কিশোর গ্যাং নিয়ে লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ কামরুজ্জামানের বিশেষ সাক্ষাৎকার
কিশোর গ্যাং বা স্কুল পড়ুয়া শিক্ষার্থী ও কম বয়সি ছেলেদের আড্ডা এবং কিশোরদের বিভিন্ন অপরাধ ঠেকাতে কাজ করছেন লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মোহাম্মদ কামরুজ্জামান। কিশোর অপরাধ ঠেকাতে জেলা প্রশাসক (ডিসি) আনোয়ার হোসাইন আকন্দের নির্দেশনা অনুসারে মাঠে কাজ করে যাচ্ছেন তিনি। দৈনিক আনন্দবাজারকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে কমলনগরে কিশোর গ্যাংয়ের অপরাধ নিয়ন্ত্রনে নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগ সর্ম্পকে জানিয়েছেন তিনি।
কিশোর গ্যাং সর্ম্পকে ইউএনও মোহাম্মদ কামরুজ্জামান বলেন, কিশোর মানেই নাবালক স্কুল পড়ুয়া শিক্ষার্থী। বয়স ১২-১৭ বছর। এ বয়সে পারিবারিক ও প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষায় নিজেকে তৈরি করা। তবে, পারিবারিক ও প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে সামাজিক অবক্ষয় ও অনৈতিক কার্যকলাপে জড়িয়ে পড়ে কিশোররা। এদের কাছে অপরাধ জগৎ মনে হয় রাজকীয় জীবন। এরা বিভিন্নস্থানে যেমন স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা, এছাড়াও তাদের সুবিধামত স্থানে আড্ডায় মেতে উঠে। এরা এতটাই আড্ডাবাজিতে মেতে উঠছে যে কোন অপরাধ তাদের মনকে আনন্দিত করে। কিশোর বয়সে এরা নিজেদের পরিবারে অপরাধ করতে থাকে। একটু ভিন্নতায় আশেপাশেও জড়িয়ে পড়ে। কিছুদিন পরে এরা সংঘবদ্ধ ভাবে হঠাৎ হিংস্র, নৃশংস ও বিভীষিকাপূর্ণরূপে ধরা দেয়। তখন খুন, ধর্ষণ ও ধর্ষণের পর হত্যার মতো হিংস্র ধরনের অপরাধে জড়িয়ে পড়ে। এবং সারা দেশে এমনটাই ঘটছে..।
তিনি আরও বলেন, কিশোর গ্যাং বা স্কুল, কলেজ ও কম বয়সি ছেলেদের যেখানেই আড্ডায় দেখা যাবে সেখানেই প্রশাসন তাদের আটক করছে এবং করবে। আটকের পরে শাস্তির বিষয়ে প্রাথমিকভাবে পরিবারের সঙ্গে আলাপ করে ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। প্রতিদিন উপজেলা প্রশাসন এদের নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে।
এছাড়াও স্কুল, কলেজ বা উপজেলার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সভা-সেমিনার করা হচ্ছে। পারিবারিক নিয়ন্ত্রণে এদের নিয়ন্ত্রন করা সহজ বলেও তিনি বলেন। অভিভাবকদের সচেতন করলেই এদের নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। আপনার ছেলে কোথায়, কার সঙ্গে আড্ডা দিচ্ছে এবং রাতে কখন বাড়ি ফিরছে, দেরিতে কেন ফিরছে। কম বয়সি ছেলে-মেয়েদের হাতে মোবাইল না দেয়া। এদের পোশাকে কি ধরণের পরিবর্তন হচ্ছে খেয়াল রাখা, এদের বাহ্যিক আচরণে লক্ষ রাখা, এরা অতিরিক্ত টাকা-পয়সা কি করছে, এসব টুকিটাকি বিষয়ে পরিবারকে অবশ্যই খেয়াল রাখতে হবে। এসব বিষয়ে একটু সচেতন হলে কিশোরদের অপরাধ জগৎ থেকে ফেরানো সম্ভব হবে, তিনি মনে করেন।
কিশোররা শুধু অপরাধ নয়, এরা মাদকেও আসক্ত হচ্ছে। পরিসংখ্যানে দেখা যাচ্ছে দেশের ২০ শতাংশ তরুণেরা মাদকাসক্ত। এরা আড্ডায় অপরাধ করতে করতে কঠিন মাদকের আটকা পড়ছে। যেখান থেকে আর ফিরে আসা সম্ভব হয় না। তাই তিনি আবারও বলেন, পরিবারিক সচেতনায় পারে কিশোরদের অপরাধ ও মাদক থেকে রক্ষা করতে।
প্রতিদিনের চিত্রে দেখা যায়, কিশোররা শুধু নিজেদের মধ্যে অপরাধ করছে না। পরবর্তীতে এদের দিয়ে দেশে একশ্রেণির মুখোশধারীরা যেমন খুশি তেমন অপরাধ করাচ্ছে। এদের আইনের আওতায় আনা খুবই মুশকিল হচ্ছে। কারণ কিশোরদের আইনি জটিলতা ভিন্ন। তাই সুবিধাভোগীরা সুবিধা নিচ্ছে। তবে প্রতিনিয়ত যে হারে কিশোররা অপরাধে পা দিচ্ছে। এদের লাগাম নিয়ন্ত্রণ করতে না পারলে ভবিষ্যতে বিপদ হবে ভয়াবহ। অন্ধকারে নিমজ্জিত হবে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম। পরিশেষে, তিনি কিশোর গ্যাং ও কিশোর অপরাধ নিয়ন্ত্রণে সবার সহযোগিতা কামনা করেন।









