গ্রামীণ ঐতিহ্যের প্রতীকগুলোর মধ্যে হারিকেন অন্যতম। বিদ্যুৎবিহীন গ্রামের আলোর চাহিদা মিটানো বা অন্ধকার দূর কারার একমাত্র অবলম্বন ছিল হারিকেন, সেই হারিকেন আজ বিলুপ্তির পথে।
রাতের অন্ধকার দূর করতে এক সময় গ্রামের মানুষের অন্যতম ভরসা ছিল হারিকেন। যার অন্যতম জ্বালানি উপাদান ছিল কেরোসিন। তখনকার সময় হারিকেনের আলোতে রাতে বিয়ে, যাত্রাগান, ওয়াজ-মাহফিলসহ নানা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হত। শিক্ষার্থীরা হারিকেন জ্বালিয়ে বাড়ির উঠানে বা ঘরের বারান্দায় বসে একসঙ্গে পড়াশোনা করতো।
আধুনিকতার ছোঁয়ায় বদলে গেছে সব। সেই হারিয়ে যাওয়ার ধারাবাহিকতায় হারিয়ে গেছে এক সময়ের রাতের সঙ্গী হারিকেন। কয়েক দশকের বেড়ে ওঠা মানুষের স্মৃতির সঙ্গে জড়িয়ে আছে এ হারিকেন। একসময় সন্ধ্যা হলেই ঘরে ঘরে জলে উঠতো হারিকেন। তার আগে গৃহিণীরা এর চিমনি খুলে পরিষ্কার করে রাখতেন। এতে আলো একটু ভালো পাওয়া যেতো। আজকের প্রজন্মের অনেকেই চিনতেই পারবে না এ প্রযুক্তিটি। হারিকেন শুধুমাত্র ঘরে আলো দেওয়ার কাজেই ব্যবহার হতো না। অন্ধকারে কোথাও যাওয়া আসার জন্যও হাতে হারিকেন ঝুলিয়ে নিতেন। আলোও হতো বেশ। যদিও এখনকার সাদা আলোর মতো হতো না। কিন্ত তখন এ আলোই যথেষ্ট ছিল। চিলাহাটিতে এখন আগের মতো আর হারিকেনের ব্যবহার দেখা যায় না। দোকানগুলোতেও পাওয়া যায় না হারিকেন।
চিলাহাটি উত্তর চান্দখানা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক জাফর সিদ্দিক বলেন, হারিকেনের মাঝে মিশে আছে অনেক স্মৃতি। তখন গ্রামে বিদ্যুৎ ছিল না। সেই সময় ছাত্র-ছাত্রীদের পড়াশোনার জন্য একমাত্র অবলম্বন ছিল হারিকেন। হারিকেনকে দেখলেই শৈশবের স্মৃতিগুলো মনে পড়ে যায়। একসময় হারিকেন জালিয়ে রাস্তার পাশে দোকান করার দৃশ্য ছিল নিয়মিত। এখন এলইডি বাল্বের আলোয় হারিকেন ব্যবহার উঠে গেছে। কালেরগর্ভে হারিয়ে গেছে এক সময়ের অত্যন্ত প্রয়োজনীয় একটি অনুষঙ্গ।
আনন্দবাজার/এম.আর









