শীটের আগমনে বর্তমানে ব্যস্ত সময় পার করছেন টাঙ্গাইলের বাসাইল উপজেলার শাল চাদরের তাঁতিরা। তবে চলতি বছর কয়েক দফা বন্যা ও করোনায় লাখ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে তাঁত মালিক ও শ্রমিকদের। ফলে সরকারের কাছে প্রণোদনার দাবি জানিয়েছেন তারা।
জানা গেছে, আসন্ন শীতকে কেন্দ্র করে অনেকদন পর আবারও খটখট শব্দে মুখরিত হচ্ছে টাঙ্গাইলের তাঁত পল্লী। ফলে শীতের জন্য আগাম প্রস্তুতি নিচ্ছেন চাদর প্রস্তুত কারিগররা। ভোর থেকে শুরু করে রাত পর্যন্ত নয়ন তারা, মনিপুরি, হাই চয়েজ, ফ্লক প্রিন্টসহ প্রায় ২৫ রকম ডিজাইনের চাদর তৈরি করছেন তাঁতিরা।
তাঁত মালিকরা বলেন, করোনায় দেশব্যাপী লকডাউন এবং সাম্প্রতিক বন্যায় উৎপাদন বন্ধ রাখতে হয়েছে তাদেরকে। ফলে লাখ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। ফলে বর্তমানে উৎপাদন বাড়িয়ে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছেন তারা। তবে, ভারতসহ নানা দেশ থেকে শাল চাদর দেশে ঢুকে পড়ায় তারা বাজারে খুব একটা সুবিধা করতে পারেন না। কিন্তু তাদের আশা শিগগিরই করোনার আগের অবস্থানে ফিরতে পারবেন।
তাঁত শ্রমিকরা বলেন, অনেকদিন পর আবারও কাজে যোগ দিয়েছেন তারা। আর এই কাজ শুরু হওয়ায় বর্তমানে অন্তত পরিবারের দৈনন্দিন খরচ যোগাতে হিমশিম খেতে হবে না বলে মনে করেন তারা।
তাঁত বোর্ড কর্মকর্তারাদের দাবি, তাঁতীদের স্বল্প পরিসরে ঋণ সহায়তা দেওয়া হয়। এ বিষয়ে বাংলাদেশ তাঁত বোর্ড বেসিক সেন্টার'র লিয়াজোঁ অফিসার মো. রবিউল ইসলাম বলেন, অধিকাংশ সময় ৫০ হাজার টাকা করে দেওয়া যায়। সেমি অটোমেটেড কারখানায় ১৩ হাজার থেকে ৬৫ হাজার টাকা করে দেওয়া হচ্ছে।
উল্লেখ্য, জেলার বাসাইল, দেলদুয়ক্ষ এবং মির্জাপুর উপজেলায় চাদর তৈরির তাঁত রয়েছে প্রায় সাড়ে ৫ হাজার। এতে কাজ করেন ১১ হাজার শ্রমিক। দেশে প্রতি বছর প্রায় ২৫ কোটি চাদর উৎপাদন হয়।
আনন্দবাজার/এইচ এস কে









