প্রায় শতবর্ষী পুরনো ময়মনসিংহ শহরের ব্রহ্মপুত্র নদের উপর নির্মিত কেওয়াটখালী রেল সেতু। সেতুর ৬৬২টি স্লিপারের মধ্যে অধিকাংশই এখন ঝুঁকিপূর্ণ। শতবর্ষ পেরিয়ে গেলেও সেতুটির উল্লেখযোগ্য সংস্কার হয়নি। এতে সেতুর উপর দিয়ে দ্রতগামী ট্রেন চলাচল করতে পারছে না।
সম্প্রতি এ রেলপথে চলাচলের জন্য ভারি রেল ইঞ্জিন আমদানি করা হয়। কিন্তু সেতুর ওপর দিয়ে চলাচলের জন্য রেলওয়ে ট্র্যাকের ফিটনেস না থাকায় ইঞ্জিনগুলো ব্যবহার করা যাচ্ছে না। যে কারণে এ অঞ্চলে দ্রতগামী ট্রেন চালু করা সম্ভব হচ্ছে না। দীর্ঘদিন সংস্কার না করায় বেশিরভাগ কাঠের স্লিপারও নষ্ট হয়ে গেছে। দিন যত যাচ্ছে ঝুঁকিও তত বাড়ছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, ব্রিজটির ৬৬২টি সিøপারের মধ্যে বেশিরভাগ জরাজীর্ণ। আবার কোথাও ভেঙে গেছে। অনেক জায়গায় নেই পিন, প্লেট। কোনোরকম জোড়াতালি দিয়ে চলছে। এতে ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে এ অঞ্চলের ট্রেন যাত্রীরা। নগরীর কেওয়াটখালী এলাকার বাসিন্দা কামাল হোসেন বলেন, ব্রিজটি স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। তখন ঠিকঠাক করা হলেও পরে আর তেমন সংস্কার হয়নি। রাতের আঁধারে লাইনের বিভিন্ন সামগ্রী চুরি হয়ে যাচ্ছে। এ ব্রিজ দিয়ে সর্বসাধারণের যাতায়াত নিষিদ্ধ থাকলেও শুরু থেকেই শিক্ষার্থীসহ সাধারণ মানুষ ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে। হঠাৎ ট্রেন চলে এলে বিপাকে পড়তে হয়। যে কোনো সময় বড় ধরনের দূর্ঘটনার শঙ্কা রয়েছে।
ব্রিজটির ওপর দিয়ে বর্তমানে ১৬ কিমি. গতিতে ট্রেন চলাচলের অনুমতি রয়েছে। ময়মনসিংহ জেলা নাগরিক আন্দোলনের সাধারণ সম্পাদক নুরুল আমিন কালাম বলেন, ‘পুরোনো সবগুলো কাঠের সিøপার জরুরি ভিত্তিতে পরিবর্তন করা প্রয়োজন। আমরা চাই বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটার আগেই কর্তৃপক্ষ এগুলো সংস্কার করুক। এ ছাড়া রেললাইনে দেয়া যন্ত্রগুলোর চুরিরোধে কর্তৃপক্ষের আরও সচেতন হওয়া প্রয়োজন। বিষয়টি উল্লেখ করে রেল বিভাগের সহকারী নির্বাহী প্রকৌশলী নারায়ণ প্রসাদ সরকার জানান, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ বিষয়টি জানেন। দ্রæত সেতুটির সংস্কার ও উন্নয়ন হবে।
আনন্দবাজার/শহক









