সারাবিশ্বেই এখন প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসের প্রকোপ ছড়িয়ে পড়েছে। মানুষ থেকে মানুষে সহজেই এই ভাইরাসের সংক্রমিত হচ্ছে। এ কারণেই সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে বার বার সচেতন করছেন বিশেষজ্ঞরা। বিভিন্ন দেশ লকডাউন করে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু এভাবে একটি দেশ বা সমাজকে লকডাউন করোনাভাইরাসের বিস্তাররোধে দীর্ঘমেয়াদি টেকসই কোনো সমাধান নয় বলে জানিয়েছেন এক অর্থনীতিবিদ। কানাডাভিত্তিক সিবিসি নিউজের অনুষ্ঠানে দেওয়া এক সাক্ষাতকারে এ বিষয়ে নিজের মতামত তুলে ধরেন ড্যানিস রাষ্ট্রবিজ্ঞানী ও অর্থনীতিবিদ ড. বিয়র্ন লোমবোর্গ।
অর্থনীতির মন্দা না ঘটিয়েও কিভাবে করোনার বিস্তাররোধ করা যায় সে বিষয়টি ব্যাখ্যা করেন তিনি। সাক্ষাতকারে বিয়র্ন লোমবোর্গ জানান, বাস্তবিকতা হচ্ছে আমরা যদি করোনার গতি রোধ করতে চাই তবে সমাজকে পুরোপুরি লকডাউন করতে হবে। তবে দীর্ঘমেয়াদে সম্ভবত এটা কোনো টেকসই সমাধান নয়।
তিনি জানান, করোনারোধে আমাদের কতটা করা উচিত? অপরদিকে আমরা অর্থনীতি পুরোপুরি ধ্বংস হওয়া থেকে কতটুকু এড়িয়ে যেতে পারি সে বিষয়ে আমাদের আলোচনা করতে হবে।
ড. লোমবোর্গ আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, কোভিড-১৯ থেকে বর্তমান মৃত্যুহার কমিয়ে আনার প্রচেষ্টা ভবিষ্যতে মৃত্যুহার আরও বাড়িয়ে দিতে পারে।
করোনার প্রতিরোধে ভিন্নধর্মী পদক্ষেপ নিয়েছে সুইডেন সরকার। তারা পুরো সমাজকে লকডাউন করেনি। যেখানে বিশ্বের অন্যান্য দেশের মানুষ ঘরেই অবস্থান করছে সেখানে সুইডেনের রাস্তা এখনও লোকজনে ভর্তি। ব্যবসা-বাণিজ্য চলছে আগের গতিতেই।
সেখানকার রেস্টুরেন্ট, বার এখনও সব চালু আছে স্বাভাবিক নিয়মেই। এমনকি প্রাইমারি স্কুলের শিক্ষার্থীরাও ক্লাস করছে। সুইডেনে সামাজিক দূরত্বের বিষয়ে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে কিন্তু এটা করতে কাউকে বাধ্য করা হচ্ছে না। শুধুমাত্র বয়স্ক ও দুর্বল লোকজনকে ঘরে থাকতে বলা হয়েছে। কিন্তু অন্য সবাই আগের মতোই চলাফেরা করছে।
সুইডেনের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মিকায়েল ডেমবার্গ জানিয়েছেন, এই মুহূর্তে পুরো সমাজ ব্যবস্থাকে লকডাউন করার কোনো পরিকল্পনা নেই তাদের। লোমবোর্গ বলেছেন, সুইডিশ কর্তৃপক্ষ এখন আসলে যা করছে তা হচ্ছে তারা বর্তমান মৃত্যুকে মেনে নিচ্ছে কারণ এর ফলে ভবিষ্যত মৃত্যুহার কমবে। একই সময়ে এটা অর্থনীতির ক্ষতিও কমাবে। করোনার ক্ষেত্রে এটাকেই প্রকৃত সমতা বলে উল্লেখ করেছেন তিনি।
আনন্দবাজার/তা.তা









