- কমদামে আলু বিক্রি করায় চাষির ক্ষতি
মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগরে গোলা ঘরে সংরক্ষণকৃত আলু পঁচে যাওয়ায় হতাশ কৃষক। বাধ্য হয়েইে এসব আলু বিক্রির জন্য পাইকার খুঁজছেন। কমদামেও এসব আলু কিনতে চাইছেন না বেপারীরা। ভালোমানের প্রতিমণ আলু কেনাবেচা হচ্ছে সর্বোচ্চ ৫০০ টাকা দরে। দিন যতই যাচ্ছে গৃহস্তের আলুর পচন বাড়ছে। গত এক সপ্তাহের ব্যবধানে আলুর দাম ১৫০ টাকা বৃদ্ধি হলে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা লোকসানের কিছুটা কাটিয়ে উঠার স্বপ্ন দেখেন। ঈদুল ফিতরের আগে এলাকায় গোলা থেকে প্রতিমণ আলু ৩০০ থেকে সাড়ে ৩০০ টাকায় কিনতে দেখা গেছে। স্থানীয় খুচরা বাজারে এখনও প্রতিকেজি আলু বিক্রি হচ্ছে ২০ থেকে ২৫ টাকা দরে।
স্থানীয় কৃষি অফিস জানায়, উপজেলায় চলতি বছর ২ হাজার ২০০ হেক্টর জমিতে আলু চাষ করা হয়। আলু চাষের ভরা মৌসুমে অসময়ের টানা বৃষ্টির পানিতে কৃষকের রোপণকৃত প্রায় ৬০০ হেক্টর আলুর জমি প্লাবিত হয়। এতে শতশত আলু চাষির স্বপ্ন ভঙ্গ হয়। লোকসানের ধাক্কা কাটিয়ে উঠতে চিন্তিত চাষিরা মধ্য মৌসুমে এসে পুনরায় অতিরিক্ত খরচে নিম্নমানের আলুবীজ জমিতে বপন করেন। নিম্নমানের বীজ, বৈরী আবহাওয়া ও সঠিক সময়ের অভাবে এ অঞ্চলের অধিকাংশ জমিতেই আলুর আশানুরূপ ফলন হয়নি।
স্থানীয় চাষিরা জানান, জমিতে আলু উত্তোলনের প্রথম দিকে প্রায় ৬০০ টাকায় প্রতিমণ আলু কেনাবেচা হলেও ধীরে ধীরে পাইকারি আলুর বাজার কমে ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকায় নেমে আসে। এতে উৎপাদিত আলু কমদামে বিক্রির আগ্রহ হারায় তারা। স্থানীয় হিমাগারগুলোতে অনেকেই আলু সংরক্ষণ করতে হয়। এর আগেই বেপারীরা রাজশাহী, দিনাজপুর ও রংপুর থেকে আলু এনে হিমাগার ভর্তি করে। বাধ্য হয়েই এ অঞ্চলের কৃষকরা খোলা বিভিন্ন জমিতে খোলা আকাশের নিচে ও বসত বাড়িতে আলু সংরক্ষণ করেন। এসব আলু এখন পচে যাচ্ছে। বাড়িতে থেকে কমদামেও আলু নিতে চাইছে না পাইকাররা। আলুর বাজার চাঙ্গা থাকলে হিমাগারের আলুও বিক্রি শুরু হতো। পুরো জেলাতেই আলু চাষিরা হতাশ।
সরেজমিনে জানা যায়, উপজেলার বীরতারা, আটপাড়া, কুকুটিয়া, তন্তর ও ষোলঘর এলাকায় পূর্ব দিকের গ্রামের বসতবাড়ি কিংবা রাস্তার পাশে গোলাঘরে আলু রাখা হয়েছে। এসব আলুর গোলাঘর থেকে আলু পচার দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। পানিরদামে এসব গোলা ঘরের আলু কিনে নিচ্ছেন গরুর খামারিরা। অপরদিকে ভালো আলুর চাহিদা কম থাকায় পাইকারদের পিছনে দৌড়াচ্ছেন ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক। এ সময় বীরতারা এলাকার আবুল হোসেন নামে এক কৃষক জানান, তার আলু উৎপাদন হয়েছে প্রায় ৮০০ মণ। এর মধ্যে গোলায় ৩০০ মণ আলু পচে গেছে। তিনি প্রতিমণ ভালো আলু ৩৮০ থেকে সর্বোচ্চ ৫০০ টাকা করে বিক্রি করেছেন।
কুকুটিয়া এলাকার নিজাম নামে এক বেপারী জানান, গত বুধবার আটপাড়ায় কৃষকের গোলার আলু কিনেছেন তিনি। প্রতিমণ ভালো আলুর দাম নির্ধারণ হয়েছে ৪৮০ টাকা করে। আগামীকাল থেকে আলু মেপে বস্তাবন্দি করা হবে। ষোলঘর এলাকার খৈয়াগাঁও গ্রামে রমজান বেপারী নামে এক পাইকার বলেন, তিনি প্রায় হাজার মণ আলু ক্রয় করেছেন। এগুলো এখন ট্রাকে করে যাত্রাবাড়ি, মিরপুর, কাওরান বাজারসহ অন্যান্য আলুর পাইকারী বাজারে নিচ্ছেন। আলুর বাজার কিছুটা নিম্নগতির কারণে ক্রয়কৃত আলু নিয়ে লোকসানের শঙ্কায় পড়েছেন তিনি।









