কৃষিমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ড. মো. আব্দুর রাজ্জাক বলেছেন, যে কোন মানুষের, সে সরকারি দলের হোক বা বিরোধী দলের হোক, নিরাপত্তা দেয়ার দায়িত্ব পুলিশের, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর। বিএনপি যদি মনে করে তারা লাঠি দিয়ে আত্মরক্ষা করবে, তাহলে তারা ভুলপথে আছে। লাঠি নিয়ে বা লাঠিতে পতাকা বেঁধে সমাবেশ, মিছিল- মিটিং করা সরকার মেনে নেবে না। শুক্রবার বিকেলে টাঙ্গাইল শহরের শহীদ স্মৃতি পৌরউদ্যানে শহর আওয়ামী লীগের ত্রিবার্ষিক সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে কৃষিমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, বিএনপিকে শান্তিপূর্ণ আন্দোলন করতে হবে, নাহলে লাঠি দিয়ে আত্মরক্ষা হবে না বলে মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেন, জাতীয় বা সামাজিক যে কোন সমস্যা নিয়ে সমাবেশ, মিছিল, মিটিং করা ও প্রতিবাদ জানান যে কোন রাজনৈতিক সংগঠন বা দলের মৌলিক অধিকার। তবে আমাদের সংবিধানে সুস্পষ্টভাবে বলা আছে, এসব সমাবেশ, মিছিল-মিটিং সুশৃঙ্খল হতে হবে, শান্তিপূর্ণ হতে হবে। কোনক্রমেই মানুষের জীবনমালের উপর হুমকি বা ঝুঁকি সৃষ্টি করা যাবে না। তবে আমরা দেখছি, বিএনপি সমাবেশ করে মানুষের জীবনমালকে হুমকিতে ফেলছে, সমাবেশ করতে এসেই পুলিশের উপর আক্রমণ করছে। তখন পুলিশ বাধ্য হয়ে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করে বিএনপিকে নিবৃত্ত করার জন্য আমি অনুরোধ করব, আপনারা শান্তিপূর্ণভাবে সমাবেশ, মিছিল- মিটিং করেন, নাহলে লাঠি দিয়ে আত্মরক্ষা করতে পারবেন না।
মন্ত্রী আরও বলেন, বিএনপি মিথ্যাচার করে দেশে অ¯ি’তিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টির চেষ্টা করছে। তারা ২০১৩ সালে আবার ফিরে যেতে চাচ্ছে। তারা নির্বাচনে যাবে না, বরং গাড়িতে আগুন দিবে, ট্রেনে আগুন দিবে, জীবন্ত মানুষকে পুড়িয়ে মারবে, বিদ্যুতের লাইন তুলে ফেলবে। আমরা কোনক্রমেই এটা করতে দিব না। মানুষের জানমালের নিরাপত্তার জন্য যা যা করা দরকার, সরকার তাই করবে। আমাদের আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এখন অনেক সুশৃঙ্খল ও সক্ষম। আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদেরও দায়িত্ব পুলিশকে সহযোগিতা করা।
বেলুন ও পায়রা উড়িয়ে সম্মেলনের উদ্বোধন করেন জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি একুশে পদকপ্রাপ্ত ফজলুর রহমান খান ফারক। শহর আওয়ামী লীগের সভাপতি পৌর মেয়র এসএম সিরাজুল হক আলমগীর সভাপতিত্বে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন, কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সংসদ সদস্য মির্জা আজম, মহিলা ও শিশু বিষয়ক সম্পাদক মেহের আফরোজ চুমকি, কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সদস্য এবিএম রিয়াজুল কবির কায়ছার, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বীরমুক্তিযোদ্ধা জোয়াহেরুল ইসলাম (ভিপি জোয়াহের) এমপি, সংসদ সদস্য ছানোয়ার হোসেন, সংসদ সদস্য তানভীর হাসান ছোট মনির, বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগের সিনিয়র প্রেসিডিয়াম সদস্য মামুনুর রশিদ প্রমুখ। সম্মেলনে জেলা ও সদর আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ, স্বেচ্ছাসেবকলীগ, মহিলা লীগসহ বিভিন্ন সহযোগী অঙ্গ সংগঠনের নেতাকমীরা উপস্থি ছিলেন।









