করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে অর্থনৈতিকভাবে ঝুঁকিতে পড়া জনগোষ্ঠীর তালিকা প্রস্তুত করে সেনাবাহিনীর মাধ্যমে ত্রাণ বিতরণের দাবি জানিয়ে সরকারের কয়েকটি দপ্তরে উকিল নোটিস পাঠানো হয়েছে।
সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট সদস্য শিহাব উদ্দিন খান শনিবার সংশ্লিষ্টদের ই-মেইলে এ নোটিস পাঠিয়েছেন বলে জানা যায়।
এ আইনজীবী জানান, করোনাভাইরাসের এই প্রাদুর্ভাবের মধ্যে ত্রাণ বিতরণে বিভিন্ন অনিয়মের খবর পাওয়া যাচ্ছে গণমাধ্যম থেকে। অনেক জনপ্রতিনিধি ত্রাণের চালসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে ধরাও পড়েছেন। ত্রাণ বিতরণে এই যে অরাজকতা চলছে, এতে অর্থনৈতিকভাবে সবচেয়ে ঝুঁকির মধ্যে থাকা জনগণ যেমন বঞ্চিত হচ্ছে তেমিন সরকারের ভাবমূর্তিও নষ্ট হচ্ছে।
তাই জনপ্রতিনিধিদের পরিবর্তে সেনাবাহিনীর মাধ্যমে এই ত্রাণ বিতরণ কাজ পরিচালনার জন্য স্থানীয় সরকার ও পল্লী উন্নয়ন, স্বাস্থ্য ও পরিবার, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও খাদ্য মন্ত্রণালয়ের সচিবের পাশাপাশি বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর মহাপরিচালকে উকিল নোটিস দিয়েছি।
নানা দুর্যোগে সেনাবাহিনী সাফল্যের সাথে সরকারকে সহায়তা এবং জনসাধারণের আস্থা অর্জন করেছে উল্লেখ করে উকিল নোটিসে বলা হয়, বর্তমান পরিস্থিতিতে ত্রাণ বিতরণে বিভিন্ন অনিয়ম, সমন্বয়হীনতা, জনপ্রতিনিধি, ডিলারদের চাল চুরি, মজুদের চিত্র বিভিন্ন গণমাধ্যমে উঠে এসেছে। এ পর্যায়ে একমাত্র সেনাবাহিনীর মাধ্যমে এই ত্রাণ সরবরাহ ও বিতরণের কাজ যথাযথভাবে পরিচালনা করা সম্ভব।
তাই জনমনের আতঙ্ক, অনিশ্চয়তা দূর করতে আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে অর্থনৈতিকভাবে ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর তালিকা তৈরি করে সেনাবাহিনীর মাধ্যমে ত্রাণ সরবরাহ ও বিতরণের দাবি জানানো হচ্ছে।
ওই সময়ের মধ্যে সংশ্লিষ্টরা এ বিষয়ে যথাযথ উদ্যেগ না নিলে ত্রাণ বিতরণের অনিয়ম, সমন্বয়হীনতার চিত্র তুলে ধরে তাদের বিবাদী করে উচ্চ আদালতে জনস্বার্থে রিট আবেদন করা হবে বলে জানান এই আইনজীবী।
করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব মোকাবেলায় জনসাধারণকে ঘরে রাখা, সামাজিক দূরত্ব মেনে চলাসহ বিভিন্ন নির্দেশনা বাস্তবায়নে বেসামরিক প্রশাসনকে সহায়তা দিয়ে যাচ্ছে সশস্ত্রবাহিনীর সদস্যরা।
আনন্দবাজার/তা.তা









