- বগুড়ায় সারের কৃত্রিম সংকট
একজন খুচরা সারবিক্রেতা অনুমোদিত ডিলার বা অনুমোদিত উৎস ব্যতীত অন্য কোন উৎসে সার বিপনন বা সংরক্ষণ করতে পারবেন না। সার ডিলার নিয়োগ ও সার বিতরণ সংক্রান্ত সমন্বিত নীতিমালা-২০০৯ এ ধরনের বিধিনিষেধের কথা বলা আছে। তবে সরকারি নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে কালোবাজারে অধিক দামে সার বিক্রির লক্ষ্যে বগুড়ার শেরপুরে অবৈধভাবে সার গুদামজাত করেছেন এক খুচরা সারবিক্রেতা।
সরেজমিনে দেখা যায়, উপজেলার ভবানীপুর ইউনিয়নের বাজারে আকন্দ ট্রেডার্সের একটি গোডাউনে সহস্রাধিক বস্তা এমওপি ও ডিএপি সার মজুদ করা আছে। সার মজুদের বিষয়ে জানতে চাইলে দোকানের মালিক কলিম উদ্দীন আকন্দ নিজেকে সারের সাব ডিলার দাবি করলেও প্রয়োজনীয় নথি দেখাতে ব্যর্থ হন।
তবে কলিম উদ্দীন বলেন, গত ২০ ডিসেম্বর তিনি বগুড়ার কনক ট্রেডার্সের কাছ থেকে ৪৪০ বস্তা ডিএপি সারক্রয় করেছেন। সার ক্রয়ের ভাউচার দেখতে চাইলে তিনি যশোরের নওয়াপাড়ার জাহিদ ট্রান্সপোর্ট এজেন্সীর পরিবহনের একটি চালান প্রদর্শন করেন। তবে কনক ট্রেডার্সের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে, তারা শেরপুরে কোনো সারবিক্রিয় করেন নি বলে জানান।
এদিকে কলিম উদ্দীন আকন্দের ভাতিজা মমিনুর রহমানের চাতালের গোডাউনেও মিলেছে আরও দুইশ বস্তা ডিএপি সার। সারের উৎস ও মজুদ সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, তার নিজস্ব জমিতে প্রয়োগ করার উদ্দেশ্যে এ সার মজুদ করা হয়েচে। তবে তিনিও সারক্রয়ের কোনো প্রমানপত্র দেখাতে পারেন নি।
স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ, ওই ব্যবসায়ীর গোডাউনে মাঝে মাঝেই গভীর রাতে সার আনলোড করা হয়। এখানে অধিকদামে কৃষকদের কাছে সারবিক্রি করা হলেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না।
এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা জান্নাতুল ফেরদৌস বলেন, অভিযোগ পেয়ে আমরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। কিন্তু দোকান বন্ধ থাকায় তাৎক্ষণিক কোন ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হয়নি। তবে ওই সার বিক্রেতাকে ডেকে কথা বলেছি। তাকে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ আবার দেখা করতে বলা হয়েছে। কোনো অনিয়ম প্রমানিত হলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার ময়নুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি আমি শুনেছি। তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
আনন্দবাজার/এম.আর









