থাইল্যান্ডের দক্ষিণাঞ্চলীয় চানা জেলার একটি পরিত্যক্ত রিসোর্ট থেকে ২১ বাংলাদেশি ও একজন মিয়ানমারের নারীসহ মোট ২২ জন অবৈধ অভিবাসীকে আটক করেছে ইমিগ্রেশন পুলিশ। সন্দেহ করা হচ্ছে এই দলটিকে গোপনে মালয়েশিয়ায় পাচারের প্রস্তুতি চলছিল।
বৃহস্পতিবার থাই গণমাধ্যম দ্য ব্যাংকক পোস্ট এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
স্থানীয় পুলিশ জানায়, সমুদ্রতীরবর্তী যে রিসোর্টটি থেকে তাদের উদ্ধার করা হয়েছে, সেটি দীর্ঘদিন ধরেই বন্ধ। তবে গোপন সূত্রে খবর পেয়ে অভিযান চালালে ভেতর থেকে ভিনদেশি ভাষায় কথোপকথন শোনার পর পুলিশ আরও সতর্ক হয়ে তল্লাশি শুরু করে। ত্রিপল দিয়ে ঢাকা একটি সরু পথ ধরে ভেতরে ঢুকে কর্মকর্তারা ২২ জনকে গাদাগাদি করে বসে থাকতে দেখেন। আটক হওয়া ব্যক্তিদের বয়স ২০ থেকে ৪৬ বছরের মধ্যে।
বুধবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে সোংখলার ইমিগ্রেশন পুলিশ ও ট্যুরিস্ট পুলিশ যৌথভাবে অভিযান চালায়। আটকরা অভিযোগ করেন রিসোর্ট মালিক কৃতিদেত তাদের মোবাইল ফোন ছিনিয়ে রেখেছিলেন। তল্লাশির সময় পুলিশ তার শোবার ঘরের খাটের নিচে দুটি বক্সে লুকানো ১৬টি ফোন উদ্ধার করে।
৬৬ বছর বয়সী এই রিসোর্ট মালিক থাই সরকারের প্রশাসনিক ও নিরাপত্তা বিভাগে উচ্চপদে দায়িত্ব পালন শেষে অবসর নেন। তবে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি অবৈধ কার্যক্রমে জড়িত থাকার কথা অস্বীকার করেন।
অভিবাসীরা পুলিশকে জানায়, মালয়েশিয়ায় যাওয়ার জন্য তারা বাংলাদেশে দালালদের কয়েক ধাপে মাথাপিছু প্রায় সাত লাখ টাকা করে দিয়েছেন। বাংলাদেশ থেকে তারা বিমানে কম্বোডিয়া যান এবং সা কায়েও সীমান্ত দিয়ে হেঁটে থাইল্যান্ডে প্রবেশ করেন। এরপর দালালচক্রের সহযোগিতায় কয়েক ধাপে তাদের ওই রিসোর্টে আনা হয়।
কৃতিদেতের বিরুদ্ধে অবৈধ অভিবাসী আশ্রয়দান ও পাচার সহায়তার অভিযোগ আনা হয়েছে। অন্যদিকে আটক বাংলাদেশি ও মিয়ানমারের নাগরিকদের বিরুদ্ধে থাই আইনে অবৈধ প্রবেশ ও অবস্থানের মামলা করা হয়েছে। বর্তমানে তারা খুয়ান মিদ পুলিশ স্টেশনে রয়েছে।









