নাটোরের নর্থ বেঙ্গল সুগার মিল ও নাটোর সুগার মিলে উৎপাদিত ১৬ হাজার ১০০ মেট্রিক টন চিনি এখনো বিক্রি হয়নি। অবিক্রিত এ চিনির মূল্য প্রায় ১০০ কোটি টাকা।
ফলে মৌসুম শেষে পাঁচ মাস অতিবাহিত হলেও মিল কর্তৃপক্ষ আখ চাষিদের বকেয়া পাওনা প্রায় ১৯ কোটি টাকা এখনো পরিশোধ করতে পারেনি।
ফলে করোনার এ দুঃসময়ে আখ বিক্রির টাকা না পেয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন এ দুই সুগার মিলের (চিনিকল) প্রায় ২০ হাজার আখ চাষি। মিল কর্তৃপক্ষ শুধু আশ্বাসই দিয়ে যাচ্ছে, কিন্তু আখ চাষিদের পাওনা টাকা পরিশোধে কোনো অগ্রগতি নেই বলে অভিযোগ তুলেছেন চাষিরা।
এছাড়া গত এপ্রিল মাস থেকে বেতন ভাতা না পেয়ে এ দুই সুগার মিলের কয়েকশ' কর্মকর্তা-কর্মচারীও মানবেতর জীবনযাপন করছেন। এমনকি কোনো কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারী অবসরে গেলেও তাকে প্রাপ্য টাকার পরিবর্তে চিনি নেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
তবে মিল কর্তৃপক্ষ বলছে, চিনি বিক্রি না হওয়ায় তাদের পর্যাপ্ত পরিমাণ চিনি মজুদ রয়েছে। ফলে সময়মতো চিনি বিক্রি করতে না পারায় একদিকে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন দেওয়া যাচ্ছে না। অপরদিকে আখ চাষিদের পাওনা টাকাও পরিশোধ করা সম্ভব হচ্ছে না।
এ পরিস্থিতিতে কৃষকরা আখ চাষে আগ্রহ হারিয়ে ফেলবেন। এতে আসন্ন ২০২০-২১ মৌসুমে প্রয়োজনীয় আখ সংকটের শঙ্কা দেখা দেবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ফলে আগামীতে চিনি উৎপাদনও বাধাগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। সরকারিভাবে এ বিষয়ে দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে সংকট আরো ঘনীভূত হবে।
এদিকে বকেয়া টাকা আদায়ে চিনিকল কর্তৃপক্ষকে বাধ্য করতে আন্দোলনে নেমেছেন নাটোর সুগার মিলের আখ সরবরাহকারী চাষিরা। সম্প্রতি নাটোর সুগার মিলের সাব জোন অফিসগুলোতে সদর, আহমেদপুর, নলডাঙ্গা, দত্তপাড়া, বাসুদেবপুরসহ বিভিন্ন এলাকার আখচাষিরা বিক্ষোভের পর তালা ঝুলিয়ে দিয়েছেন।
নাটোর সুগার মিলের মহাব্যবস্থাপক মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, করোনা পরিস্থিতির কারণে চিনি আমদানি-রফতানি, এমনকি অভ্যন্তরীণ বাজারে বিক্রি কার্যক্রম স্থবির হয়েপড়েছে। এছাড়া বেসরকারি মিলের চিনির দাম বাজারে কম। এ কারণে আমাদের চিনি কাঙ্ক্ষিত পরিমাণে বিক্রি হয়নি। তবে করপোরেশনের ট্রেড গ্যাপ অর্থ প্রাপ্তি সাপেক্ষে আগে চাষিদের বকেয়া টাকা ও চিনিকলের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বকেয়া বেতন পরিশোধ করা হবে।
আনন্দবাজার/এইচ এস কে/ টি কে









