ছেলে-মেয়েদের মেধা বিকাশের সুযোগ করে দিয়ে তাদের যুগোপযোগী শিক্ষা প্রদান এবং কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করাই সরকারের অন্যতম লক্ষ্য। যাতে ৪র্থ শিল্পবিপ্লবের প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে পারে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
তিনি বলেন, প্রত্যেকটি উপজেলায় একটি করে সরকারি স্কুল এবং কলেজ করা হয়েছে। সঠিকভাবে প্রশিক্ষণের সুযোগ সৃষ্টি করতে সময়োপযোগী শিক্ষা গ্রহণ করতে হবে। কেবল গতানুগতিক ডিগ্রি নিলেই হবে না। বিশেষ করে বিজ্ঞান ও চিকিৎসা শাস্ত্রে গবেষণার ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।
গতকাল রবিবার ২০২১ সালের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফল প্রকাশ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে রাজধানীর সেগুনবাগিচার আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সংযুক্ত হন।
তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, পরিস্থিতির উপর নির্ভর করে চলতি মাসের শেষের দিকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো পুনরায় খুলে দেয়া সম্ভব হবে। এখন একটু খারাপ সময় গেলেও মাসের শেষে অবস্থার একটু পরিবর্তন হবে। তখন আমরা স্কুল-কলেজসহ সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান আবার খুলে দিতে পারবো।
টিকা গ্রহণে অনেকের অনীহার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো খুলতে টিকাদান কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। কাজেই যারা এ পর্যন্ত টিকা নেননি তাদের প্রতি অনুরোধ থাকবে-আপনারা টিকা নিয়ে নেবেন। এই টিকা নিলে পরে করোনা ধরলেও সেটা তেমন খারাপ পর্যায়ে যাবে না।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, তাঁর সরকার ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ে তুলেছিল বলেই করোনাকালেও অনলাইনে এবং টেলিভিশনের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের পাঠদান অব্যাহত রাখতে সমর্থ হয়েছে। তথাপি এই করোনাকালে সব থেকে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে শিক্ষার্থীরা।
তিনি বলেন, বর্তমানে পরিবারগুলো ছোট হয়ে আসার পাশাপাশি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যেতে না পাড়ায় অনেক ক্ষেত্রেই শিক্ষার্থীকে একাকীত্বে ভূগতে হয়েছে।
সরকার প্রধান বলেন, অনলাইন বা টেলিভিশনে তার সরকার শিক্ষার ব্যবস্থা করেছে সেটা ঠিক কিন্তু স্কুল কলেজ বা বিশ^বিদ্যালয়ে গিয়ে শিক্ষার যে নির্মল আনন্দ প্রাপ্তি তা থেকে শিক্ষার্থীরা বঞ্চিত ছিল। যখনই করোনাকে একটু নিয়ন্ত্রণে আনতে পেরেছি তখনই স্কুলগুলো চালু করেছিলাম। ২০২১ সালের ১২ সেপ্টেম্বর থেকে সরাসরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম শুরু করা হয়। কিন্তু ২০২২ সালে এসে এই ফেব্রুয়ারি মাসের আগ থেকে আবার ওমিক্রন ভ্যারিয়েন্টে মৃত্যুহার বৃদ্ধি পাওয়ায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দিতে হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৯৯৬ সালে প্রথমবার সরকার গঠনের পর দেশে বিজ্ঞান শিক্ষার প্রতি অনীহা প্রত্যক্ষ করে তাঁর সরকার বিজ্ঞান শিক্ষায় ওপর গুরুত্ব দেয় এবং দেশে ১২টি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেয়। পাশাপাশি ২০০৯ সালে সরকার গঠনের পর শিক্ষার বহুমুখীকরণের অংশ হিসেবে জেলায় জেলায় সরকারি ও বেসরকারি খাতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নিয়েছে। যার মধ্যে রয়েছে- বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, কৃষি বিশ^বিদ্যালয়, ডিজিটাল বিশ্ববিদ্যালয়, ফ্যাশন ডিজাইন বিশ্ববিদ্যালয়সহ টেক্সটাইল, আরবি, মেরিটাইম, এভিয়েশন এন্ড এরোস্পেস বিশ^বিদ্যালয় এবং বিভাগীয় পর্যায়ে একটি করে মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় করে দেয়ার উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।









