রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাবে দেশে ডলারের দাম লাগামহীনভাবে বেড়ে আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্যের দামও বেড়ে যায়। ওইসময় তার প্রভাব পড়ে বাজারে। বর্তমানে আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্যের দাম কমতে শুরু করেছে। দেশে কিছুটা কমেছে ডলারের দামও। যার প্রভাব পড়েছে দেশের ভোগ্যপণ্যের শীর্ষ পাইকারি বাজার চাক্তাই-খাতুনগঞ্জে। এখানে বেচা-কেনা কমে গেছে। নেই প্রাণচাঞ্চল্য।
ব্যবসায়ীরা জানান, গত কয়েকদিন ধরে চাক্তাই-খাতুনগঞ্জে প্রাণচাঞ্চল্য নেই। ক্রেতাদের আনাগোনা অনেক কম। তাই ব্যবসায়ীদের তেমন ব্যস্ততাও নেই। চাক্তাই-খাতুনগঞ্জের সড়কসমূহ দিয়ে এখন চাইলে গাড়ি নিয়ে একপাশ থেকে অন্য পাশে সহজে যাওয়া যায়। একসময় সড়কসমূহের এমন অবস্থা ছিল কেউ প্রাইভেট কার কিংবা সিএনজি ট্যাক্সি দূরের কথা মোটরসাইকেল নিয়েও সেখানে প্রবেশের সাহস পেত না। এমনকি পায়ে হেঁটে এক পাশ থেকে অপরপাশে যেতেও দুস্কর হত। কিন্তু বর্তমানে সড়কের একপাশ ফাঁকা থাকে। অনেক এলাকায় পুরো সড়কই ফাঁকা দেখা গেছে। ব্যবসা কমে যাওয়ায় অনেক ব্যবসায়ী হতাশা প্রকাশ করেছেন।
জানতে চাইলে খাতুনগঞ্জ ট্রেড এন্ড ইন্ড্রাস্ট্রিজ এসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ সগীর আহমদ বলেন, একসময় ডলার এবং প্রায় সব ধরনের পণ্যের দাম বেড়ে যায়। তবে বর্তমানে আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্যের দাম নিম্নমুখী এবং দেশে ডলারের দামও নিম্নমুখী। অপরদিকে জ্বালানি তেলের দামও কমছে। এসব কারণে পাইকারি ক্রেতারা একসাথে বেশি পণ্য কেনার সাহস করছে না। কারণ বেশি করে পণ্য নিয়ে গেলে যদি তার দাম পড়ে যায় তাহলে লোকসান গুনতে হবে। তাই পাইকারি বাজারে বেচা-কেনা কিছুটা কম।
চাক্তাই-খাতুনগঞ্জ আড়তদার-সাধারণ ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. মহিউদ্দিন বলেন, ৮৬ টাকার ডলার ১১০ টাকা হয়েছে। অর্থাৎ এক ডলারের দাম বেড়েছে ২৪ টাকা। যেকারণে পণ্যের দামও বেড়েছে। পণ্যমূল্য বৃদ্ধির কারণে সাধারণ মানুষের ক্রয় ক্ষমতা কিছু কমেছে। কমে গেছে ব্যবসাও।
চাক্তাই খালের সাথে লাগোয়া ব্যবসা আফরা ট্রেডিং এর স্বত্বাধিকারী আলাউদ্দিন আলো বলেন, নৌপথে দূর-দূরান্ত থেকে আসা পাইকারি ক্রেতারা এক সময় দিনে ৪/৫ লাখ টাকার পণ্য কিনে নিয়ে যেতেন। এখন সেই ব্যবসা নেই। একদিকে করোনা মহামারি, অপরদিকে চলছে চাক্তাই খাল খনন। খাল দিয়ে বড় কোন নৌযান প্রবেশ করতে পারে না। কিছুদিন অন্তর কোন না কোন সমস্যা হচ্ছে। যেকারণে ব্যবসা করে শান্তি পাচ্ছি না।









