- খোকনের সংসার
‘কুলফি নিবেন কুলফি, মজাদার কুলফি’-ক্রেতা আকর্ষণে এমন হাঁকডাক। নিজের বাড়িতে তৈরি এ কুলফি বেচে চলে তার সংসার। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত রাজবাড়ীর গ্রামের মেঠো পথে বাইসাইকেলে করে কুলফি আইসক্রীম নিয়ে ঘুরে বেড়ান খোকন মন্ডল(৩৫)।
জেলা সদরের পৌর এলাকার লক্ষ্মীকোল গ্রামের রাজ্জাক মন্ডলের বড় ছেলে খোকন মন্ডল। বৃদ্ধ বাবা-মা, ছোট ভাই-বোন, স্ত্রী ও এক মেয়ে নিয়ে খোকনের ৭ জনের সংসার। কর্মজীবনের শুরুতে খোকন রাজমিস্ত্রীর সহযোগী হিসেবে কাজ করলেও গত ৭ বছর ধরে গ্রামে গ্রামে ঘুরে কুলফি আইসক্রীম বিক্রি করছের। কুলফি বিক্রির সামান্য আয়ে চলে ৭ সদস্যের পরিবার।
আলাপকালে খোকনের চোখে মুখে ভেসে ওঠে ক্লান্তি আর হতাশার চাপ। এ হাতাশার কারণ বর্তমান বাজারে চাল, ডাল, তেল, সবজিসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যদ্রব্যের মূল্যবৃদ্ধি। খোকন বলেন, গত ৭ বছর ধরে আমি ফেরি করে গ্রামে গ্রামে ঘুরে কুলফি বিক্রি করি। এ কুলফি দুধ জাল দিয়ে আমি নিজেই তৈরি করি। প্রতিদিন ১০০ কুলফি বিক্রি হয়। প্রতিটি কুলফি আকার ভেদে ৫ টাকা থেকে শুরু করে ৩০ টাকা পর্যন্ত। কুলফি বেচে প্রতিদিন ৫শ’ টাকার মত আয় হয়। ভোর ৬টার দিকে বাড়ি থেকে বের হয়ে সন্ধ্যা পর্যন্ত বিক্রি করি। কুলফি তৈরির কাঁচামাল দুধের দাম বেড়েছে। পাশাপাশি বাজার থেকে বরফ কিনতে হয়। তাতে লবন দিতে হয়। সব মিলিয়ে লাভের পরিমান খুব কম। পরিবারে বৃদ্ধ বাবা-মা, ছোট ভাই-বোন, স্ত্রী ও এক মেয়ে নিয়ে আমার ৭ জনের সংসার। ছোট ভাই-বোন ও মেয়ের লেখাপড়ার খরচ চালাতে হয়। তারপর বাবা মায়ের খরচ। সব মিলিয়ে আমি আর পারছি না। বাজারে চাল, ডাল, তেল, আটা, শাক -সবজির দাম যে হারে বেড়েছে তাতে গরিব মানুষ খাবে কি। আমার মত অনেক মানুষ গরীব অসহায় রয়েছে। সরকারের কাছে আবেদন খাবারের দাম কমান। না হলে অসহায় গরীবরা না খেয়ে মরবে।









