- এক মাসে মারা গেছেন ৮ জন
কয়েদিনের হিমেল হাওয়া ও কনকনে ঠান্ডায় গাইবান্ধায় দেখা দিয়েছে শীতজনিত নানা রোগব্যাধি। গত সাতদিনে প্রায় সহস্রাধিক শিশু ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিচ্ছে গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতলে। ঠান্ডাজনিত রোগে মারা গেছে আট শিশু। রোটা ভাইরাসে আক্রান্ত শিশু রোগির চাপে চিকিৎসা সেবা দিতে হিমশিম খাচ্ছেন হাসপাতালের নার্সরা। এরই প্রেক্ষিতে মায়েদের পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন থাকার পাশাপাশি পরামর্শ চিকিৎসকদের।
সরেজমিনে দেখা যায়, গাইবান্ধার সদরসহ বিভিন্ন উপজেলার গত সপ্তাহে প্রায় ২০০ রোগি ভর্তি হয়েছে ডায়রিয়ায় গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালে। শিশুদের মধ্যে ডায়রিয়া, আমাশয়, নিউমোনিয়া ছাড়াও শীতজনিত রোগের প্রকোপ বৃদ্ধি পাচ্ছে। প্রতিদিন গড়ে অন্তত ৬০ জন শিশু চিকিৎসা নিতে এলেও হাসপাতালে বিছানা সংখ্যা কম থাকায় তাদের সিঁড়ির নিচে অথবা মেঝেতে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে। বিছানা সংকটের কারণে শিশুরোগীকে সার্বক্ষণিক মায়ের কোলে রেখে চিকিৎসা দিতে হচ্ছে। এতে অভিভাবকরা শংকিত হয়ে পড়েছে। অন্যদিকে শহর ও গ্রামঞ্চলের দূর-দূরান্ত থেকে অভিভাবকরা কোলে করে অসুস্থ্য শিশু নিয়ে আসছেন গাইবান্ধার শহরের শিশু ডাক্তার ও হাসপাতালের শিশু বিভাগে। জেনারেল হাসপাতারের ডায়রিয়া রোগির জন্য বরাদ্দ ২০টি বেডে স্থান সংকুলান না হওয়ায় শিশুদের মেঝে, সিঁড়ির উপরে ও নিচে অবস্থান নিয়ে চিকিৎসা নিতে হয়। হাসপাতালে ভিড় করছে অসংখ্য শিশুরোগির অভিভাবক। এ ছাড়াও শিশু বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক না থাকায় অসুস্থ্যশিশুকে নিয়ে যেতে হয় রংপুর ও রগুড়ায়। তাদের ব্যক্তিগত চেম্বারে অসুস্থ্যশিশুদের নিয়ে ভিড় করেন স্বজনরা।
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, গত এক মাসে শীতজনিত জ্বর, শ্বাসকষ্ট, ডায়রিয়া, নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে আব্দুলস্নাহ (৩ দিন), মোনালিসা (৬ মাস), আল-মামুন (একমাস), আরাফাত (৭ মাস), নিউমোনিয়া শিশু (৪ঘন্টা), জিনিয়া (দেড়মাস), আব্দুল্যা (৫দিন), নিউমোনিয়া শিশু (একঘন্টা) মারা গেছে।
গাইবান্ধা সদর উপজেলার মালিবাড়ী ইউনিয়নের লিটন মিয়া বলেন, হঠাৎ করে কয়েদিনে ঠান্ডাজনিত রোগে আমার মেয়ে ড়ায়রিয়া আক্রান্ত হয়ে পড়ে। রাতেই গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করাই। হাসপাতালে আসার পর জরুরি বিভাগ থেকে একটা সেলাইন লাগিয়ে দেয়। তার পর থেকে আর কোনো ঔষধ নাই। এমন অবস্থায় প্রায় দুই দিন থেকে পড়ে আছি হাসপাতালে। কোথায় পাবেন ডাক্তার, কোথায় পাবেন ঔষধ ।
একই উপজেলার মালিবাড়ী ইউনিয়নের আশরাফ মিয়া বলেন, শীতজনিত শিশু ড়ায়রিয়ার প্রকোপ বৃদ্ধি পাওয়ায় ধারণ সংখ্যার অতিরিক্ত শিশু হাসপাতারে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে। আমরা এক বিছানায় ৭ জন করে শিশুকে নিয়ে চিকিৎসা সেবা নিতে হচ্ছে। রাতে ঘুমাতে পারি না। সারারাত জেগে কাটাতে হয়। সকাল হইলে ময়লায় থাকা যায় না এ হাসপাতালে।
হাসপাতালের সিনিয়র স্টাফ নার্স আরিফা বেগম বলেন, বর্তমানে হাসপাতালে হঠাৎ করে শিশু রোগির সংখ্যা বেড়ে গেছে। এতে প্রয়োজনীয় সেবা দিতে হিমসিম খেতে হচ্ছে। হাসপাতালের ডায়রিয়া ওয়ার্ডে ২০টি বেডের স্থলে প্রতিদিন চিকিৎসা নিচ্ছে ৬০ থেকে ৭০ রোগি। এছাড়া আউটডোরেও চিকিৎসা নিয়ে চলে যাচ্ছে অনেকে।
হাসপাতালের জুনিয়র কনসালটেন্ট (শিশু) ডা. আবুল আজাদ মন্ডল বলেন, শীতকালীন রোটা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে প্রতিদিন শিশু রোগির সংখ্যা বাড়ছে। শীতকালিন বিভিন্ন রোগ থেকে শিশুদের রক্ষায় মায়েদের আতংকিত না হয়ে পরিস্কার পরিচ্ছন্ন ও সচেতন হওয়ার পরামর্শ তার। এছাড়া শীতে শিশুদের বিশেষ যত্ন নেওয়ারও পরামর্শ দেন তিনি।
তত্ববধায়ক ডা. মাহবুব হোসেন জানান, আমরা সাধ্যমত চিকিৎসা দিচ্ছি। ইনডোর-আউটডোরে অসংখ্য শীতজনিত রোগে আক্রান্ত ব্যক্তি চিকিৎসা নিচ্ছে। বিশেষ করে শীতজনিত শিশু ডায়রিয়ার প্রকোপ বৃদ্ধি পাওয়ায় ধারণ সংখ্যার অতিরিক্ত শিশুকে হাসপাতালে চিকিৎসা দিতে হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, যেসব রোগি মারা গেছে, হাসপাতালে ভর্তির আগে থেকেই তাদের অবস্থা অত্যন্ত খারাপ ছিলো।
আনন্দবাজার/এম.আর









