পশু কেনা-বেচা, পছন্দ করতে হাটে যাওয়াসহ নানা কারণেই প্রচন্ড ভিড় ও ব্যাপক মানুষের সমাগম ঘটে গরুর হাটগুলোতে। এদিকে ভিড় ঠেলে, রোদে পুড়ে, ঘামে ভিজে একাকার হতে হয় পশু বিক্রি ও কিনতে আসা মানুষগুলোকে।
এদিকে করোনায় আক্রান্ত কিংবা উপসর্গ নিয়ে যারা হাটে যাবেন তারা করোনার জন্য সর্বনাশের ষোলকলা পূর্ণ করবেন বলছেন জনস্বাস্থ্যবিদরা। অন্যদিকে করোনা সংক্রমনের মধ্যে গরু-ছাগল নিয়ে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে কয়েকদিন হাটে অবস্থান করা, বিক্রির টাকার নিরাপত্তাসহ নানা ধরণের সমস্যা রয়েছে বিক্রেতাদের। তাই করোনা পরিস্থিতি বিবেচনায় এবং সংক্রমণের প্রবল ঝুঁকি এড়াতে এবার কোরবানির হাট মাঠে নয়, অনলাইনে করার আহ্বান জানিয়েছেন জনস্বাস্থ্যবিদরা।তারই পরিপ্রেক্ষিতে, আসন্ন ঈদ-উল-আযহা কে সামনে রেখে করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে ভার্চুয়াল পদ্ধতিতে বা অনলাইনের মাধ্যমে কোরবানির পশু ক্রয়-বিক্রয়ের জন্য খামারীদের সংগঠন-‘গাজীপুর ডেইরী ফার্মাস এসোসিয়েশন’ (জিডিএফএ) চালু করা হয়েছে।
এদিকে গাজীপুর জেলা প্রশাসনের আয়োজনে ও জেলা প্রাণী সম্পদ কার্যালয় গাজীপুরের সার্বিক সহযোগিতায় গাজীপুরের খামারীদের সংগঠন ‘গাজীপুর ডেইরী ফার্মাস এসোসিয়েশন (জিডিএফএ)’র কার্যক্রম চালু করা হয়েছে।
খামারীদের সংগঠন-গাজীপুর ডেইরী ফার্মাস এসোসিয়েশন’র প্রধান উদ্যোক্তা ও সভাপতি আকরাম হোসেন বাদশা’র নেতৃত্বে গড়া সংগঠন ইতোমধ্যে ব্যাপক সারা ফেলেছে। এরই মধ্যে এই সংগঠনের সাথে যুক্ত রয়েছেন গাজীপুরের প্রায় সাত হাজারেরও বেশি খামারী।
এই বিষয়ে জানতে চাইলে সংগঠনের এডমিন শাহিনুর ইসলাম শাহিন ‘দৈনিক আনন্দবাজার’ কে জানান, আমাদের এই সংগঠনের মাধ্যমে জেলার বিভিন্ন উপজেলার প্রান্তিক খামারী থেকে শুরু করে যারা কোরবানির সময় বিক্রির উদ্দেশে পশু পালন করেন তারাও আমাদের গাজীপুর ডেইরী ফার্মাস এসোসিয়েশনের গ্রুপে তাদের গৃহ পালিত পশু বিক্রয় করতে পারবেন। এখানে কোরবানির পশুর বিজ্ঞাপণ দিতে কোন প্রকার টাকা লাগবে না।
তিনি আরো বলেন, ইতিমধ্যে আমাদের এই গ্রুপে বিজ্ঞাপণ দেওয়ার ফলে ৭টি গরু বিক্রি হয়েছে। যার বিক্রি মূল্য ৩০ লক্ষ টাকা। আমরা আশা করছি বিক্রির জন্য আমাদের এই গ্রুপ সাইটে/অনলাইন মাধ্যমে ৫ হাজার পশু চলে আসবে। আর এখানে যেসব মানুষ বিজ্ঞাপন দিবে তাদেরকে অবশ্যই পশুর সমস্ত বিবরণ দিতে হবে এবং বিজ্ঞাপণ দাতার মোবাইল নাম্বার দিতে হবে।
এই বিষয়ে জানতে চাইলে গাজীপুর জেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা দীপক রঞ্জন রায় জানান, শুধুমাএ মহামারি করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে এবং সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করার লক্ষ্যেই এই অনলাইন কোরবানির পশুর হাট চালু করা হয়েছে। আর এই জেলার সকল প্রান্তিক খামারীরা অতি সহজেই গাজীপুর ডেইরী ফার্মাস এসোসিয়েশন (জিডিএফএ-গ্রুপ) এর অনলাইন প্লাটফর্মে বিজ্ঞাপণ দিয়ে সরাসরি বিক্রয় করতে পারবেন। এ বিষয়ে গাজীপুরের জেলা প্রশাসক এস.এম.তরিকুল ইসলাম জানান, মহামারি করোনাকালীন পরিস্থিতি বিবেচনা করে বিভিন্ন হাট-বাজারে সাধারণ মানুষের জনসমাগম
এড়াতে গাজীপুর ডেইরী ফার্মাস এসোসিয়েশন ঈদ-উল-আজহা-২০২০ উপলক্ষে ভার্চ্যুয়াল কুরবানির পশুর হাটের আয়োজন করেছে। এই ডেইরী ফার্মাস এসোসিয়েশনের মূল লক্ষ্য হচ্ছে গাজীপুরের বিভিন্ন উপজেলায় গড়ে ওঠা প্রান্তিক খামারীদের কুরবানির জন্য প্রস্তুত করা পশু জিডিএফএ-গ্রুপ এর অনলাইন প্লাটফর্মের মাধ্যমে সরাসরি ক্রেতাদের কাছে স্বাস্থ্য সম্মত ও নিরাপদ ভাবে বিক্রয়ের মাধ্যম হওয়া।
আনন্দবাজার/এফআইবি









