ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের অভিযান
ভোজ্যতেলের বাজার তদারকি, নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যে নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার চৌমুহনী বাজারে অভিযান চালিয়েছে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর জেলা শাখা। এসময় বেশি মূল্যে ভোজ্যতেল (সয়াবিন তেল) বাজারে বিক্রির আশায় মজুদ করা ২০০ লিটার তেল জব্দ করা হয়েছে। ঘটনায় বসুন্ধরা নামের ওই প্রতিষ্ঠানের মালিককে ২০হাজার টাকা অর্থদণ্ড এবং তেলগুলো সাধারণ ক্রেতাদের কাছে খুচরা মূল্যে বিক্রি করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার দুপুরে চৌমুহনী বাজারের হকার্স মার্কেট এলাকার ‘বসুন্ধরা ট্রেডার্স’ এ অভিযান পরিচালনা করেন, জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর নোয়াখালীর সহকারি পরিচালক মো. কাউছার মিয়া। অভিযানে সহযোগিতা করেন বেগমগঞ্জ মডেল থানা পুলিশ।
ভোক্তা অধিকার অধিদপ্তর জেলার সহকারি পরিচালক মো. কাউছার মিয়া বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, সকাল থেকে জেলার বিভিন্ন স্থানে ভোজ্যতেল মজুদকারিদের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানকালে চৌমুহনী হকার্স মার্কেটের 'বসুন্ধরা ট্রেডার্স' গোডাউনে মজুদকৃত ২০০লিটার তেল জব্দ এবং তাকে ২০হাজার টাকা অর্থদণ্ড করা হয়। পরে জব্দকৃত তেলগুলো খুচরা মূল্য ১৬০টাকা ধরে সাধারণ ভোক্তাদের কাছে বিক্রি করে দেওয়া হয়। জনস্বার্থে এ অভিযান অব্যহত থাকবে বলেও জানান এ কর্মকর্তা।
নওগাঁ প্রতিনিধি
নওগাঁয় পৃথক তিনটি ব্যবসা পতিষ্ঠানে অভিযান চালিয়ে অবৈধভাবে মজুতকৃত ৭৫৩ লিটার বোতলজাত সয়াবিন তেল জব্দ করেছে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর। এ সময় ওই তিনটি ব্যবসা পতিষ্ঠানে ৬৫ হাজার টাকা জরিমান করা হয়। উদ্ধারকৃত তেল তাৎক্ষনিকভাবে সাধারণ ক্রেতাদের মধ্যে নির্দিষ্টমূল্যে বিক্রি করা হয়েছে।
জেলা ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ দপ্তরের সহকারি পরিচালক শামীম হোসেনের নেতৃত্ব একটি মোবাইল টিম গতকাল বৃহস্পতিবার বেলা ১১টা থেকে নিয়মিত বাজার তদারকির অংশ হিসেবে এ অভিযান পরিচালনা করেন। অভিযানে শহরের আটাপট্টি এলাকায় কিরন ট্রেডার্স ও রঞ্জিত পাল এবং গোস্ত হাটির মোড় এলাকায় আজাদ ষ্টোরে অভিযান পরিচালনা করেন। এ সময় এ ৩টি প্রতিষ্ঠান থেকে অবৈধভাবে মজুত করা ১ লিটার, ২ লিটার ও ৫ লিটার পরিমাপের বোতলে মোট ৭৫৩ লিটার বসুন্ধরা ও তীর ব্র্যান্ডের সয়াবিন তেল জব্দ করে। উদ্ধাকৃত সয়াবিন নির্দিষ্ট মূল্য ১ লিটারের বোতল ১৬০ টাকা, ২ লিটারের বোতল ৩২০ টাকা এবং ৫ লিটারের বোতল ৭৬০ টাকা হিসেবে উপস্থিত সাধারণ ক্রেতাদের নিকট বিক্রি করা হয়। এ সময় উৎসাহী ক্রেতাদের সারিবদ্ধ ভাবে দাঁড়িয়ে সয়াবিন তেল কিনতে দেখা গেছে।
শেরপুর প্রতিনিধি
জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর শেরপুর সদরে দুটি গোডাউন ও বাসা থেকে পাঁচ হাজার লিটার সয়াবিন তেল জব্দ করেছে। এ সময় অবৈধভাবে তেল মজুদ ও বেশি দামে বিক্রির অভিযোগে ওই দোকানিকে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে সদরের গাজীর খামার বাজারে সাথী ষ্টোর নামে একটি খুচরা বিক্রেতার দোকানে এ অভিযান পরিচালিত হয়।
জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের শেরপুরের সহকারী পরিচালক রুবেল আহমেদ বলেন, নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে বিক্রি ও অবৈধভাবে মজুদের দায়ে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইনে দুটি ধারায় ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। জব্দকৃত সয়াবিন উপস্থিত জনসাধারণের মাঝে বোতলের গায়ের মূল্যে বিক্রি করা হয়।
নাটোর প্রতিনিধি
নাটোরের বড়াইগ্রামে পৌর মেয়র মাজেদুল বারী নয়নের গোডাউন থেকে ৩ হাজার লিটার বোতলজান সয়াবিন তেল উদ্ধার করা হয়েছে। গত বুধবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে উপজেলার বড়াইগ্রাম পৌরসভার মৌখড়া বাজারে মেয়রের ব্যক্তিগত ব্যবসা প্রতিষ্ঠান মেসার্স নয়ন ডিপার্টমেন্টাল ষ্টোরের গোডাউন থেকে ওই তেল উদ্ধার করা হয়। ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর নাটোরের সহকারী পরিচালক মেহেদী হাসান তানভীর ও র্যাব-৫ এর নাটোর অফিস এ অভিযান পরিচালনা করেন। এসময় অবৈধভাবে সয়াবিন মজুদের অভিযোগে এবং বোতলজাত সয়াবিন খোলা সয়াবিন হিসেবে বেশী দামে বিক্রয়ের অবরাধে এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়।
তবে মেয়র নয়ন দাবি করেন তিনি নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানটি তার ম্যানেজারের নিকট লিজ প্রদান করেছেন। এ সময় পাশের মামুন ষ্টোরকে একই অপরাধে ১০ হাজার টাকা জরিমানা ও ৯ কার্টুন তেল উদ্ধার করে খোলা বাজারে বিক্রি করা হয়।
পার্বতীপুর (দিনাজপুর) প্রতিনিধি
বোতলজাত তেল খালি করে ও পূর্বে উৎপাদনকৃত তেল মজুত রেখে বেশি দামে বিক্রির অভিযোগে পার্বতীপুর এক ব্যবসায়ীকে জরিমানা করেছে দিনাজপুর ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে ভোজ্যতেল মজুতবিরোধী অভিযান চালিয়ে পার্বতীপুর শহরের উত্তরা সিনেমা রোডে মেসার্স আব্দুল কুদ্দুস ট্রেডার্সকে ২৫ হাজার টাকা জরিমানা করেন দিনাজপুর ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মমতাজ বেগম। এসময় পার্বতীপুর উপজেলা সেনেটারী ইন্সপেক্টর ছবি রানী দাসও পার্বতীপুর মডেল থানার একদল পুলিশ উপস্থি ছিলেন।
অভিযান চলাকালে ১২ কার্টুন ভোজ্যতেল সয়াবিন উদ্ধারসহ পূর্বের উৎপাদনকৃত তেল মজুদ রেখে বেশি দামে বিক্রির দায়ে ভোক্তা অধিকার আইনে ২৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। একই সঙ্গে ১২ প্যাকেটে ২১৬ লিটার ভোজ্যতেল মজুত পাওয়া গেলে ক্রেতাদের মাঝে ন্যায্যমূল্যে বিক্রি করা হয়।
আনন্দবাজার/শহক









