বর্তমান সরকার বাংলাদেশে গণতন্ত্রের বদলে জিয়াতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেছে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী।
শনিবার (১৮ এপ্রিল) রাজধানীর বিজয়নগর পানির ট্যাংক মোড়ে গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, জ্বালানি সংকট নিরসন, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ এবং জনদুর্ভোগ লাঘবের দাবিতে জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্যের গণমিছিল পূর্ব সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে এনসিপি নেতা নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী সরকারের তীব্র সমালোচনা করেন।
নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেছেন, নির্বাচনের মাধ্যমে দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার প্রত্যাশা থাকলেও ১২ ফেব্রুয়ারি যা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, তা গণতন্ত্র নয় বরং “জিয়াতন্ত্র”। তিনি অভিযোগ করেন, সরকার ব্যাংক, সংসদ ও দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে। পাশাপাশি ১১ দলীয় জোটের নেতাদের বাসায় হামলা চালানো হচ্ছে বলেও দাবি করেন তিনি।
তিনি আরও বলেছেন, জনগণের ভোটের মাধ্যমে যে অধিকার প্রতিষ্ঠার আশা ছিল, তা এখন ক্ষুণ্ণ হয়েছে। জনগণকে অধিকার না দিয়ে “বালতি ও সিরিয়ালের ভেতরে” ঠেলে দেওয়া হয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
এনসিপির এই নেতা অভিযোগ করে বলেছেন, দেশে নিরাপত্তাহীনতার কারণে ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। একজন ব্যবসায়ীর বরাতে তিনি জানান, সন্ধ্যা ৬টার পর দোকান বন্ধ করতে হচ্ছে এবং ক্রেতা থাকলেও ব্যবসা চালানো যাচ্ছে না। পেট্রোল পাম্পে গিয়ে জ্বালানি না পেয়ে সাধারণ মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কড়া সমালোচনা করে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেছেন, সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোর সংস্কারের পরিবর্তে “হাওয়া ভবনের” লোকজনকে গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় বসানো হয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, দুদক, বিচার বিভাগ, পুলিশ, ব্যাংক ও সংসদসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে দলীয় লোক বসিয়ে তাদের দায়মুক্তি দেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেছেন, তাদের বলা হয়েছে, তোমরা যা ইচ্ছা তাই করতে পারো এ যেন একটি গ্রিন কার্ড দিয়ে দেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেছেন, যদি এটাই বর্তমান রাজনৈতিক নেতৃত্বের ভবিষ্যৎ হয়, তবে সেই ভবিষ্যতের সঙ্গে দেশের ভবিষ্যৎ মিলবে না।
শেষে তিনি যোগ করে বলেছেন, বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ নির্ভর করবে ৭১-এর শহীদ এবং ২৪-এর গণ-অভ্যুত্থানের শহীদদের আদর্শের ওপর। যদি কেউ সেই পথের প্রতিবন্ধক হয়, তবে তাদের প্রতিরোধ করা হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর আযাদ, নূরুল ইসলাম বুলবুল, এবি পার্টির সহ-সভাপতি ড. ওহাব মিনার, ডেভেলপমেন্ট পার্টির চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন চাঁন, বাংলাদেশ লেবার পার্টির নেতা খন্দকার মিরাজুল ইসলাম, নেজামে ইসলাম পার্টির মহাসচিব মূসা বিন ইজহার এবং খেলাফত মজলিসের নায়েবে আমির আহমদ আলী কাসেমীসহ অন্যান্য নেতারা।









