জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে বাংলাদেশের শিশুরাই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে জানিয়ে ইউনিসেফ এক প্রতিবেদনে জানায় যে জলবায়ু পরিবর্তনের বাংলাদেশের শিশুরা স্কুল থেকে ঝরে পড়ছে। ঝরে পড়ার পর তাঁরা ঝুকিপূর্ণ শ্রমে, বাল্যবিয়ে, সহিংসতার শিকার এবং সহিংসতার কারণে শিশু মৃত্যুর ঘটনাও ঘটছে। তাই ছোটবেলা থেকে যদি ছেলেমেয়েরা জলবায়ু পরিবর্তন সম্পর্কে সচেতন হয়, তাহলে তাঁরা দক্ষ ও বুদ্ধিমান নাগরিক হয়ে উঠবে। তখন নিজেরাই জলবায়ু পরিবর্তনের বিভিন্ন সমস্যার সমাধানের পথ খুঁজে বের করবে।
একারণে শিশুদের জলবায়ু পরিবর্তন ও বৃক্ষরোপণ সম্পর্কে সচেতন করতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বেছে নিয়েছে "বাংলাদেশ গ্রীণ অরবিট অ্যাসোসিয়েশন"। গ্রামের এক প্রান্তর অন্য প্রান্তে এবং দুর্গম রাস্তা পেরিয়ে প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বৃক্ষরোপণ এবং বৃক্ষ ও জলবায়ু পরিবর্তন সচেতনতার কথা বলে "বাংলাদেশ গ্রীণ অরবিট অ্যাসোসিয়েশন"। গত দুই বছরে রংপুরের বদরগঞ্জ উপজেলার ৭নং গোপীনাথপুর ইউনিয়নে সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে (স্কুল ,কলেজ ,কাওমি মাদ্রাসা ও এতিম খানা) বৃক্ষরোপন ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টি করেছে এই সংগঠনটি।
হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের রংপুর জেলার বদরগঞ্জ উপজেলায় ১১ জন শিক্ষার্থী একত্রিত হয়ে গড়ে তুলেছে পরিবেশবান্ধব সংগঠনটি। বদরগঞ্জ উপজেলার ৭নং গোপীনাথপুর ইউনিয়নের পর গত ১১ জুন ২০২২ সাল থেকে একই উপজেলার ৬নং রাঁধানগর ইউনিয়নের প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের জলবায়ু পরিবর্তনের সম্পর্কে সচেতন এবং বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি গ্রহণ করেছে সংগঠনটির নেতৃত্বে থাকা বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া শিক্ষার্থীরা।
৬নং রাঁধানগর ইউনিয়নের দিলালপুর উচ্চবিদ্যালয় শিক্ষার্থী মাশরুফা জান্নাত প্রীতি বলেন, ভাই-আপুরা আমাদের বৃক্ষরোপণ এবং বৃক্ষরোপণের প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে বিস্তারিত বলেছেন। আমরা বুঝতে পেরেছি জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ন্ত্রণে বৃক্ষের প্রয়োজনীয়তা অনেক। যেমন ঘুর্ণিঝড়, বন্যা, নদী ভাঙন, তাপমাত্রা এবং পরিবেশ দূষণ রোধে বৃক্ষের প্রয়োজনীয়তা অনেক। আমরা বৃক্ষ থেকে ফলমূল, জ্বালানি এবংকি প্রয়োজনে বৃক্ষ বিক্রি করে আমরা অর্থনৈতিক সমস্যার সমাধানও করতে পারি। তবে একটি গাছ কাটলে আমাদের আরও গাছ লাগানো উচিত।
এবিষয়ে সংগঠনের অন্যতম সদস্য তাজনুর আফরোজ জানান, আমাদের স্বপ্ন হলো এভাবে গাছ লাগানো যাতে করে বাংলাদেশের সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আমাদের গাছ থাকে এবং শিক্ষার্থীরাও বৃক্ষরোপনে উৎসাহিত হয়। একজন সমাজবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী এবং সচেতন নাগরিক হিসেবে সমাজ ও পরিবেশ নিয়ে কিছু করার পরিপ্রেক্ষিতে আমাদের এ উদ্যোগ।
সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাতা মাহবুব আলম বলেন, গত দুইবছরে রংপুর জেলার বদরগঞ্জ উপজেলার ৭নং গোপীনাথপুর ইউনিয়নে সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে (স্কুল ,কলেজ ,কাওমি মাদ্রাসা ও এতিম খানা) আমরা বৃক্ষরোপনে সক্ষম হয়েছি। এবছর শুরু করেছি ৬ নং রাঁধানগর ইউনিয়ন। আমরা বৃক্ষরোপণের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের জলবায়ু পরিবর্তন, এর মোকাবেলা সহ বৃক্ষরোপণের প্রয়োজনীয়তা তুলা ধরার চেষ্টা করছি। আমাদের নিজস্ব অর্থায়নে আমরা কাজগুলি করে থাকি। বিদ্যালয়ের শিক্ষকগণের কাছ থেকে আমরা যথেষ্ঠ উৎসাহ-উদ্দীপনা পাই, তা আমাদের জন্য অনুপ্রেরণা জোগায়।









