- উৎপাদন বাড়ানো গেলে আমদানির প্রয়োজন হবে না
- দেশে বছরে ১৫ হাজার মেট্রিক টন গ্রীষ্মকালীন টমেটো উৎপাদিত হচ্ছে
বর্তমানে দেশে বছরে ১৫ হাজার মেট্রিক টন গ্রীষ্মকালীন টমেটো উৎপাদিত হচ্ছে। পাশাপাশি বাইরের দেশ থেকে প্রায় ২০ হাজার মেট্রিক টন টমেটো আমদানি করতে হচ্ছে। দেশে গ্রীষ্মকালীন টমেটোর উৎপাদন বাড়ানো গেলে কৃষকেরা যেমন লাভবান হবে একই সাথে টমেটো আমদানি করার প্রয়োজন হবে না। এ বছর বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইন্সটিটিউট (বারি’র) পক্ষ থেকে নিজেদের উৎপাদিত হাইব্রিড টমেটোর বীজ কৃষকদের মাঝে সরবরাহ করা হয়েছে এবং আগামীতেও কৃষকদেরকে গুণগত মানসম্পন্ন বীজ তুলে দিতে চাই। আর এ জন্য প্রয়োজনে বিশেষ বরাদ্দ প্রদান করবো।
গত শনিবার যশোরের বাঘারপাড়া উপজেলার বলরামপুর গ্রামে বারি উদ্ভাবিত গ্রীষ্মকালীন হাইব্রিড টমেটোর উপর মাঠ দিবসে অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (বারি)’র মহাপরিচালক ড. দেবাশীষ সরকার প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন। বারি’র আঞ্চলিক কৃষি গবেষণা কেন্দ্র যশোর এবং বাংলাদেশে গ্রীষ্মকালীন টমেটোর অভিযোজন পরীক্ষা, উৎপাদন ও কমিউনিটি বেস্ড পাইলট প্রোডাকশন প্রোগ্রাম শীর্ষক কর্মসূচীর অর্থায়নে মাঠ দিবসের আয়োজন করা হয়। বারি’র প্রটোকল অফিসার আল আমিন সোমবার দুপুরে এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
বারি’র পরিচালক (পরিকল্পনা ও মূল্যায়ন) ড. অপূর্ব কান্তি চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন বারি’র গাজীপুরের মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা (সরেজমিন গবেষণা বিভাগ) ড. মাজহারুল আনোয়ার, খুলনার প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা (সরেজমিন গবেষণা বিভাগ) ড. হারুনর রশিদ, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের যশোরের উপ-পরিচালক মনজুরুল হক, গাজীপুরের ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ও বাংলাদেশে গ্রীষ্মকালীন টমেটোর অভিযোজন পরীক্ষা, উৎপাদন ও কমিউনিটি বেস্ড পাইলট প্রোডাকশন প্রোগ্রাম শীর্ষক কর্মসূচীর পরিচালক (বারি’র সরেজমিন গবেষণা বিভাগ) ড. ফারুক হোসেন।
প্রধান অতিথি বারি’র মহাপরিচালক ড. দেবাশীষ সরকার বক্তব্যে আরো বলেন, ১৯৯৬ সালে বাঘারপাড়া উপজেলায় প্রথম গ্রীষ্মকালীন টমেটোর চাষাবাদের সূচনা হয়। বর্তমানে এ অঞ্চলে প্রায় ৩১ হেক্টর জমিতে বারি উদ্ভাবিত গ্রীষ্মকালীন হাইব্রিড টমেটোর বিভিন্ন জাত তথা বারি হাইব্রিড টমেটো ৪, ৮ ও ১১ চাষ করা হচ্ছে। এর মধ্যে বারি হাইব্রিড টমেটো-৮ জাতটি একটি মেগা ভ্যারাইটি। কারণ সারা দেশে এ জাতটি ইতোমধ্যে বিপুল জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে। বর্তমান কৃষি বান্ধব সরকার কৃষিকে লাভজনক কৃষিতে রূপান্তরিত করতে কাজ করে যাচ্ছে। একজন কৃষক প্রতি শতাংশ জমিতে গ্রীষ্মকালীন টমেটো চাষে ৭ হাজার টাকা খরচ করে ১৬ হাজার টাকা আয় করছে। ফলে এ ফসলটি কৃষকের জন্য খুবই লাভজনক। মাঠ দিবস অনুষ্ঠানে শতাধিক টমেটো চাষী অংশগ্রহণ করেন।









