আমনের বাম্পার ফলন হওয়ায় নীলফামারীর সৈয়দপুর উপজেলার ধানচাষিদের চোখে মুখে খুশির ঝিলিক দেখা দিয়েছে। চাষের লক্ষমাত্রা অর্জনে মাঠের ফসলের সোনালি আভা কৃষকসহ কৃষি অফিসের কর্মকর্তাদের চেহারাতেও ছড়িয়ে পড়েছে। আনন্দিত মনে ধান কাটায় মেতেছে পুরো উপজেলা। বাড়ি বাড়ি চলছে নবান্নের মহোৎসব।
কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, চলতি মৌসুমে সৈয়দপুর উপজেলায় আমন আবাদের লক্ষমাত্রা ছিল ৮ হাজার ২ শত ১৯ হেক্টর জমি। এর মধ্যে চাষ করা হয়েছে ৮ হাজার ২ শত ১০ হেক্টরে। আবহাওয়া অনুকুলে থাকায় এবং পোকার আক্রমণ কম হওয়ায় অত্যন্ত ভালো ফলন হয়েছে। ইতোমধ্যে ৮০ ভাগ জমির ধান কাটা সম্পন্ন করেছে আমন আবাদকারী কৃষকরা। গতবছরের তুলনায় এবার আশানুরূপ ফসল ঘরে তুলতে পেরে তারা বেজায় খুশি।
উপজেলার কামারপুকুর ইউনিয়নের অসুরখাই গ্রামে সোমবার সকালে গিয়ে দেখা যায় বেশিরভাগ জমির ধান কেটে নেয়া হয়েছে। কোন কোন জমিতে এখনও কাটা ধান রাখা হয়েছে শুকানোর জন্য। সামান্য কিছু জমিতে ধানগাছ দুলছে। মাঠজুড়ে নানা কাজে ব্যস্ত কৃষি শ্রমিকরা। কেউ ধান কাটছে, কেউ কাটাধান ঘরে নিয়ে যাচ্ছে।
আবার পাড়ায় পাড়ায় চলছে পালা দেয়াসহ মাড়াই, সিদ্ধ ও শুকানোর কাজ। এতে ব্যস্ত বাড়ির নারী-পুরুষ এবং দিনমজুররা। সেই সাথে চলছে নবান্ন উৎসব। নতুন ধানের চাল দিয়ে পিঠাপুলি, পায়েস তৈরী ও খাওয়ার ধুম। পাশাপাশি ধানকাটা জমির নাড়া ও ইঁদুরের গর্ত থেকে ধান সংগ্রহে চলছে শিশু কিশোর আর নারীদের প্রতিযোগিতা।
বোতলাগাড়ী ইউনিয়নের শ্বাষকান্দর ব্যঙমারীপাড়ার কৃষি শ্রমিক আরজ আলী বলেন, এবার দেশের অন্যান্য এলাকার চেয়েও ভালো চাষ হয়েছে সৈয়দপুরে। গতমাসে নাটোর, নওগাঁ, পাবনা, রাজশাহী, বগুড়ায় ধান কাটার কাজ করেছি। এখন এলাকাতেই বেশ মজা করেই ধান কাটছি। আবাদ বাম্পার হওয়ায় গৃহস্থ কাজের মূল্য দিতে আগের মত বেজার নয়। বরং ন্যায্যমজুরী পাচ্ছি।
মাঠে ধানকাটাবস্থায় খাতামধুপুর ইউনিয়নের হামুরহাটের কৃষক হামিদুল বলেন, সিংহভাগ জমির ধান ইতোমধ্যে কাটা শেষ হয়েছে। অত্যন্ত নিচু ও দেরিতে চাষ করা জমিগুলোর ধান এখন কাটা হচ্ছে। একসপ্তাহের মধ্যেই সব শেষ হবে। তিনি বলেন, এই মৌসুমে সবাই ভালো ফলন পেয়েছে। আমার আবাদও আশামতই হয়েছে। এবার ধান বেঁচে খরচ তোলার পরও বেশ লাভ হবে।
সৈয়দপুর উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অফিসার মো. সালাহউদ্দিন বলেন, একদিকে আবহাওয়া অনুকুলে ছিল। তার উপর কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা সব সময় কৃষকদের পরামর্শ ও সহযোগীতা করায় সঠিক সময়ে ধান রোপণ, পরিচর্যা, বালাই নাশক ব্যবহার করায় বাম্পার ফলন সম্ভব হয়েছে। তিনি বলেন, এবার অতিরিক্ত বৃষ্টি না হওয়ায় পোকামাকড়ের আক্রমণ অনেক কম হয়েছে। ফলে ফসল নষ্ট হয়নি। তাই পুরো ধানই কৃষক ঘরে তুলতে পেরেছে। আমরা সচেতনতা সৃষ্টির জন্য মাঠদিবস, উঠান বৈঠক করে ব্যাপকভাবে কার্যক্রম চালিয়েছি। শেষদিকে ইঁদুর নিধন কর্মসূচি পালন করেছি। সবমিলিয়ে চলতি আমন আবাদ খুব ভালো হয়েছে।









