শেরপুর জেলার ঝিনাইগাতী উপজেলার সদর ইউনিয়ন থেকে নগর হয়ে গৌরিপুর ইউনিয়নে যাতায়াতে রাস্তায় একটি ব্রিজ না থাকায় যাতায়াত করতে পারছে না হাজার হাজার গ্রামবাসী ও স্কুলগামী ছাত্র-ছাত্রীরা। এতে দুর্ভোগ নিয়ে অতি কষ্টে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে নিজেদের তৈরি করা কাঠের ব্রিজ দিয়ে পারাপার হয়। পারপারের সময় অনেকে দুর্ঘটনার শিকার হয় এমন কয়েক বার ঝুঁকিপূর্ণ ব্রিজটি দিয়ে পার হতে গিয়ে দুর্ঘটনা ঘটেছে। হাজার হাজার কৃষক পরিবারের কৃষিপণ্য আমদানি-রপ্তানি করতে তাদের চরম দুর্ভোগের স্বীকার হতে হয়। অত্র এলাকার কৃষকের কৃষিপণ্য ধান, পাট, শাক-সবজি বাজার জাত করতে তিনগুণ অর্থ ব্যয় করতে হয় এবং অধিক সময় লাগে। তাই আমাদের ভাগ্যের দুর্ভোগ যেন সঙ্গী-সাথী হয়েছে। আমাদের কোমলমতি ছেলে মেয়েরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে স্কুল যাতায়াত করতে বাধ্য হচ্ছে। মাঝে মধ্যেই ঝুঁকিপূর্ণ ভাঙা কাঠের সাঁকো দিয়ে পার হতে গিয়ে দুর্ঘটনার কবলে পড়তে হয়।
জানা যায়, যাতায়াতের রাস্তায় কাঠের সাঁকোটিও সরকারিভাবে নির্মাণ করা হয়নি। তাই কাঠের সাঁকোটি গ্রামের লোকজন স্বেচ্ছাশ্রমের মাধ্যমে নির্মাণ করে কোনো রকমে লোকজন চলাচল করতে পারে। প্রকাশ থাকে যে যুগযুগ থেকে চতল, রামনগর, জিগাতলা, বনগাঁওসহ বহু গ্রামবাসী একটি ব্রিজ সংকটের কারণে চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছে।
উল্লেখ্য, ঝিনাইগাতি ইউপি ও গৌরিপুর দুই ইউনিয়নের যাতায়াতের রাস্তার মাঝ সীমান্তে এ ব্রিজটি সংকট হওয়ার কারণে উভয় ইউপি চেয়ারম্যান চেষ্টা করেছে। তবে, এতে ব্রিজটি নির্মাণে কোনো সফলতা পায়নি। কারণ ইউনিয়ন পর্যায়ে এত বড় ব্রিজ নির্মাণে অর্থবরাদ্দ না থাকায় নির্মাণ করতে পারেনি। এতে উভয় ইউনিয়নের চেয়ারম্যানদ্বয় গ্রামবাসীর নিকট জবাবদিহিতার শিকার হতে হয়েছে। অবশেষে উপজেলা চেয়ারম্যানের নিকট দারস্ত হয়। এতেও কোন অগ্রগতি হয়নি ব্রিজটি নির্মাণ কাজে। পরবর্তীতে গ্রামবাসী বিগত জাতীয় সংসদ সদস্য মাহমুদুল হক রুবেলের কাছে দীর্ঘদিন ধর্ণা দিয়েও কোনো সমাধান হয়নি। বর্তমান সংসদ সদস্য আলহাজ¦ এ.কে.এম ফজলুল হক চানও ব্রিজটি নির্মাণে কোনো উদ্যোগ নেয় নি। এতে গ্রামবাসীর মাঝে হতাশা বিরাজ করছে।
চতল গ্রামের হাবিবুর রহমান, সাবেক ইউপি সদস্য চান মিয়া, সরকার রফিকুল ইসলাম ও বর্তমান ইউপি সদস্য ফারুক বলেন, বর্তমান সরকারের আমলে সারা দেশের রাস্তাঘাট, ব্রিজ-কালভার্টের ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছে। তবে, আমাদের উপজেলার মাঝামাঝি এলাকায় দুটি ইউনিয়নের যোগাযোগের রাস্তায় একটি ব্রিজ সংকটে সীমাহিন দুর্ভোগ পোহাচ্ছে যুগযুগ ধরে।









