সরকারি গাড়ি বলে কথা। অকেজো হয়ে পড়ে থাকবে তবুও নির্দেশনা না পেলে বিক্রি করা যাবে না। এমন কি মেরামত করে ব্যবহারেরও কোনো উপায় নেই। নির্দেশনার অপেক্ষায় থেকে দীর্ঘদিন ধরে অকেজো হয়ে টাঙ্গাইল জেলা পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয়ের গাড়ী ৩টি মাটির সাথে মিশে যাচ্ছে। না হচ্ছে বিক্রি, না হচ্ছে ব্যবহারযোগ্য। বিনষ্ট হচ্ছে সরকারি সম্পত্তি। টাঙ্গাইল ক-১৬০ জীপ গাড়ী, পিক আপ ভ্যান ঢাকা মেট্রো- ৭৩০২ ও ঢাকা মেট্রো ম- ০২-০৫৩৭ পরিচয়ে তিনটি গাড়ীই পড়ে আছে। এ ক্ষেত্রে গাড়ী তিনটির কি দোষ! যেকোনভাবে গাড়ীগুলো বিক্রি করা হলে সরকারি সম্পত্তি বিনষ্ট থেকে রক্ষা পাবে।
জেলা পরিবার পরিকল্পনা অফিস সূত্রে জানা যায়, অকেজো ঘোষিত টাঙ্গাইল- ক-১৬০ নম্বর জীপ গাড়ীটি নিলামে বিক্রির জন্য ১ লাখ ৩৭ হাজার ৪ শত টাকা মূল্য নির্ধারণ করে ৬ বার নিলামে তোলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। কোনো ক্রেতা না পাওয়ায় বিক্রয় করা সম্ভব হয়নি। এতে এ জীপ গাড়ীটি দীর্ঘদিন টাঙ্গাইল মা ও শিশু হাসপাতালের সামনে পড়ে আছে। এ প্রেক্ষিতে গাড়ীটির বাস্তব অবস্থা বিবেচনা করে পুন:মূল্য নির্ধারনের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ জানানো হয়েছে। এছাড়া আরো দুটি গাড়ী আঞ্চলিক পণ্যাগার পরিবার পরিকল্পনা টাঙ্গাইলে অকেজো অবস্থায় বর্তমানে অনেকটাই মাটির সাথে গেছে। এ দুটি গাড়ীর মধ্যে একটি ঢাকা মেট্রো-ম-০২-০৫৩৭ গাড়ীটি গত ২৩ আগষ্ট ২০২০ সালে পরিদর্শণ পূর্বক মেরামত লাভজনক কিনা তার প্রতিবেদন প্রদানের অনুরোধ করা হলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কোনো মতামত বা প্রতিবেদন অফিসের ফাইলে পাওয়া যায়নি। পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক পণ্যাগার পরিদর্শন করে জরুরী ভিত্তিতে গাড়ি দুটি যেখানে যে অবস্থায় আছে সেই ভিত্তিতে মূল্য নির্ধারণ করার জন্য সহকারি পরিচালক বি আর টি এ টাঙ্গাইলকে অনুরোধ করেন।
টাঙ্গাইল জেলা পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয়ের উপপরিচালক লুৎফুল কিবরিয়া বলেন, গাড়ী তিনটির মধ্যে দুটি গাড়ীর নিলামের কোনো কাগজপত্র অফিসের ফাইলে পাওয়া যায়নি। তবে জীপ গাড়ীটি (টাঙ্গাইল ক-১৬০) বেশ কয়েকবার বিক্রির উদ্দেশ্য নিলামের চেষ্টা করলেও গাড়ীটির বাস্তব অবস্থার প্রেক্ষিতে মূল্য পুন:নির্ধারিত না হওয়ায় বিক্রি করা সম্ভব হচ্ছে না। গাড়ীটি বিক্রি না করায় সরকারি সম্পত্তি বিনষ্ট হচ্ছে।
টাঙ্গাইলের বি আর টি এ সহকারী পরিচালক মো. আলতাফ হাসেন বলেন, পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয়ের আবেদন প্রেক্ষিতে অত্র কার্যালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মোটরযান পরিদর্শককে বাস্তবতার নিরিখে পুনরায় মূল্য নির্ধারণ করে দেবার জন্য নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে। যা অকেজো গাড়ী তিনটি নিলামে বিক্রির সহায়ক হবে।









