কুড়িগ্রামের উলিপুরে উপজেলার বজরা ইউনিয়নের বজরা পশ্চিম পাড়া কমিউনিটি ক্লিনিক, ঈদগাহ মাঠ ও মসজিদ তিস্তার ভাঙনরোধ থেকে ঠেকাতে পারল না এলাকাবাসীসহ পানি উন্নয়ন বোর্ড। ভাঙন চলছে আরও বেশ কয়েকটি গ্রামে। চলতি বছরই প্রায় পাঁচ শতাধিকের ও বেশি বসতভিটা এরই মধ্যে চলে গেছে নদীগর্ভে। ভাঙন ঝুঁকিতে কমিউনিটি ক্লিনিক, প্রাথমিক বিদ্যালয়, মাদ্রাসা, মসজিদ, মন্দির, ঈদগাহ মাঠ, সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান। গত মঙ্গলবার রাতেই বিলীন হয়ে গেছে কমিউনিটি ক্লিনিকসহ আরও অনেক জায়গা জমি।
সরেজমিন দেখা যায়, উপজেলার বজরা ইউনিয়নের পশ্চিম বজরার ঐতিহ্যবাহী ঈদগাহ মাঠ, জামে মসজিদ ও কমিউনিটি ক্লিনিকসহ তিস্তা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। যেখানে হাজারো অসহায় দারিদ্র পরিবার বিনা পয়সায় চিকিৎসাসেবা পেত। সেই ক্লিনিকটিও আজও রাতেই নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। যা এখন শুধু স্বপ্ন। এমনকি বজরা পশ্চিম পাড়া বেসরকারি মাদ্রাসা সরিয়ে নেয়া হচ্ছে অন্যত্রে। ভাঙনকবলিত জনগণ তাদের বাড়িটা অন্যত্র সরিয়ে নিচ্ছেন। বসতভিটা হারিয়ে তাদের আহাজারিতে আকাশ বাতাস ভারি হয়ে উঠেছে। কোথায় যাবেন কি খাবেন সে চিন্তায় তাদের ঘুম হারাম হয়ে গিয়েছে। তারা কোনো উপায় না পেয়ে খোলা আকাশের নিচে জীবন যাপন করছেন।
বজরা ইউনিয়ন পরিষদের ৪নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য এনামুল হক জানান, গত সাত দিনে এখানে প্রায় ২০০ বাড়িঘর নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গিয়েছে নদীগর্ভে। নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে একটি কমিউনিটি ক্লিনিক, মন্দির, ঈদগাহ মাঠ। ভাঙন শুরু হয়েছে বজরা পশ্চিম পাড়া দাখিল মাদ্রাসায়। মাদ্রাসাটির ভবনের টিন অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। এখানে ভাঙনকবলিত মানুষেরা খুবই অসহায় অবস্থায় রয়েছে। ভাঙনরোধে কোনো ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয় নাই।
বজরা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল কাইয়ুম সরদার বলেন, আমার ইউনিয়ন নদী ভাঙন কবলিত একটি ইউনিয়ন। প্রতি বছর ভাঙনে নিঃস্ব হচ্ছে জনগণ। অনেক বলা কওয়ার পরেও এখানে ভাঙনরোধে তেমন কোনো কাজ করা হয় নাই। অবহেলিত রয়ে গেছে। আমরা চাই এখানে নদী ভাঙনরোধে কার্যকর ব্যবস্থা নেয়া হোক। যাতে আমরা অন্তত শান্তিতে নিজের বাড়িতে ঘুমাইতে পারি।
তিস্তা নদী ভাঙনরোধে কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন অধিদপ্তরের উপ-প্রকৌশলী নজরুল ইসলাম বলেন, তিস্তার খরস্রোতে তিস্তার পাড় হুমকির মুখে পড়েছে। এমনকি কমিউনিটি ক্লিনিক, মাঠ, মসজিদ ও মাদ্রাসা হুমকির মধ্যে ছিলো। কমিউনিটি ক্লিনিক নদী গর্ভে বিলীন হওয়ার ব্যাপারে তিনি বলেন, তিস্তার পাড় ভাঙন কাছাকাছি থাকতে আমাদেরকে জানালে হয়তো একটু চেষ্টা করে দেখা যেত। তার পরেও ভাঙন রোধের কাজ করব বলে তিনি জানান।









