আইনটির সবচেয়ে বিতর্কিত দিক হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে এর বৈষম্যমূলক চরিত্র। প্রস্তাবিত বিধান অনুযায়ী, ‘সন্ত্রাসমূলক’ হামলায় ইসরাইলি নিহত হলে দায়ী ফিলিস্তিনিদের জন্য মৃত্যুদণ্ডের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে, তবে একই ধরনের অপরাধে অভিযুক্ত ইহুদি ইসরাইলিদের ক্ষেত্রে এ শাস্তি প্রযোজ্য হবে না। আন্তর্জাতিক মহলে এটিকে সমতার নীতির পরিপন্থী হিসেবে দেখা হচ্ছে।
আট দেশের মন্ত্রীরা তাদের বিবৃতিতে বলেন, এই আইন একটি “বর্ণবাদী ও দমনমূলক নীতির” অংশ, যা ফিলিস্তিনি জনগণের মৌলিক অধিকারকে অস্বীকার করে এবং দীর্ঘমেয়াদে শান্তি প্রতিষ্ঠার পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে।
একই সঙ্গে ইসরাইলি কারাগারে আটক ফিলিস্তিনি বন্দিদের পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। মানবাধিকার সংস্থাগুলোর তথ্য অনুযায়ী, সেখানে নির্যাতন, অমানবিক আচরণ, খাদ্য সংকট এবং মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত করার অভিযোগ রয়েছে, যা বৃহত্তর মানবাধিকার লঙ্ঘনের ইঙ্গিত দেয়।
এ বিষয়ে শুধু মুসলিম বিশ্ব নয়, ইউরোপীয় দেশ ও ইউরোপীয় ইউনিয়নও উদ্বেগ জানিয়েছে। তাদের মতে, এই আইন কার্যকর হলে অঞ্চলে সহিংসতা ও বিভাজন আরও বাড়তে পারে।
যৌথ বিবৃতিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে, যাতে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা যায় এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বজায় থাকে। একই সঙ্গে ইসরাইলের ওপর এই ধরনের নীতি থেকে সরে আসার জন্য চাপ বাড়ানোর কথাও বলা হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই আইনকে কেন্দ্র করে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে, যা আগে থেকেই নাজুক ফিলিস্তিন-ইসরাইল পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে।









