হবিগঞ্জে খোয়াই ফিসারীজ লিমিটেডের সম্পত্তি বেদখল
কর্মহীন ৮৩ জন কর্মকর্তা-কর্মচারি
দখলকৃত সম্পত্তি উদ্ধারে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে: ইশরাত জাহান, জেলা প্রশাসক, হবিগঞ্জ
প্রায় ১২ বছর ধরে বন্ধ রয়েছে হবিগঞ্জ সদর উপজেলার গোবিন্দপুরে অবস্থিত ‘খোয়াই ফিসারীজ লিমিটেড-এর সকল কার্যক্রম। দীর্ঘদিন ওই কোম্পানীটি বন্ধ থাকায় কর্মহীন হয়ে পড়েছেন ৮৩ জন কর্মকর্তা-কর্মচারি। তাছাড়া ১২ বছরে কোম্পানীর লোকসান হয়েছে প্রায় ২০ কোটি টাকা। এলাকার একটি প্রভাবশালী মহল কোম্পানীর সকল সম্পত্তি দখলে নেয়ায় কোম্পানীর এ লোকসান দেখা দিয়েছে। কোম্পানীর নামে গ্রহনকৃত ঋণ পরিশোধ করতে না পেরে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন কোম্পানীর পরিচালকবৃন্দ। বিষয়টি নিয়ে এলাকাবাসীর মধ্যে প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।
এদিকে, কোম্পানীর ওই সম্পত্তি উদ্ধারে জেলা প্রশাসক ইশরাত জাহানের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন কোম্পানীর ব্যবস্থাপনা পরিচালক আব্দুল খালেক।
গত ৩ এপ্রিল দায়েরকৃত অভিযোগে তিনি উল্লেখ করেন, খোয়াই ফিসারীজ লিমিটেড এর সম্পত্তির বৈধ মালিক আব্দুল খালেক ও তার অপর ৩ ভাই শাহিন আহমেদ, আশিকুর রহমান, মো. আনু মিয়া এবং বোন মনিরা বেগম। দীর্ঘদিন ধরে আব্দুল খালেক কোম্পানীর ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও অপর ৩ ভাই ও ১ বোন পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এমতাবস্থায় কোম্পানীর ব্যবস্থাপনা পরিচালক আব্দুল খালেকের আবেদনের প্রেক্ষিতে কোম্পানীটি ‘ইইএফ রিকুভারী ডিপার্টমেন্ট’ থেকে ‘আইসিভি ক্যাপিটাল ম্যানেজমেন্ট লিমিটেড’-এর মাধ্যমে দুই কোটি একাশি লাখ সাতাইশ হাজার টাকা বিনা সুদে সহায়তা পায়। এরপর ওই টাকা ব্যয়ে কোম্পানীর ফ্যাক্টরি, অফিস, একাধিক পুকুর খননসহ কোম্পানীর কাজে প্রয়োজনীয় বিভিন্ন গৃহ নির্মাণ করা হয়। তবে কোম্পানীর অবকাঠামো সকল গৃহ নির্মাণের পর জয়নাল আবেদীন ছালেক ও স্থানীয় তেঘরিয়া ইউনিয়নের তাৎকালীন চেয়ারম্যান মো. আনু মিয়া জোরপূর্বক ওই কোম্পানীর সকল সম্পত্তি দখল করেন। এতে ওই কোম্পানীর সকল সম্পত্তির বৈধ মালিক আব্দুল খালেক, তার অপর ৩ ভাই ও ১ বোন বঞ্চিত হয়ে পড়েন। এক পর্যায়ে জয়নাল আবেদীন ছালেক ও আনু মিয়া কোম্পানীর নামে গ্রহনকৃত ঋণ পরিশোধ করতে ব্যর্থ হয়। এতে ‘আইসিভি ক্যাপিটাল ম্যানেজমেন্ট লিমিটেড’ওই কোম্পানীর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে। বর্তমানে ওই কোম্পানীতে দায়িত্বে থাকা ৮৩ জন কর্মকর্তা-কর্মচারি বেকার হয়ে পড়েছেন।
অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, ঋণের টাকা পরিশোধ করা না হলে কোম্পানীর সমস্ত সম্পদ নিলামে যাওয়ার প্রক্রিয়াধীন হয়ে পড়েছে।
এতে কোম্পানীর সম্পত্তির বৈধ মালিক আব্দুল খালেক ও তার অপর ৩ ভাই আর্থিক ভাবে চরম ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে পড়েছেন। এক পর্যায়ে নিরুপায় হয়ে কোম্পানীর ৬ কোটি ৪ লাখ টাকার সম্পত্তি জয়নাল আবেদীন ছালেক ও আনু মিয়ার কাছ থেকে উদ্ধার করতে জেলা প্রশাসকের নিকট জোর দাবি জানিয়েছেন।
অভিযোগকারী আব্দুল খালেক জানান, কোম্পানীর প্রায় ৭ কোটির টাকার সম্পত্তি বেদখল হয়ে পড়েছে। কোম্পানীটি বন্ধ থাকায় চরম লোকসানে পড়েছেন পরিচালকবৃন্দ। ঋণ থাকায় কোম্পানীটি নিলামে যাওয়ার প্রক্রিয়াধিন হয়ে পড়েছে। ১২ বছরে কোম্পানীর প্রায় ২০ কোটির টাকার লোকসান হয়েছে।
জেলা প্রশাসক ইশরাত জাহান বলেন, বিষয়টি তদন্ত সাপেক্ষে কোম্পানীর সকল সম্পত্তি উদ্ধারে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।









