সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা উপজেলায় অতিবৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের পানিতে আকস্মিক বন্যা দেখা দিয়েছে। ফলে এ উপজেলার ১০টি ইউনিয়নের ৯০ভাগ সড়কই পানিতে তলিয়ে গেছে। বন্যার পানিতে গ্রামীণ সড়কগুলো ডুবে যাওয়ার কারণে সড়কের ওপর দিয়ে স্বাভাবিক যান চলাচল বন্ধ রয়েছে।
এ ছাড়া উপজেলায় অধিকাংশ পরিবারের লোকজনদের বসত ঘরের ভেতরে বন্যার পানি ঢুকে পড়ায় স্বাভাবিক জীবন যাপন ব্যাহত হচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা। পানি বাড়তে থাকার কারণে এসব পরিবারের লোকজন আশপাশের উঁচু বাড়িতে ও পাশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে আশ্রয় নিচ্ছেন। এলাকাবাসী ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এ উপজেলায় দুইদিন ধরে থেমে থেমে বৃষ্টি হচ্ছে। এ অবস্থায় অতিবৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা পাাহাড়ি ঢলের পানি গত শনিবার সকাল থেকে প্রবল বেগে প্রবেশ করতে শুরু করে। ফলে এ উপজেলায় অন্তত পাঁচ থেকে ছয় হাজার পরিবারের বসতঘরেভেতরে পানি ঢুকে পড়ে। পানি বন্দী এসব মানুষজনরা নিজেদের বসতঘরে কেউ কেউ মাচা তৈরি করে বসবাস করছেন। আবার কেউবা আশপাশের উঁচু বাড়িতে ও প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে গিয়ে আশ্রয় নিচ্ছেন। বন্যার পানির কারণে এ উপজেলার বেশির ভাগ সড়ক পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় স্বাভাবিক যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। সুখাইড় রাজাপুর উত্তর ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) চেয়ারম্যান ফরহাদ আহমেদ বলেন, আমার ইউনিয়নের অন্তত ৩০০ থেকে ৪০০টি পরিবার রয়েছে যাদের বসতঘর ও রান্নাঘরের ভেতরে হাঁটুপানি রয়েছে। এসব পরিবারের লোকজন পাশের উঁচু বাড়িঘর ও বিদ্যালয়ে আশ্রয় নিচ্ছেন। তাঁদের জন্য সরকারি ত্রাণ সহায়তা একান্ত প্রয়োজন। মধ্যনগর ইউনিয়ন পরিষদ ( ইউপি) চেয়ারম্যান প্রবীব বিজয় তালুকদার বলেন, আমার ইউনিয়নের ৩৮টি গ্রাম রয়েছে। এগুলোর মধ্যে বৈঠাখালী নতুন পাড়া, গলুই খালী নয়াপাড়া, কলমা পুরানপাড়া, সাইলানী নতুন পাড়াসহ সাতটি গ্রামে পাঁচ শতাধিক বসতঘরের ভেতরে পানি ঢোকে পড়েছে। অন্যান্য গ্রামগুলোতেও পানি ঢুকছে। আমার ইউনিয়নের অন্তত ৫০টি পরিবার স্থানীয় আশ্রয় কেন্দ্র গুলোতে (শিক্ষা প্রতিষ্টানে) আ্শ্রয় নিয়েছে। ওদের জন্য ত্রাণ সহায়তা একান্ত জরুরি। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মুনতাসির হাসান সাংবাদিকদের বলেন, এ উপজেলায় আকস্মিক বন্যার কারণে আমরা রোববার দুপুরে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির জরুরি সভা করেছি। বন্যা পরিস্থিতি মোকাবেলায় প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। আশা করছি, অতি শীঘ্রই বন্যার্তদের মধ্যে ত্রাণ সামগ্রী পৌঁছে দেওয়া হবে।
আনন্দবাজার/শহক









