যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে শান্তি আলোচনা ভেস্তে যাওয়ার প্রভাবে এশিয়ার শেয়ারবাজারে বড় ধরনের দরপতন দেখা গেছে। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালি ঘিরে উত্তেজনা এবং অবরোধের হুমকি বাজারে অনিশ্চয়তা আরও বাড়িয়ে তুলেছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হরমুজ প্রণালিতে অবরোধ আরোপের ঘোষণা দিয়েছেন, যা স্থানীয় সময় সোমবার সকাল ১০টা থেকে কার্যকর হওয়ার কথা। এ ঘোষণার পরপরই বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন জানিয়েছে, সোমবার সকাল থেকেই এশিয়ার প্রধান শেয়ারবাজারগুলোতে পতনের প্রবণতা দেখা যায়। স্থানীয় সময় সকাল ১১টা ১০ মিনিটে হংকংয়ের হ্যাং সেং সূচক ১.৩ শতাংশ কমেছে। একই সময়ে চীনের সাংহাই কম্পোজিট সূচক ০.২ শতাংশ, জাপানের নিক্কেই ২২৫ সূচক ১ শতাংশ এবং দক্ষিণ কোরিয়ার কসপি সূচক ১.২ শতাংশ দর হারিয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধির কারণে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারেও বড় প্রভাব পড়েছে। হরমুজ প্রণালি দিয়ে বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল পরিবাহিত হওয়ায় সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কায় দাম বেড়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) ক্রুড ফিউচার্স ৮.৬ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১০৪.৮৯ ডলারে পৌঁছেছে। একই সময়ে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ৭.৩ শতাংশ বেড়ে ১০২.১৫ ডলারে দাঁড়িয়েছে।
গত সপ্তাহে ঘোষিত অস্থায়ী যুদ্ধবিরতির পর হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল ও গ্যাস পরিবহন স্বাভাবিক হওয়ার আশা তৈরি হয়েছিল। তবে আলোচনায় কোনো সমাধান না আসায় সেই আশায় ভাটা পড়েছে। যদিও ট্রাম্প দাবি করেছেন, দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি এখনও বহাল রয়েছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, হরমুজ প্রণালি দ্রুত খুলে গেলেও বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক হতে কয়েক মাস সময় লাগতে পারে।
পরিস্থিতির প্রভাবে শুধু জ্বালানি খাত নয়, কৃষিসহ অন্যান্য খাতেও প্রভাব পড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। অর্থনীতিবিদরা সতর্ক করেছেন, এই সংকট দীর্ঘস্থায়ী হলে বৈশ্বিক অর্থনীতিতে বড় ধাক্কা লাগতে পারে।
এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক তাদের সাম্প্রতিক পূর্বাভাসে জানিয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত ও বাণিজ্য অনিশ্চয়তার কারণে এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের প্রবৃদ্ধি ২০২৬ ও ২০২৭ সালে ৫.১ শতাংশে নেমে আসতে পারে। একই সময়ে মুদ্রাস্ফীতি বেড়ে ৩.৬ শতাংশে পৌঁছাতে পারে।
প্রতিষ্ঠানটির প্রধান অর্থনীতিবিদ অ্যালবার্ট পার্ক বলেন, দীর্ঘমেয়াদি মধ্যপ্রাচ্য সংঘাত এ অঞ্চলের জন্য বড় ঝুঁকি হয়ে উঠতে পারে, কারণ এতে জ্বালানি ও খাদ্যের দাম দীর্ঘসময় উচ্চ পর্যায়ে থাকতে পারে।
মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা এখন বৈশ্বিক অর্থনীতিতে সরাসরি প্রভাব ফেলছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে অনিশ্চয়তা বাড়তে থাকায় বিনিয়োগকারীদের আস্থায় বড় ধাক্কা লেগেছে।









