অনলাইনে তুলনামূলক কম দামে বিক্রি হচ্ছে কোরবানির পশু। ডিএনসিসি’র ডিজিটাল হাটসহ প্রায় অর্ধশতাধিক সাইট থেকে এবার অনলাইনে বিক্রি হচ্ছে কোরবানির গরু।
বেশ আগে থেকেই অনলাইনে পশু বিক্রি শুরু হলেও ক্রেতাদের অনলাইন হাটের প্রতি আগ্রহ কম ছিল। তবে গত দু’দিন ধরে বিশেষ করে রাজধানীর হাটগুলো চালু হওয়ার পর অনলাইনে ঝুঁকতে শুরু করেছেন ক্রেতারা। হাটের দাম এবং অনলাইন ভিজিট করে গরুর দামের পার্থক্য দেখে অনেকেই অনলাইনে পশু কিনতে শুরু করেছেন।
সাধারণ গরুর হাটগুলো শুরু হলে অনলাইনে বেচাকেনা কমে যাবে বলেই অনেকে ধারণা করছিল। কিন্তু বাস্তবে দেখা যাচ্ছে এর বিপরীত চিত্র। সাধারণ হাটের চেয়ে ই-কমার্স শপগুলোতে দাম কম হওয়ায় হাট চালু হওয়ার এসব সাইটে বেচাকেনা দ্বিগুণ হয়ে গেছে।
ই-ক্যাবের সেক্রেটারি জেনারেল মোহাম্মদ আব্দুল ওয়াহেদ তমাল বলেন, আমরা আসলে ক্রেতাদের সামর্থ্যের কথা বিবেচনা করে গরু সংগ্রহে জোর দিয়েছি। আমাদের যারা খামারি ও উদ্যোক্তা রয়েছেন তাদের আমরা একটি মূল্যসীমা নির্ধারণ করে দিয়েছি। ফলে দাম বৃদ্ধির কোনো সুযোগ নেই। আমাদের এ মূল্যসীমা সারা দেশে পশুর বাজারের ওপর প্রভাব ফেলেছে। এটি একটি ইতিবাচক দিক। এ মূল্যসীমার কারণে এবারে গরুর দাম বাড়াতে পারবে না অন্যরা।
বাংলাদেশ ডেইরি ফার্ম অ্যাসোসিয়েশনের সেক্রেটারি জেনারেল মোহাম্মদ শাহ ইমরান বলেন, আমাদের বেশিরভাগ গরুই ডিজিটাল স্কেলে ওজন মাপা। যেসব গরু বাইরে থেকে আসবে সেগুলো ঈদের আগের দিন ওজন ও স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হবে। সুতরাং এখানে কোনো প্রতারণার সুযোগ নেই।
গরুহাট ডটকমের প্রধান নির্বাহী জনাব মোহাম্মদ শাহীন বলেন, আমরা প্রান্তিক কৃষকের কাছ থেকে গরু কিনছি। ফলে একদিকে কৃষক উপকৃত হচ্ছে অন্যদিকে ক্রেতারা সাধ্যের মধ্যে সেরা গরু পাচ্ছে। উপরন্তু, অনলাইনে হাসিল না থাকার কারণে ক্রেতারা আরও বেশি উৎসাহিত হচ্ছে। করোনার ব্যাপার তো আছেই।
ডিএনসিসি ও ই-ক্যাবের যৌথ উদ্যোগে পরিচালিত ডিজিটাল হাটে পাওয়া যাচ্ছে স্লটারিং সেবাও। এর মধ্যে রয়েছে- গরুর স্বাস্থ্য ও ওজন পরীক্ষা, ইসলামি বিধান অনুযায়ী গরু জবাই, পরিচ্ছন্নতা ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে মাংসকাটা, গরুর ভুঁড়ি পরিষ্কার, মাংস, পায়া, কলিজা ও মগজ ইত্যাদি ৪ কেজির নিরাপদ প্যাকে করে দ্রুত সময়ের মধ্যে বাসায় পৌঁছে দেয়া। এতে অন্যান্য সহযোগিতায় রয়েছে আইসিটি ডিভিশন ও বাংলাদেশ ডেইরি ফার্ম অ্যাসোসিয়েশন।
আনন্দবাজার/ডব্লিউ এস









