মাছের ভান্ডার হিসাবে খ্যাত হাওরাঞ্চল নেত্রকোণার মদন। এক সময় মিঠা পানির বহু প্রজাতির মাছের দেখা মিলতো এখানে। উৎপাদিত মাছ এলাকার মানুষের চাহিদা মিটিয়ে পাঠানো হতো দেশের বিভিন্ন স্থানে। তবে, দিনদিনই হারিয়ে যাচ্ছে মিঠা পানির বহু প্রজাতির মাছ।
জানা যায়, এ উপজেলায় ৫টি হাওরে ছোট বড় অনকে বিল রয়েছে। ভরা মৌসুমে হাটবাজারগুলোতে মিঠা পানির বড় মাছে ভরপুর থাকার কথা। তবে, বর্তমানে হাটবাজারগুলোতে কয়েক প্রকারের পোনামাছ ছাড়া বড় মাছের আকাল দেখা দিয়েছে। ইতোমধ্যেই মিঠা পানির আইর-গুজি, চিতল, কাল বাউশ, রিটা, রুই, কাতল, মৃগেল, পাঙ্গাস, শোল-গজার, বাগাইর, গাং মুগুরসহ বহু প্রজাতির মাছ বিলুপ্ত হওয়ার পথে। বর্ষার পানি আসার সঙ্গে সঙ্গেই এক শ্রেণীর অসাধু মৎস্যশিকারি সরকার নিষিদ্ধ কারেণ্ট, কণা, মশারি জাল দিয়ে মা মাছসহ পোনামাছ নিধন করায় এবং শুকনো মৌসুমে বাঁশের বায়না দিয়ে ঘেরাও করে পানি শুকিয়ে বিষ প্রয়োগ করে মাছ ধরায় এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন পানি আসার সঙ্গে সঙ্গেই বিভিন্ন এলাকার অসৎ মৎস্যজীবিদের সঙ্গে আলোচনা করে মা ও পোনামাছ নিধন বন্ধ করতে প্রয়োজন প্রশাসনের উদ্যোগ। এতে মিঠা পানির মাছের জন্য বিখ্যাত এ অঞ্চলের লোকজন মিঠা পানির ছোট-বড় মাছের অভাব পূরণ করে পুষ্টিহীনতা থেকে রক্ষা পেত।
এছাড়া মদন উপজেলার উন্মুক্ত জলাশয়গুলোসহ সব জলাশয় মসজিদ-মাদ্রাসার নামে ইজারা পত্তন হয়ে যাওয়ায় দরিদ্র লোকজন ঠাক-ঠেলা জাল দিয়ে মাছ ধরার সুযোগ পাচ্ছে না। আর ইজারাদারগণ তাদের ইচ্ছা মাফিক পানি সেচ করে মাছ ধরছে।
তিয়শ্রী গ্রামের মৎস্যজীবি হরিদাস বর্মন, চন্দন বর্মনসহ অনেকে জানান, এখন জাল ফেলে মাছ ধরার কোনো স্থান পাচ্ছি না। এলাকার সবগুলো জলাশয় পত্তন দেয়ায় আমাদের জেলে পরিবারগুলো এ পেশা ছেড়ে অন্য পেশায় চলে যাচ্ছে। অল্প কিছু মাছ ধরলেও এখন আগের মতো মাছও পাওয়া যায় না।
মৎস্য কর্মকর্তা মো. কামরুল হাসান জানান, হাওর অঞ্চলে দেশীয় প্রজাতির মাছ কমে যাওয়ার অন্যতম কারণ হচ্ছে জলবায়ু পরিবর্তন, নদী ভরাট, অপরিকল্পিত চাষাবাদ, অবৈধ জাল ব্যবহার, আবাসস্থল ধ্বংস, নদীতে বাঁধ দিয়ে মা মাছ নিধন ইত্যাদি কারণে হাওরের মাছ দিন দিন কমে যাচ্ছে। হাওর অঞ্চলে দেশীয় প্রজাতির মাছ বৃদ্ধির জন্য মৎস্য দপ্তর থেকে নিয়মিত হাওরে অভিযান এবং মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হচ্ছ। বাজারে মনিটরিং করা হচ্ছে, জেলেদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য মত বিনিময় সভা, সচেতনমূলক সভা, মাইকিং, পোস্টার এবং লিফলেট বিতরণ করা হচ্ছে। মাছের বাজার এবং ঘাটে, দেশীয় মাছ বৃদ্ধির জন্য মদন উনিয়নের নাগডোরা বিলে অভয়াশ্রম বাস্তবায়িত হচ্ছে। নিষিদ্ধ জালের বিরুদ্ধে উপজেলা প্রশাসন, পুলিশ, আনসার এবং মৎস্য দপ্তরের সমন্বয়ে মোবাইল কোর্ট অব্যাহত আছে। আশা করি অচিরেই হাওর অঞ্চলে দেশীয় প্রজাতির মাছ ব্যাপকহারে বৃদ্ধি পাবে।









