ঝালকাঠির বন্যা পরিস্থিতি এখনও অপরিবর্তিত রয়েছে। সুগন্ধা এবং বিষখালী নদীর পানি বিপৎসীমার ৩৮ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। আজ রবিবার সকালে শহরের রাস্তাঘাটের পানি কিছুটা কমলেও নদীতীরের বাসিন্দারা এখনও পানিবন্দি। অরক্ষিত বেড়িবাঁধ দিয়ে ঢুকে পড়া পানিতে গ্রামের ফসলের ক্ষেত এবং মাছের ঘের নিমজ্জিত আছে।
ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে পানচাষিরা। বরজে পানি প্রবেশ করে পান এবং বরজ নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। পানিতে তলিয়ে যাওয়া আমনের বীজতলা ক্ষতির আশঙ্কায় তাই কৃষকরা বীজ তুলতে শুরু করেছে। পানির মধ্য দিয়ে সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত বীজ তুলে নিরাপদে সরিয়ে রাখার কাজ করছেন কয়েকটি ব্লকের চাষিরা। তবে এসব বীজ সংরক্ষণ নিয়ে নতুন করে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন কৃষকরা।
এদিকে নদীর পানিতে কাঁঠালিয়ার আমুয়া এবং নলছিটির ষাইটপাকিয়া ফেরিঘাটের গ্যাংওয়ে তলিয়ে দুই দিন ধরে যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। অপরদিকে ঝালকাঠি জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বন্যায় পানিবন্দি মানুষদের মধ্যে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে।
এই ব্যাপারে ঝালকাঠি পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে, স্বাভাবিকের চেয়ে সুগন্ধা এবং বিষখালী নদীতে চার-পাঁচ ফুট পানি বেড়েছে। পাশাপশি টানা বৃষ্টিতে পানি জমে দুর্ভোগ বাড়িয়ে দিয়েছে দ্বিগুণ। সুগন্ধার নদীবেষ্টিত ঝালকাঠি শহরের বুক চিরে বয়ে যাওয়া ১১টি খাল থেকে পানি ওঠানামা করছে। কিছু কিছু এলাকার ড্রেনেজ ব্যবস্থা খারাপ থাকায় পানি জমে আছে।
ঝালকাঠির জেলা প্রশাসক মো জোহর আলী জানান, বন্যার পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে পানিবন্দি মানুষদের ত্রাণ দেওয়া হবে। ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা করা হচ্ছে।
আনন্দবাজার/এইচ এস কে









