দেশে ধারাবাহিক ‘মব জাস্টিস’ বা গণপিটুনির ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা। তার অভিযোগ, জননিরাপত্তার চরম অবনতি ঘটেছে এবং দেশ কার্যত “মবের শহরে” পরিণত হয়েছে।
সোমবার (২০ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে নোটিশ উত্থাপনকালে এসব কথা বলেন তিনি।
রুমিন ফারহানা বলেন, রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান থেকে সাধারণ মানুষের জীবন—সব জায়গাতেই নিরাপত্তাহীনতা বাড়ছে। বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে শুরু করে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি—কোথাও এখন নিরাপত্তা নিশ্চিত নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি অভিযোগ করেন, সরকারি দপ্তরে ‘মব’ হামলার পাশাপাশি বরিশাল আদালত প্রাঙ্গণ ও সুপ্রিম কোর্টের ল’ইয়ার্স রুমে সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো বিচার ব্যবস্থার মর্যাদাকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে।
বিভিন্ন ঘটনার উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, “ডেইলি স্টার অফিসে হামলা, চট্টগ্রামের দেড় বছর আগের ঘটনা এবং কুষ্টিয়ায় অভিযোগকারীকে পিটিয়ে মারার মতো নৃশংস ঘটনাগুলো আমাদের সামাজিক অবক্ষয়ের চরম চিত্র তুলে ধরছে।”
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করে রুমিন ফারহানা বলেন, “মাননীয় মন্ত্রী কয়েক দফা আশ্বস্ত করেছিলেন যে, বাংলাদেশে আর মব কালচার থাকবে না এবং বিচারহীনতার সংস্কৃতি বন্ধ হবে। কিন্তু বাস্তবে একটির পর একটি ঘটনা ঘটেই চলেছে।” তিনি আরও বলেন, মানুষ যখন ন্যায়বিচার পায় না, তখনই তারা নৈরাজ্যকর সংস্কৃতির দিকে ধাবিত হয়।
নিজের বক্তব্যে দেশের বিচার ব্যবস্থার দীর্ঘসূত্রতা ও অনিয়মের দিকে ইঙ্গিত করে সংসদ সদস্য বলেন, সমাজে তীব্র হতাশা, ক্ষোভ ও বৈষম্য বিরাজ করছে। বিশেষ করে অপরাধের বিচার না হওয়ার যে সংস্কৃতি, তা এই পরিস্থিতির জন্য দায়ী। তিনি দেড় বছর আগে চট্টগ্রামে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় আজও বিচার না হওয়ার উদাহরণ টেনে বলেন, দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির অভাবই মব কালচারকে উসকে দিচ্ছে।
বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে রুমিন ফারহানা জননিরাপত্তা রক্ষায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে দ্রুত কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান। তিনি সতর্ক করে বলেন, অবিলম্বে এই বিচারহীনতার সংস্কৃতি বন্ধ না হলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে।









