ইরান, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র–এর মধ্যে চলমান সংঘাত ইতোমধ্যে চতুর্থ সপ্তাহে গড়িয়েছে। যুদ্ধ শুরুর পর থেকে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম প্রায় ৫৪ শতাংশ বেড়েছে। সর্বশেষ ফিউচার মার্কেটে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম প্রতি ব্যারেল ১১২ ডলারে পৌঁছেছে, যা সাম্প্রতিক বছরের মধ্যে উচ্চ পর্যায়ের কাছাকাছি।
বিশ্লেষকদের মতে, ক্রমবর্ধমান তেলের দামের চাপ মোকাবিলায় এই সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। ‘সর্বোচ্চ চাপ’ নীতি থেকে সরে এসে তারা বাজার স্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে। তবে নিষেধাজ্ঞা শিথিলের খবরেও আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম কমেনি।
মধ্যপ্রাচ্যের স্পট মার্কেটেও দামের ঊর্ধ্বগতি অব্যাহত রয়েছে। সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে সরবরাহকৃত মারবান ক্রুডের দাম উঠেছে ১৪৬ ডলারের বেশি, আর আরব লাইট ক্রুডও ১২৭ ডলার ছাড়িয়েছে।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন জানায়, হরমুজ প্রণালি বন্ধের মাধ্যমে ইরান বড় ধরনের অর্থনৈতিক চাপ তৈরি করতে সক্ষম হয়েছে। ফলে তেল ও গ্যাসের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে কার্যকর বিকল্প প্রায় শেষ হয়ে এসেছে যুক্তরাষ্ট্রের হাতে।
পরিস্থিতি সামাল দিতে যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যে তাদের কৌশলগত মজুদ থেকে বিপুল পরিমাণ তেল ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। পাশাপাশি রুশ জ্বালানি তেলের ওপর কিছু নিষেধাজ্ঞা শিথিল এবং অভ্যন্তরীণ উৎপাদন বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হলেও বাজারে তেমন প্রভাব পড়েনি। দেশটিতে গ্যাসোলিনের দাম গ্যালনপ্রতি প্রায় ৪ ডলারে পৌঁছেছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, একদিকে ইরানকে সামরিকভাবে চাপে রাখা, অন্যদিকে অর্থনৈতিকভাবে সুবিধা দেওয়ার এই দ্বৈত অবস্থান রাজনৈতিকভাবে অস্বস্তিকর পরিস্থিতি তৈরি করেছে ওয়াশিংটনের জন্য।
তবে মার্কিন কর্মকর্তাদের দাবি, এই পদক্ষেপের মাধ্যমে ইরানের কৌশল ভেস্তে দেওয়া হচ্ছে। আগে নিষেধাজ্ঞার কারণে ইরানি তেলের প্রধান ক্রেতা ছিল চীন। এখন নিষেধাজ্ঞা শিথিল হওয়ায় ভারত, থাইল্যান্ড ও ভিয়েতনামের মতো দেশগুলোও এ তেল কিনতে পারবে, যা সরবরাহ সংকট কিছুটা কমাবে।
জাতিসংঘে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূতের মতে, এই ব্যবস্থা সম্পূর্ণ সাময়িক এবং মূল লক্ষ্য তেলের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি ঠেকানো।
তবে বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, সমুদ্রে ভাসমান প্রায় ১৪০ মিলিয়ন ব্যারেল ইরানি তেল বিশ্ব চাহিদার মাত্র দেড় দিনের জোগান দিতে পারবে। ফলে এই সরবরাহ দ্রুত শেষ হয়ে গেলে আবারও বড় সংকট দেখা দিতে পারে।
বাজার বিশ্লেষকরা মনে করছেন, পরিস্থিতি এমন থাকলে ভবিষ্যতে ইরানের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরও শিথিল করার চাপ বাড়তে পারে।









