লালমনিরহাটে পুলিশ হেফাজতে রবিউল ইসলামের নিহতের বিষয়ে বিচার বিভাগীয় তদন্তের দাবি জানিয়েছেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান ও লালমনিরহাট তিন আসনের সাংসদ জিএম কাদের। নিহত রবিউল ইসলামের বাড়িতে গিয়ে শোক সন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানানোর সময় তিনি এ দাবি জানান।
গতকাল শনিবার বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে লালমনিরহাট সদর উপজেলার হারাটি কাজির চওড়া এলাকায় পুলিশ হেফাজতে নিহত রবিউল ইসলামের বাড়িতে গিয়ে সমবেদনা জানান কাদের। এ সময় তিনি নিহত রবিউলের আত্মার মাগফেরাত কামনা করে বলেন, পুলিশের হেফাজতে নিহতের বিষয়টি শুধু নিহতের পরিবারের জন্য নয়, সারাদেশের জন্য একটি অশুভ সংকেত। পুলিশ হেফাজতে প্রাণ হারানো খুবই দুঃখজনক। আইনশৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর প্রধান উদ্দেশ্যই হলো জনগণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। সেজন্য তাদের কর্মকান্ডে সবাই সহযোগিতা করতে চায়। কেউ ভুলের উর্ধ্বে নয়। যদি কোনো নাগরিক কোনো বিষয়ে অভিযোগ উপস্থাপন করে তাহলে তা গুরুত্ব দিয়ে ক্ষতিয়ে দেখা প্রয়োজন। তবে তাদের কর্মকান্ডে মনে হয়েছে এ বিষয়টিকে ধাপাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেছিলো। দায়িত্বশীল অফিসার হিসেবে যদি কোনো সদস্য ভুল করে থাকে তার বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া উচিৎ। তাহলেই জনগণকে বিক্ষুব্ধ হতে হয় না। ন্যায় বিচার মানুষের অধিকার। ভবিষ্যতে এধরণের ঘটনা যেন আর না ঘটে সেজন্য সঠিক তদন্ত করা উচিৎ যাতে মনে হয় পুলিশ যা করছে সেটা সঠিক।
এ সময় তিনি পুলিশের বিষয়ে পুলিশের তদন্ত করা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তিনি বলেন, পুলিশ পুলিশের সহকর্মী হিসেবে তদন্তের ক্ষেত্রে এখানে নিরপেক্ষতা বিঘ্নিত হতে পারে। বিচার বিভাগীয় দায়িত্বরত মানুষকে দিয়ে তদন্ত করলে ভালো হতো।
নিহত রবিউলের পরিবার ও তার সন্তানের ভরণপোষণের জন্য ব্যক্তিগত অর্থ থেকে প্রতি মাসে ৫ হাজার টাকা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।
উল্লেখ যে, গত ১৪ এপ্রিল রাত দুইটার দিকে সদর উপজেলার হিরামানিক এলাকার বৈশাখী মেলায় জুয়া খেলা চলছিলো। এমন খবরে পুলিশ মেলায় অভিযান চালালে জুয়াড়িরা দিকবিদিক পালিয়ে যায়। ঘটনাস্থল থেকে মহেন্দ্র নগর কাজীরচওড়া এলাকার দুলাল খানের ছেলে রবিউল খান (২৫) এবং দক্ষিণ হিরা মানিক এলাকার মৃত রসনির ছেলে প্লোল্লাদ রায়কে জুয়ায় অংশ নেওয়ার অভিযোগে আটক করে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ব্যক্তি জানান,পুলিশ আটক দুজনকে ভ্যানে উঠানোর চেষ্টা করলে রবিউল ভ্যানে উঠতে রাজি হয়নি। পরে তাকে ঘটনাস্থলে নির্যাতন করা হয় এবং সেখানে সে অসুস্থ হয়ে পরে। পুলিশ অসুস্থ রবিউলকে হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য নিয়ে যায় এবং সেখানে তার মৃত্যু হয়। মৃত্যুর খবরে রাত থেকে পরদিন (শুক্রবার) দুপুর বেলা পর্যন্ত মহেন্দ্র নগর এলাকায় সড়ক অবরোধ করে স্থানীয়রা।









