সরকারের উন্নয়ন কার্যক্রমের গুণগত মান পর্যবেক্ষণ করতে সরকারি-বেসরকারি প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে অংশীদার কমিটি কাজ করছে। কমিটির সভায় গ্রামীণ বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ বা পলিটিক্যাল ফিল্টরিংয়ের বিয়ষটি ওঠে এসেছে। প্রকল্প মান নিশ্চিতে জনসাধারণের অংশ গ্রহণের কথা থাকলেও প্রভাবশালী নেতাদের প্রজেক্টে তা পাশ কাটিয়ে যাওয়া হয়।
গত মঙ্গলবার বিকেলে পরিকল্পনা কমিশনের এনইসি ভবনে আয়োজিত হয় পাবলিক-প্রাইভেট স্টেকহোলডার কমিটির (পিপিএসসি) ১৫তম সভা। এতে সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধিদের পাশাপাশি প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান এমপি। বিশ্বব্যাংকের সহায়তায় সরকারের প্রকল্প ব্যয়ের স্বচ্ছতা ও মান বজায় রাখতে এবং আধুনিক পর্যবেক্ষণ নিশ্চিতে ২০১৭ সাল থেকে কাজ করছে ডিম্যাপ প্রজেক্ট। যার মাধ্যমে ই টেন্ডারিং সিস্টেম চাল করা হয়েছে। আর গ্রামীণ প্রজেক্ট মনিটরিং নিশ্চিত করছে কাজ করছে ব্র্যাক ইন্সটিটিউট অব গভরন্যান্স অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (বিআইজিডি)।
সভায় সংস্থাটির প্রতিনিধি ড. মির্জা মাসুদ হাসান জানান, দেশের ১৬ জেলায় ৪৮টি উপজেলায় নাগরিক কমিটির মাধ্যমে স্থানীয় পর্যয়ের ছোট ছোট প্রজেক্ট মনিটরিং করা হচ্ছে। এক্ষেত্রে ২৫৪টি কমিটির মাধ্যমে ৩১৬টি প্রজেক্ট মনিটরিংয়ের আওতায় আনা হয়েছে। স্থানীয় সরকার, জনস্বাস্থ্য ও শিক্ষা বিভাগের প্রকল্পগুলো মনিটরিং করা হচ্ছে।
স্থানীয় প্রভাবশালীদের মাধ্যমে বাস্তবায়নাধীন প্রকল্পের সেক্ষেত্রে কিভাবে মানের বিষয়ে প্রশ্ন তুলা হয় পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রীর প্রমন প্রশ্নের জবাবে মির্জা মাদুদ জানান, এমন প্রকল্পের বেলায় প্রকৌশলীরা নাগরিক কমিটিকে পাশ কাটিয়ে নিজেরা কাজ এগিয়ে নেন। এটাকে তিনি পলিটিক্যাল ফিল্টারিং বলে আখ্যা দেন। তবে এনজিওদের উপস্থিতির কারণে সাধারণ মানুষ অনেকটা সাহস নিয়ে কাজের মান নিয়ে কথা বলতে পারেন বলে জানান তিনি। এসব কমিটির মাধ্যমে ৪৩৪টি অভিযোগ পাওয়া গেছে। যার মধ্যে ৩৯৯টি সমস্যার সমাধান করা হয়েছে এবং ৩৫টি অভিযোগ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
সভায় সিপিটিউ মহাপরিচালক মো. শোহেলের রহমান চৌধুরী জানান, ২০১১ সালে ইজিপি বা অনলাইন টেন্ডারিং এবং মনিটরিং চালু হয়েছিল। ফলে ২০১৯ থেকে ২০২১ সালেন কোভিড পরিস্থিতিতে কোন টেন্ডার আহ্বান বন্ধ হয়নি। এর ফলে লিড টাইম ৮৭ দিন থেকে হ্রাস পেয়ে ৫৮ দিনে নেমে এসেছে। একই সময়ে সাশ্রয় হয়েছে ৬০০ মিলিয়ন ডলার। অনলাইন সিস্টেমের ফলে কার্বন নি:সরণ কমেছে ১ লাখ ৫৩ হাজার ৫৬৯ টন। তাছাড়া এই সিস্টেমিটি আইএসও সনদ পাওয়ায় নিরাপদ হিসেবে স্বীকৃত হয়েছে।
সভায় অংশ নিয়ে স্থপতি মোবাশ্বের হোসেন বলেন, প্রকল্পের শুরুতেই এলাকাবাসীর সঙ্গে ইট-বালুর মান নিয়ে আলোচরা করা যায়। ব্যবসায়ী প্রতিনিধি আলমাস কবির সেবাখাতকে ইজিপিতে অন্তর্ভূক্ত করার দাবি জানিয়ে প্রতিটা প্রজেক্টে আলাদা স্যোসাল মিডিয়া পেজ তৈরি করে মতামত নেয়া পরামর্শ দেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান এমপি ৪৮টি থেকে বাড়িয়ে আরো বেশি জায়গায় নগরিক কমিটির মাধ্যমে মনিটরিং জোরদারের আহ্বান জানান। সরকার জবাবদিহিতা, স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে চায় বলেন জানান তিনি। সময় মন্ত্রী স্থানীয় সরকার বিভাগের প্রকৌশলীদের মুক্তভাবে কাজ করতে দেয়া হচ্ছে না বলে অভিযোগ করেন। সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী ড. শামসুল ইসলাম বলেন, সরকারের স্বচ্ছতার প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে ই-টেন্ডার চালু হয়েছে। ফলে জবাবদিহিতার জায়গা জোরালো হয়েছে।









