ঝিনাইদহ পৌরসভায় দীর্ঘ ১১ বছর পর আগামী রবিবার ১১ সেপ্টেম্বর সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। সীমানা সংক্রান্ত আইনি জটিলতায় দীর্ঘদিন ধরে নির্বাচন বন্ধ ছিল। ইভিএম-এ অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এ নির্বাচনে চারজন মেয়র প্রার্থীসহ ৮৩জন কাউন্সিলর প্রার্থী শেষ মুহূর্তের প্রচার-প্রচারণা ও গণসংযোগে ব্যস্ত সময় পার করছেন। সাধারণ ভোটারদের মধ্যেও বিরাজ করছে উৎসবের আমেজ। শুক্রবার দিবাগত রাত ১২টার পর নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে সব প্রচার-প্রচারণা বন্ধ রাখাতে প্রার্থীদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
দীর্ঘদিন পর কে হচ্ছেন এবার পৌর মেয়র- এ নিয়ে চায়ের দোকান, রাস্তাঘাটে চলছে আলোচনা। নির্বাচন অবাধ সুষ্ঠু, শান্তিপুর্ণ ও গ্রহণযোগ্য করতে মোতায়েন করা হয়েছে ৫ প্লাটুন বিজিবিসহ বিপুল পরিমাণ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য।
মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ৪ জন। তারা হলেন- আওয়ামী লীগ মনোনীত আব্দুল খালেক (নৌকা), মো. কাইয়ুম শাহরিয়ার জাহেদী (নারিকেল গাছ) স্বতন্ত্র, মিজুনুর রহমান (মাসুম) (মোবাইল ফোন) স্বতন্ত্র ও সিরাজুল ইসলাম ইসলাম (হাতপাখা) ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। এখানে নারী সংরক্ষিত ওয়ার্ড কাউন্সিলর (নারী) আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ১৯ এবং সাধারণ ওয়ার্ড কাউন্সিলর পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ৬৪ জন। নির্বাচনে স্বতন্ত্র মেয়র প্রার্থীর সঙ্গে আওয়ামী লীগ মনোনীত মেয়র প্রার্থীর মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে বলে জানিয়েছেন ভোটাররা।
সাধারণ ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এখানে আওয়ামী লীগ ঐক্যবদ্ধ নির্বাচন করলে তাদের প্রার্থীই বিজয়ী হওয়া সম্ভব। জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল হাই ও সাধারণ সম্পাদক সাইদুল করিম মিন্টুসহ দলের নেতা-কর্মীরাও সকল দ্বিধা-দ্বন্দ্ব ভুলে এক সঙ্গে নৌকা প্রার্থীর পক্ষে কাজ করে যাচ্ছেন। বিজয়ের ব্যাপারে আশাবাদী নৌকার প্রার্থী আব্দুল খালেক।
এছাড়া স্বতন্ত্র মেয়র প্রার্থী কাইয়ুম শাহরিয়ার জাহেদী ও মিজানুর রহমান মাসুম ভোটযুদ্ধে নেমেছেন কোমর বেঁধে। তারাও বিজয়ের আশা নিয়েই রাত-দিন ভোটের মাঠে কাজ করে যাচ্ছেন। এখানে স্বতন্ত্র প্রার্থীর সঙ্গেই আওয়ামী লীগ দলীয় মেয়র প্রার্থীর প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে বলে ধারণা সাধারণ ভোটারদের।
২০১৫ সাল থেকে সীমানা জটিলতা মামলায় প্রায় ১১ বছর পর ঝিনাইদহ পৌরসভা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ২০১১ সালের এপ্রিল মাসে ঝিনাইদহ পৌরসভা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল। ঝিনাইদহ পৌরসভায় মোট ভোটার সংখ্যা ৮২,৬৯৫ জন, এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৪০,৪৪৬ জন ও নারী ভোটার ৪২,২৪৯ জন, ভোট কেন্দ্র ৪৭ টি এবং ভোট কক্ষ রয়েছে ২৬৫ টি। নির্বাচন অবাধ সুষ্ঠ, শান্তিপূর্ণ ও গ্রহণযোগ্য করতে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা করা হয়েছে। মোতায়েন করা হয়েছে ৫ প্লাটুন বিজিবি, ১৮ জন নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট ও ৩ জন জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট, ৪৮০ জন পুলিশ, ৪২৩ জন আনসার ও ৯টি মোবাইল টিমসহ স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে র্যাবের ৩টি টহল সার্বক্ষণিক মোতায়েন থাকবে বলে জানিয়েছেন ঝিনাইদহ র্যাব ক্যাম্পের অধিনায়ক স্কোয়ার্ডন লিডার ইসতিয়াক হোসেন।









