মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগরে মাছ শিকারীদের কাছে এখনও টেঁটার প্রচুর চাহিদা রয়েছে। অঞ্চলের খাল, বিল, পুকুর, নদী নালাসহ জলাশয়গুলোতে আষাঢ়ের জোয়রের পানিতে থৈ-থৈ করছে। নদীর ঘোলা পানির সাথে বিভিন্ন প্রজাতির মাছও খালে বিলে আসতে শুরু করেছে। এতে মাছ শিকারীরা টেটা কিনতে ভিড় জমাচ্ছেন। টেটার চাহিদা থাকায় শ্রীনগর সদরে উপজেলা রোডের দেউলভোগে বেশ কয়েকটি বাণিজ্যিকভাবে টেটা তৈরীর কারখানা গড়ে উঠেছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, এসব কারখানার সামনের বিভিন্ন ধরনের টেটা, বাঁশের কুড়া ও বড়শির ছিপের পসরা সাজিয়ে বসছেন দোকানীরা। রেডিমেট টেটা ও মাছ ধরার অন্যান্য উপকরণ সামগ্রী কিনতে বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষ আসছেন। রাস্তার পাশে টেটা তৈরীর ১০ থেকে ১২টি কারখানা রয়েছে। এখানে পাইকারী ও খুচরাভাবে বিক্রির করা হচ্ছে মাছ শিকারের এসব সামগ্রী। দেখা যায়, ফুলকুচি টেটা বিক্রি ১৫০-৩০০ টাকা। দামলা কালিটেটা ২০০-৪০০ টাকা, জুতিটেটা সাইজ ও আকার ভেদে ৫০০-১০০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি করা হচ্ছে। এছাড়া বিভিন্ন ধরণের বাঁশের কুড়া বিক্রি হচ্ছে ১০০-২০০ টাকা। বড়শির ছিপ বিক্রি আকার ভেদে বিক্রি হচ্ছে ৫০-১০০ টাকা দরে। এছাড়াও ক্রেতাদের পছন্দ মত কারখানায় টেটার অর্ডার নেওয়া হচ্ছে। লক্ষ্য করা যায়, টেটা তৈরীর কাজে শ্রমিকরা ব্যস্ত সময় পাড় করছেন। ব্যস্ত সময় পার করছেন শ্রমিকরা। এ কাজে প্রত্যেক শ্রমিক দৈনিক মজুরী পাচ্ছেন ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা।
ক্রেতারা জানায়, জেলার মধ্যে শ্রীনগর এখন টেটার জন্য বিখ্যাত হয়ে উঠছে। মাছ শিকারের ঐতিহ্যবাহী নানা ধরনের টেটা পাওয়া যাচ্ছে এখানে। দেউলভোগে টেটার খুঁজে আসছেন তারা। তুলনামূলকভাবে এখানে টেটার দামও কম। কারখানার শ্রমিক রিয়াদ হোসেন (২৩), প্রান্ত (২০), রুবেল (৩০) বলেন, বছরের এই সময়ে টেটা তৈরীর কাজে ব্যস্ততা বাড়ে। ভরাবর্ষা মৌসুম পর্যন্ত টেটার কারখানায় বিভিন্ন কাজকর্মে ব্যস্ত থাকবেন তারা।
মো. হাতেম মিয়া (৬৫) ও শহিদুল (৫০) বলেন, কারখানায় বিভিন্ন ধরনের রেডিমেট টেটা তৈরী করা হচ্ছে। টেটার পাশাপাশি মাছ ধরার অন্যান্য উপকরণ সামগ্রীও বিক্রি করছি। জেলার বিভিন্ন স্থান থেকে সাধারণ ক্রেতা, খুচরা ব্যবসায়ী ও পাইকার শ্রীনগরে আসেন টেটা কিনতে।









