প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ১৮ বছরের ধ্বংসস্তূপ থেকে নতুন বাংলাদেশ গড়ছেন বলে মন্তব্য করেছেন স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। মন্ত্রী বলেন, গণতন্ত্রকে ধ্বংস করে অর্থনীতিকে ভঙ্গুর করে দেওয়া হয়েছিল।
বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) ঢাকার রমনায় ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে মহান স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
তারেক রহমানের প্রশংসা করে মন্ত্রী বলেছেন, জনগণের সমর্থনে নির্বাচনের মাধ্যমে আমরা এমন একজন নেতা পেয়েছি, যার স্লোগান আজ আমাদের নতুন স্বপ্ন দেখাচ্ছে। সোশ্যাল মিডিয়া যারা দেখেন তারা জানেন, দেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় নেতা এখন তারেক রহমান। আমাদের নেতা তারেক রহমান দেশে আসার পরই প্রতিশোধ বা প্রতিহিংসার কথা না বলে দেশ গড়ার পরিকল্পনা নিয়ে এসেছেন।
শহীদ জিয়া যেমন সাড়ে তিন বছরে তলাবিহীন ঝুড়ির দেশকে সম্ভাবনাময় বাংলাদেশে পরিণত করেছিলেন, তার যোগ্য পুত্র তারেক রহমানও আজ সেই পথ দেখাচ্ছেন। নির্বাচনের পরপরই তিনি ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড এবং কৃষকদের ১০ হাজার টাকা কৃষি ঋণ মওকুফের কাজ শুরু করেছেন। এমনকি খাল খনন কর্মসূচিও শুরু হয়ে গেছে।
দলের নেতাকর্মীদের ত্যাগের কথা স্মরণ করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, বিগত ১৮ বছর আমাদের জীবন তছনছ করে দেওয়া হয়েছে।
ফখরুল জানান, ৬০ লক্ষ মানুষের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দেওয়া হয়েছে, ২০ হাজার তরুণ নেতাকর্মীকে হত্যা করা হয়েছে। ইলিয়াস আলীসহ বহু নেতাকর্মীকে গুম করা হয়েছে। তারপরও আমরা দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার আদর্শ থেকে বিচ্যুত হইনি, লড়াই চালিয়ে গেছি।
এসময় স্বাধীনতা যুদ্ধের প্রেক্ষাপট টেনে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ১৯৭১ সালে আমরা পাকিস্তানের তৎকালীন শ্রেষ্ঠ সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে লড়াই করে জয়লাভ করেছি। কিন্তু পরিতাপের বিষয়, স্বাধীনতার ৫৫ বছর পর আজ সেই অপশক্তি আবারও নতুন চেহারায় মাথা চড়া দিয়ে উঠছে।
যারা সেদিন হানাদার বাহিনীকে সহযোগিতা করেছিল, তারা আজও সক্রিয়। আমাদের স্বাধীনতাকে সংহত করতে হলে এই অপশক্তিকে পরাজিত করতেই হবে।
বক্তব্যের এক পর্যায়ে মির্জা ফখরুল কবি রঙ্গলাল বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিখ্যাত পঙক্তি উদ্ধৃত করে বলেন, স্বাধীনতাহীনতায় কে বাঁচিতে চায় হে, কে বাঁচিতে চায়। ব্রিটিশ আমল থেকে শুরু করে পাকিস্তান আমল পর্যন্ত এদেশের মানুষ বারবার স্বাধীনতার জন্য লড়াই করেছে এবং লড়াই করেই টিকে থাকবে।
মির্জা ফখরুল তার বক্তব্যে স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান, প্রথম নারী মুক্তিযোদ্ধা ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া এবং ২৪-এর জুলাই বিপ্লবের যোদ্ধাদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
মন্ত্রী জানান, আমরা অতীতচারিতা ভুলে গিয়ে আমাদের সন্তানদের জন্য সুন্দর ভবিষ্যৎ গড়তে চাই, যাতে বাংলাদেশ বিশ্বের দরবারে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারে।









