ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদকে ‘ওয়াদা ভঙ্গের সংসদ’ হিসেবে অভিহিত করেছেন বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম। তিনি অভিযোগ করেছেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর বিল নিয়ে সবার মধ্যে ঐকমত্য থাকা সত্ত্বেও কাউকে না জানিয়ে হঠাৎ সংশোধনী এনে বিলটি পাস করা হয়েছে।
শুক্রবার (১০ এপ্রিল) রাতে সংসদের অধিবেশন শেষে জাতীয় সংসদের মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ অভিযোগ করেন।
নাহিদ ইসলাম বলেছেন, “বিরোধীদলীয় নেতার নেতৃত্বে আজকের অধিবেশন থেকে আমরা ওয়াকআউট করেছি। সম্পূর্ণ সময় থাকার চেষ্টা করেছি, কিন্তু সরকারের আচরণের কারণে শেষ পর্যন্ত থাকতে পারিনি।”
তিনি যোগ করেন, সংবিধান সংস্কার পরিষদ থেকে শুরু করে অন্তর্বর্তী সরকারের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অধ্যাদেশ বিলে পরিণত করার ক্ষেত্রে সরকার একাধিকবার ওয়াদা ভঙ্গ করেছে। বিশেষ কমিটিতে ৯৮টি অধ্যাদেশ নিয়ে সবাইকে সঙ্গে নিয়ে ঐকমত্যে পৌঁছানোর কথা ছিল। এমনকি কার্যউপদেষ্টা কমিটির বৈঠকেও স্পিকারের সভাপতিত্বে একই সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছিল।
কিন্তু বাস্তবে তার ভিন্ন চিত্র দেখা যায়। নাহিদ ইসলামের অভিযোগ, অধিবেশন শুরুর মাত্র আধা ঘণ্টা আগে জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর বিলে সংশোধনী আনা হয়। কাউকে খবর না দিয়ে ‘ছলচাতুরি’ করে বিলটি পাস করানো হয়েছে এবং বিল নিয়ে ভুল ব্যাখ্যাও দেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেছিলেন, অনেক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যাদেশ তামাদি হয়ে যাচ্ছে, অথচ সেগুলো নিয়ে আলোচনার কোনো সুযোগ দেওয়া হয়নি। যদিও রাত ১২টা পর্যন্ত আলোচনা চলার কথা ছিল, তবুও তা কার্যকর হয়নি। ফলে সংসদ আজ একটি ‘ওয়াদা ভঙ্গের সংসদে’ পরিণত হয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানসহ জামায়াত ও বিরোধী জোটের শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।









